বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

নিত্য সূর্যগ্রহণ

এই জীবনে 'সূর্যগ্রহণ'-
সেতো, তোমার বিদায় বিরহেই- শুরু হওয়া ক্ষণ!
সেদিন থেকেই দুঃখের পর দুঃখের বলয়ে বন্দি আমি,
আজ অবধি বিরতি নেই!
বিরহের থাকে না কোন সালতামামি!
মুক্তি মেলেনি ভালোবাসার,
মুক্তি পায়নি সুখের স্বপ্ন!
বিরহবৃত্ত বন্দি হয়েই চলছে জীবনে-
নিত্য সূর্যগ্রাস!
নৈমিত্তিক বিরহবাস।।

দ্বিমুখী নীতি

দিনের বেলায় সাধু তুমি-
বাকি সবাইকে বকো চোর!
অপেক্ষায় থাকো মুখোশ পরে-
কখন আঁধার হবে ঘোর!!

দিনের বেলায় বিচার করো-
কে কি করেছে চুরি!
রাতের বেলায় গলা ধরে-
তার সাথেই ঘোরাঘুরি!!

রাতকে যারা দিন করো-
দিনকে করো রাত!
জেনে রেখো, চলেছো বয়ে-
ভয়ঙ্কর দ্বিমুখী করাত!!

এই করাতের ধর্ম এমন-
যেমন 'বিষধর সাপ'!
এদিন ঠিকই ছোবল মারে-
চেনেনা 'আপন বাপ'!!

দৃষ্টিভঙ্গি

শীত এলে, সবগাছের জীবনচক্রে- শুধুই পাতা যায়না ঝরে!
কিছু গাছে নতুন ফুলও ফোটে- নানা বাহারে, নানা বহরে!
কিভাবে দেখো তোমার সময়?
সেভাবেই ফলাফল নির্মিত হয়!
ঢেউয়ে ঢেউয়ে আসে জয়- ধনাত্মক ভাবনার সাগরে!

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৯

শিশু অধিকারের গান

তোমার কাছে আজকে যাকে
শিশু মনে হয়,
একদিন হয়তো সেই শিশুটি
করবে বিশ্বজয়।।

শিশু অধিকার নিয়ে তাই
সচেতন হও তুমি,
যত্ন আর ভালোবাসায় গড়ো
শিশু বান্ধব ভূমি।
তবেই আসবে সুদিন এখানে
সময় হবে সুখময়।।

যা শিখাবে তা-ই শিখবে
ওরা অনুকরণ প্রিয়,
ভালো মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠার
শিক্ষাটুকু দিও।
শিশু অধিকার নিশ্চিত হলে
মানবতার হবে জয়।।

বহমান অস্তিত্ব আমার


আমি
অথবা
এই আমার
প্রিয় বাংলাদেশ।
অস্তিত্ব আমার যেভাবে:
ভাষা আন্দোলন: স্বপ্ন বীজ স্বাধীনতার।
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন: স্বপ্ন বীজ অঙ্কুরোদগম ঝংকার।
ছাপান্নোর শাসনতন্ত্র আন্দোলন: স্বপ্নের চারা গাছের শিকড় গড়া শক্ত করে।
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন: আলোকমূখী অভিযাত্রায় বিস্তার সবুজ ডাল-পালার সম্মুখ সমরে।
ছিষট্টির ছয় দফা আন্দোলন: বিশ্ব কাঁপিয়ে, হাঁক হাকিয়ে, সবুজ গাছের শক্তি  স্বকীয়তার জানান দেয়া হুংকারে।
উনসত্তরে গণ-অভ্যূত্থান: সতেজ মাখা সবুজ গাছে লাল ফুলের কাঙ্খিত স্বাধীনতার মুকুল আসে, স্বমহিমায় উঁচু নিজ শিড়স্ত্রাণ।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ: সবুজ গাছে লাল ফুল শোভিত হলো, মুক্তিযুদ্ধে  বিজয় এলো- স্বাধীনতা, নতুন মানচিত্র, বাংলাদেশ, আমার অস্তিত্ব বহমান।


----------
কবিতাটির গঠন সম্পর্কিত তথ্য-
বিদ্র: লাইনগুলো মিডল এলাইনমেন্ট করলে প্রায় স্মৃতিসৌধের মতো দেখা যাবে।

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৯

'চিন্তার বিজয়' আসুক!

'চিন্তার বিজয়' আসুক!

- সাকিব জামাল

'মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাজাকারের নাম'
                     অথবা
'রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম'
এসব জাতির বদনাম!
                      এসব দেশের বদনাম!

এ আর কিছু নয়-
       এক নির্বুদ্ধিতার চক্র,
এদের চিন্তা পরাধীন,
         চেতনায় সর্বদা বক্র!
নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনে-
         যদি হয় কেউ ব্যর্থ,
ভাবতে হবে- দুর্জন তাকে,
     চিন্তার জগত তার নষ্ট!

                                      সুচিন্তায়-
                                ‘চিন্তার বিজয়’
                     আসুক সোনার বাংলায়।।

একাত্তরের অনুসিদ্ধান্ত

বলা যায়, আমার বর্তমান এই হাসিমুখও রক্তে কেনা একাত্তরে!
অবাক হবার কিছু নেই, এই বাংলায় 'বিজয়' না এলে-
হয়তো হাসতেই ভুলে যেতো বাঙালি- জনম জনম ধরে!
বিশ্বাস না হলে-
চেয়ে দেখো পৃথিবীর পরাধীন প্রান্তরে প্রান্তরে,
ওরা হাসতে পারে না!
বলা যায়, তোমার বর্তমান ঐ হাসিমুখও রক্তে কেনা একাত্তরে!
অকৃতজ্ঞ হবার দু:সাহস দেখাও কি করে?
সব পরিস্থিতিতে উচিত হবে-
একাত্তরের বীরদের প্রতি,
            এদেশের প্রতি,
  এদেশের মানুষের প্রতি,
ভালোবাসা রাখো অন্তরজুড়ে।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে,
সব অনুজকেই বুঝতে হবে একাত্তরের এই অনুসিদ্ধান্ত।।

যে আগুনে পদ্ম ফোটে

যে আগুনে পদ্ম ফোটে


একবিন্দু আগুন দিয়ে জ্বালানো যায় শতসিন্ধু আগুন।
শতসিন্ধু আগুন দিয়ে নেভানো যায় না একবিন্দু আগুন।
প্রথাগত পৃথিবী ব্যবহারে সবাই অভ্যস্ত আমরা।
অথচ, এটিও সত্য!
'প্রেম' আগুনে নেভানো যায় সব ধরণের 'কাম' আগুন। এর বহমান ধারায়-
বিস্তরে সুবিন্যস্ত প্রেম: 'দমকল বাহিনী' জ্বলন্ত মন আগুনের।
যদি ব্যর্থ হও-
প্রেম আগুনে জ্বলো ফের!

যে আগুনে পদ্ম ফোটে- প্রেমের আগুন।।

Santa Claus' Gift

Santa Claus' Gift
-Sakib Jamal

Santa Claus, Santa Claus
What do you bring?
The Lovely time has began
By Christmas lighting.

My demand to you
Give a flute like thing,
I will tune into it
To love human being.

সান্তাক্লোজের উপহার

সান্তাক্লোজের উপহার


সান্তাক্লোজ, সান্তাক্লোজ
কি এনেছো বলো?
উঠলো হেসে ভালোবেসে
বড়দিনের আলো।

তোমার কাছে একটি চাওয়া
দাও বাঁশি উপহার।
তুলবো সুর সেই বাঁশিতে-
মানুষ ভালোবাসার।।

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

ব্রেক-আপ'ই শেষ কথা নয়!

আজ, আমায় দিয়েছিস ফাঁকি
আর ভাবছিস, তুই ভীষণ লাকি!

বুঝিসনে বোকা, হিসেব নিকেশ-
ব্রেক-আপেই হয়ে যায় শেষ!
ভালোবাসা বিহীন একলা ঘরে,
কাঁদবি বসে যেদিন!
আমায় ছাড়ার ভুলের হিসেব,
বুঝবি তুই সেদিন!

ব্রেক-আপ'ই শেষ কথা নয়!
মুখটি ডেকে দুটি হাতে,
মাঝেমাঝেই নিজের সাথে-
বহু কথাই হয়!

তুমি বিনে শীত দ্বিগুণ!

তুমি বিনে শীতের তীর- বোধকরি দ্বিগুণ!
প্রথমত, দেহ খুন! দ্বিতীয়ত, মনও খুন!
একলা জীবন, বিরহ যাপনকাল-
বাড়ন্ত শীতের অনন্ত সমকাল।
অথচ,তুমি থাকলে- সুফলা প্রেম। বসন্ত বহুগুণ!

বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

সুকান্তের কবিতা: পৃথিবী গড়ার আহ্বান-সাকিব জামাল

সুকান্তের কবিতা: পৃথিবী গড়ার আহ্বান


চির তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য । বাংলা সাহিত্যের প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য । তারুণ্যের শক্তি দিয়ে উন্নত শিরে মানুষের মর্যাদার জন্য মানুষকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান সুকান্তের কবিতায় লক্ষণীয়। মানুষের কল্যাণের জন্য সুকান্ত নিরন্তর নিবেদিত থেকেছেন। তিনি মানবিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। তার অগ্নিদীপ্ত সৃষ্টি প্রণোদনা দিয়ে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে প্রয়াসী ছিলেন। মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কাব্যধারার প্রচলিত প্রেক্ষাপটকে আমূল বদলে দিতে পেরেছিলেন।এই আধুনিক যুগে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য আরো অধিক গবেষণার দাবী রাখে । সুকান্তের কবিতার বিশ্লেষণে আমি বলতে চাই – এই পৃথিবী যতদিন আছে ততদিনই কবি সুকান্তের কবিতার আবেদন থাকবে ।

বৈশ্বিক কবি সুকান্ত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মহৎ সাহিত্যিক হিসেবে প্রায় সব গুণই ধারণ করতেন । কবি সুকান্তের কবিতা বিশ্লেষণে বিষয়টি দিবালোকের মত উন্মোচিত হয় । যাবতীয় শোষণ-বঞ্চনার বিপক্ষে সুকান্তের ছিল দৃঢ় অবস্থান। তিনি তার কবিতার নিপুণ কর্মে দূর করতে চেয়েছেন শ্রেণী বৈষম্য। মানবতার জয়ের জন্য তিনি লড়াকু ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অসুস্থতা অর্থাভাব তাকে কখনো দমিয়ে দেয়নি। মানুষের কল্যাণের জন্য সুকান্ত নিরন্তর নিবেদিত থেকেছেন। তিনি মানবিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন ।
“একটি কথায় ব্যক্ত চেতনা : আকাশে নীল,
দৃষ্টি সেখানে তাইতো পদধ্বনিতে মিল।
সামনে মৃত্যুকবলিত দ্বার,
থাক অরণ্য, থাক না পাহাড়,
ব্যর্থ নোঙর, নদী হব পার, খুঁটি শিথিল।
আমরা এসেছি মিছিলে, গর্জে ওঠে মিছিল।।-কবিতা :  আমরা এসেছি”

তার কবিতায় অনাচার ও বৈষ্যমের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ পাঠকদের সংকচিত করে তোলে। গণমানুষের প্রতি গভীর মমতায় প্রকাশ ঘটেছে তাঁর কবিতায়।  অসহায়-নিপীড়িত সর্বহারা মানুষের সুখ, দুঃখ তার কবিতার প্রধান বিষয়। অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে ধনী মহাজন অত্যাচারী প্রভুদের বিরুদ্ধে নজরুলের মতো সুকান্তও ছিলেন সক্রিয়।
“মহাজন ওরা, আমরা ওদের চিনি!
হে খাতক নির্বোধ,
রক্ত দিয়েই সব ঋণ করো শোধ!
শোনো, পৃথিবীর মানুষেরা শোনো,
শোনো স্বদেশের ভাই,
রক্তের বিনিময় হয় হোক
আমরা ওদের চাই।।   কবিতা : জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী ”

সুকান্ত একটি আধুনিক কাব্য ভাষার সৃষ্টি করেছেন। চল্লিশের অন্য কবিদের থেকে তার স্বতন্ত্রতা তিনি গণমানুষের মুক্তি প্রণোদনা সৃষ্টিতে মগ্ন ছিলেন। তাঁর প্রতিবাদী কণ্ঠ সমকাল ও ইতিহাসকে বন্দি করে রেখেছে। দ্রোহের অগ্নিপুরুষ বুকের আগুনে সময়কে তাঁরা আরো শুদ্ধ করে দিয়ে যান। তাই তিনি লেখেন,
‘অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি!
জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি।

…বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে
আমি যাই তারি দিন-পঞ্জিকা লিখে,’… কবিতা-অনুভব ।

সুকান্তের কবিতা সব ধরনের বাধা-বিপত্তিকে জয় করতে শেখায় । যাপিত জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণাকে মোকাবিলা করার সাহস তাঁর কবিতা থেকে পাওয়া যায়। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে উন্নত শিরে মানুষের মর্যাদার জন্য মানুষকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান সুকান্তের কবিতায় লক্ষণীয়। সুকান্তের কবিতা সাহসী করে, উদ্দীপ্ত করে।
“আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা। কবিতা : আঠারো বছর বয়স”

অভিনবত্বের চেয়েও প্রকাশ ভঙ্গির বলিষ্ঠতা এবং প্রতিমা নির্মাণের অভিনবত্বের জন্য পাঠক সমাজে অকুণ্ঠ প্রশংসা পেয়েছে | উচ্চতর মানবিক চেতনায় উজ্জীবিত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সুন্দর, মানবতার, অধিকার ও সমতার পৃথিবীর স্বপ্নে বিভোর ছিলেন । তার অনেক কবিতায় পৃথিবীকে সাজানোর প্রত্যয় এবং প্রয়াস লক্ষণীয় ।

“এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।- কবিতা :   ছাড়পত্র”

বাংলা সাহিত্যে তার এই বৈশ্বিক ভাবনা সকল সংকীর্ণতার উর্ধ্বে । অনেকটা বিশ্বনেতার মত স্বপ্ন কাতুরে । তার কবিতার মত সুন্দর হোক এই পৃথিবী একজন পাঠক হিসেবে এই প্রত্যাশা নিয়ে বেঁচে আছি ।

স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমান-- সাকিব জামাল

স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমান


'স্বাধীনতার কবি' এই বিশেষণটি জড়িয়ে আছেন যিনি, তিনি আমাদের সবার প্রিয়জন কবি শামসুর রাহমান। স্বাধীনতার কবিতা নিয়ে যেকোন ধরনের আলোচনা বা অনুষ্ঠানে মনেপড়ে যায় যেসব কবির কবিতা- তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য তিনিই। "স্বাধীনতা তুমি" কবিতা প্রায় সব বাঙালির অন্তরে ভীষণভাবে গ্রথিত হয়ে রয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাধীনতাপূর্ব থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি অসংখ্য স্বাধীনতার কবিতা, দেশের কবিতা লিখেছেন। এই বিশেষ মাত্রাটি বহুমাত্রিক এই কবির স্বাধীনতার কবি হিসেবে পরিচয়টি মূখ্য করে তুলেছে। আমাদের মত নতুন প্রজন্মও স্বাধীনতার কবি হিসেবে তাকেই চিনেছি। তার কবিতায় স্বধীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে ফুল বাগানের নানা ফুলের সমারোহে সাজানো কুসুমকুঞ্জরূপে- যার সৌরভ বাংলা সাহিত্যের পাঠকমহল পাঠক আজও অনুভব করে।  সেই বৈচিত্র্যময় ফুলবন একটু ঘুরে  দেখা যাক।

স্বাধীনতার জন্য আকুতি তার কবিতার অন্যতম উপজীব্য বিষয়। আমরা ছোটবেলায় পড়েছি-  রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতাংশ "স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?" সম্ভাবত কেউই চায় না! সেই স্বাধীনতা অর্জন কিন্তু সহজ নয়। কবি শামসুর রাহমানের “তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা” কবিতায় স্বাধীনতার আকুতির ভীষণ পরিনতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন এই কবিতাংশ-
“তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মত চিৎকার করতে করতে
তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,
ছাত্রাবাস বস্তি উজাড় হলো। রিকয়েললেস রাইফেল
আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।
তুমি আসবে ব’লে, ছাই হলো গ্রামের পর গ্রাম।" এমন ভয়ঙ্কর অবস্থার কথা জেনেও কবি তবু স্বাধীনতাকেই চেয়েছে, বলেছেন-
“এই বাংলায়
তোমাকেই আসতে হবে, হে স্বাধীনতা।“

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি যুদ্ধ করেছেন কলম দিয়ে। একাত্তরের অবরুদ্ধ বাংলাদেশ তথা বন্দিশিবির থেকে লিখেছেন কালজয়ী কবিতা। সেই কবিতা ছিল মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা, স্বাধীনতার আকুতি ভরা। যেমন-
"স্বাধীনতা শব্দ এত প্রিয় যে আমার
কখনো জানিনি আগে। উঁচিয়ে বন্দুক,
স্বাধীনতা, বাংলাদেশ- এই মতো শব্দ থেকে ওরা
আমাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখছে সর্বদা।"(কবিতা:বন্দী শিবির থেকে)  

উল্লেখ্য,২১ জুলাই ১৯৭১ তারিখে কবিতাটি ভারতীয় ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ছদ্মনামে। মজলুম আদিব, যার অর্থ নির্যাতিত কবি। বন্দী শিবির থেকে এ কাব্যগ্রন্থটিতে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরণ, স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা প্রাধান্য পেয়েছে। যাহোক, বাঙলি জাতির মনে স্বাধীনতা অর্জনের বাসনা জাগ্রত করেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রেরণা দিয়েয়েছেন- স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমান।

স্বাধীনতার স্বরূপ উন্মোচনে বিচিত্রতায় ভরপুর তার কবিতা। স্বাধীনতাকে বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন কবি। কখনো প্রকৃতি, কখনো প্রম, কখনো দ্রোহ, কখনো সাহিত্যরূপে দেখিয়েছেন স্বাধীনতাকে। “স্বাধীনতা তুমি” কবিতাটি যার উজ্জ্বল প্রমাণ। যেমন-
"স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।"এছাড়া স্বাধীনতার পতাকা মানবিকও বটে। আসাদের শার্ট কবিতায় কবি সে কথাও বলেছেন।
"আমাদের দুর্বলতা, ভীরুতা কলুষ আর লজ্জা
সমস্ত দিয়েছে ঢেকে একখন্ড বস্ত্র মানবিক;
আসাদের শার্ট আজ আমাদের প্রাণের পতাকা।"
এভাবে নানা চিত্রে, নানা উপমায় স্বাধীনতাকে উপস্থাপন করেছেন কবি শামসুর রাহমান।

স্বাধীনতা অর্জনের পরে তা রক্ষা এবং দেশপ্রেম জাগ্রত রেখে চেতনাসমৃদ্ধ করার আহ্বান আছে তার কবিতায়। “যাত্রা থামাবো না” কবিতায় কবি শামসুর রাহমান বলেছেন-
"এগিয়ে যেতেই চাই। স্থবির আমার চতুর্দিকে
গজিয়ে উঠুক নিত্য দীর্ঘকায়  ঘাস।"

কী দারুন স্বপ্নিক চিন্তা! কিন্তু সে  স্বাধীন দেশে যখন নির্যাতন, নিপীড়ন, রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দেয় সে প্রসঙ্গে  তিনি লিখেন- “উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ” কবিতাসহ বেশ কিছু কবিতা তুলে ধরেন দেশ ও সমাজের অসংগতি। এভাবে স্বাধীনতার চেতার নিরিখে দেশ গড়ার আহ্বান তার কবিতায় ভাস্বর হয়ে ওঠে।

পরিশেষে বলা যায়, স্বাধীনতার তীব্র আকাক্ষা ও প্রত্যাশা, সংগ্রামী প্রবণতা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় শামসুর রাহমানের কাব্যজগৎ হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার পঙতিমালায় ঐশ্বর্যমন্ডিত। সুতরাং, স্বাধীনতা এবং দেশত্ববোধ নিয়ে বহুমাত্রিক ভবনার কারনে দীর্ঘকালীন সময়ের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন 'স্বাধীনতার কবি' কবি শামসুর রাহমান।

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৯

পেন্ডুলাম

পেন্ডুলাম


ছয়সমুদ্র আগুন পুষি এক মনে!
পুড়ে যাই, ডুবে যাই, বহুমুখী পথে দিশা হারাই!
অথচ, এও জানি, আকাশমণ্ডলীর এক ফোটা রহমজল-
এক চাতকজীবনে যথেষ্ট প্রেম।
আগুনগ্রাস নিমেষেই থেমে যায়- সে প্রেমে!
তবুও দুলতে থাকে মনে-
নানামূখী দর্শন পেন্ডুলাম...
------------
The Pendulum

Six seas' fire is nurtured in my mind!
(I am) Burning, drowning, losing direction because of multifarious ways!
But, I also know, One drop of 'mercy water' from vast skies-
is good enough in a thirsty human life.
The fire-grip is repealed by the love and instantly!
But,  the mind is always oscillated by
various philosophical Pendulum

রান্নার নতুন রেসিপি দরকার!

রান্নার নতুন রেসিপি দরকার!


হরেক পণ্যের হরেক বাজার,
দামের ঘোড়া: লাগামহীন সবার,
কাঁদছে জনতা, নিত্য বারবার!
মারছে ভ্রুকুটি, বলছে বারবার-
রান্নার নতুন রেসিপি দরকার!

          "দামী পণ্য দিয়ে বাদ
          রাখতে হবে অটুট স্বাদ!"
আছো কেউ? বাবুর্চি বাংলার-
রান্নার নতুন রেসিপি দরকার!

শান্তির পতাকাবাহী আমাদের সেনাবাহিনী

শান্তির পতাকাবাহী আমাদের সেনাবাহিনী


শুধু দেশ নয়, বরং, পুরো বিশ্বজুড়ে,
গানের সুরে তালে, চল চল চল...বলে-
           শান্তির পতাকা নিয়ে হাতে,
এগিয়ে চলে... আমাদের সেনাবাহিনী-
              অবিরত সামনে এগিয়ে চলে।

বীরদর্পে, তারা- একাত্তরে, স্বাধীনতার জন্য-
শত্রুকে করেছে পরাজিত, দেশকে করেছে ধন্য।
লাল সবুজ পতাকা বুকে- উন্নত মম শির,
আমাদের সেনাবাহিনীর, প্রিয় সেনাবাহিনীর।
দেশের তরে আজও- দুনির্বার মনোবলে,
এগিয়ে চলে... আমাদের সেনাবাহিনী-
              অবিরত সামনে এগিয়ে চলে।

শান্তির পতাকাবাহী আমাদের বীরের দল,
নিয়ে আসুক শান্তি কাটিয়ে বাধা সকল।
দেশের শান্তি, বিশ্ব শান্তির প্রতীক হয়েছে তারা-
বিশ্বজুড়ে চলুক বেড়ে বাংলাদেশের সুনাম গাঁথা।
জনতা তাই ভালোবেসে- তাদের গানে সুর তোলে,
এগিয়ে চলে... আমাদের সেনাবাহিনী-
              অবিরত সামনে এগিয়ে চলে।
--------------
উৎসর্গঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।

তোমার, সেবায়েত হবো!

তোমার, সেবায়েত হবো!

মন মন্দিরে তোমার, সেবায়েত হবো আমি।
দেবীদের দেবী তুমি, আমার পূজ্য প্রণয়ী।।

আফ্রোদিতি, ভেনাস কিংবা হালের মিস ইউনিভার্স-
তুচ্ছ! সৌন্দর্য্যের দেবী, তুমি- আমার স্বপ্নবাস।
ফরচুনা বলো, লক্ষ্মী বলো, দরকার নেই!
তোমার প্রেম- জীয়ন কাঠি, সৌভাগ্য সেই-ই!
অ্যাথিনা? ওসব- চিনি না, আমি- বুঝি না,
তুমিই- সূর্যজ্ঞান সম্বনিতা আমার। একমাত্র সাধিকা।

এই জনমে- এই ভ্রমনে, এই ধরায়-
ক্ষণকালের মাঝে অনন্ত প্রেমের পুজায়!
শর্ত তুলে নাও সব, হোক কলোরব-
কেবলই প্রেমের। সেবায়েত করো আমায়।।

পেঁয়াজ, সেরা ব্যাটসম্যান!

পেঁয়াজ, সেরা ব্যাটসম্যান!


টাকার অংকে, দুই শতক প্লাস হাঁকিয়ে-
মসলার মাঠে,পেঁয়াজ, সেরা ব্যাটসম্যান!
রান্নাবান্না ঘরোয়া লীগে, কিনতে তারে-
টীম ম্যানেজার গৃহকর্তার, যায় প্রাণ!

         পেঁয়াজের ঝাঁজে, বহু যুগ যুগ ধরে-
         কেঁদেছে শুধুই, রাধুনীদের দল,
         পড়ে দামের ফাঁদে, আমজনতা কাঁদে-
        এ কেমন- ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার ফল?

দিশেহারা মানুষের কণ্ঠে বাজে-
সকরুণ সুরের বাণী!
"কে আশা দেবে, কে ভরসা দেবে?
কবে থামবে- পেঁয়াজ কাহিনি!"

এখন সময়- ইস্যুময়!

ইস্যু'র পর ইস্যু-
                ছাড়েনা বাঙালির পিছু!
ওঠে থরথর,
                 চায়ের কাপে ঝড়!
কিছুদিন থেকে রেশ
             এরপর, আলোচনা শেষ!!!

তবু, নিত্য ইস্যুর গ্যারাকলে-
বাঙালির সমকাল বয়ে চলে!

কোথাও কেউ নেই, যে বুঝবে-
                           জনগণের মন কিছু?
এক ইস্যু থেকে মুক্তি দেয়-
                       কেবল নতুন অন্য ইস্যু!

এখন সময়- ইস্যুময়!
ইস্যুতে ইস্যু লুকিয়ে রয়!

বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯

প্রেম ইনফিনিটি!

প্রেম ইনফিনিটি!

- সাকিব জামাল
তিনশত আশি কোটি বছর অথবা তার পূর্বেও প্রেম ছিলো!

তবে, জানাশোনা মতে। আদম-হাওয়ায় প্রেম শুরু।  
গুহা সভ্যতায় প্রেম ছিলো। পরের কাহিনী, আজ পর্যন্ত প্রেম আছে।
তোমার আমার প্রেম- এতো সহজে কৃষ্ণগহব্বরে লুকাতে পারে না!
বিরহের ঘটনা দিগন্ত অতিক্রম করতে- অবশ্য হাবুডুবু খেতে পারে,
তবে, বারবার বারবার কার্বনের মত রূপ বদলে নতুন জৈবযৌগে স্বপ্ন সৃষ্টি হবে।
আমি নিশ্চিত, তুমি-আমি "প্রাক্তন" হবো না, কখনোই না!
তোমার শুরুতেই আমার শুরু- প্রেম। প্রেম- তোমাকেই পাওয়ার পথ মানি।

খ্রিস্টপূর্ব অথবা পর, "সময় ইনফিনিটি"। প্রেম ইনফিনিটি"।
-----------------
Love Infinity!

There was Love even three hundred and eighty million years ago or before that!

However, According to our knowledge. The love is began by Adam and Eve.
In the cave civilization, love was! The next story, to now, love exists.
My love for you - can't  so easily be to turn into a Black hole!
Of course, the temporary separation may be perplexed by event horizon.
However, Like changing carbon's form, over and over, dreams will resurrect Like new version of Organic compounds.
I'm sure, We won't be "ex", and never!
Love: Your beginning is my beginning. Love: I accept the divine way to get you.

Before or After Christ's era, "Time is Infinity. Love is Infinity!"

সালাম সুন্দরবন! ব্যাডার ব্যাডা!

সালাম সুন্দরবন! ব্যাডার ব্যাডা!
- সাকিব জামাল
গাঙের দ্যাশে, খালের দ্যাশে, সাগরের কুলে,
ভালো পাইয়া, খোদায় মোগো পাডাইছে-
ঝড়, বাইন্না হেয়া নতুন নয়, সংগ্রামের লগে থাহি বাইচ্চা,
তয় ঝড় আইলে, বাইন্না আইলে, মনডা থরথর কইরা কাঁইপ্যা ওডে-
মোডে একখান ঘর হেয়াও যদি যায় পইড়া, আমরা গাছ, নাইরকোল, গুয়াগাছগুলা যদি ভাইঙ্গা যায়!
মাছ ধরনের টলার লইয়া যদি ফিরগা আইতে না পারি, গরু দুইডাও যদি ভাইসা যায়!
খ্যাতের ধান পান যদি নষ্ট হইয়া যায়!
বউ,মাইয়া, পোলা, মা-বাপ লইয়া ক্যামনে বাঁচমু?
মাথা গ্যালে- হেই চেন্তায় চেন্তায়!!!
ঝড়, বইন্নায়-  টাউনের মানুগো সুখ: হেরা খিচুরি খাইবে! ঝাল মুড়ি খাইবে!
খ্যাতা মুড়ি দিয়া ঘুমাইবে! 
মোগো দেহোনের আর আছে কেডা?
সবাই আছে নিজের লইয়া- তয়, দরদী দুইজন আছে মোগো-
এক উপরে খোদা আর নিচে সুন্দরবন:  ব্যাডার ব্যাডা!
সিডর, আইলা কতোগুলা ঝড়ের লগে মনু, তুমি যুদ্ধ করলা মোগো ভালো পাইয়া,
সালাম তোমারে! সালাম সুন্দরবন! সালাম ব্যাডার ব্যাডা!
ও মোর খোদা,  তোমার কাছে ফরিয়াদ করি-
"সুন্দরবন: ব্যাডার ব্যাডা! ওরে বাচাইয়া রাইখো।
টাউনের মানুগুলার মনে একটু দয়া মায়া দিও-
হেরা য্যানো মোগো মতন সুন্দরবনরে ভালো পায়!"
----------
কবিতাটি বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় লেখা।

সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৯

সুইট নভেম্বর

সাত সকালে কুয়াশার পলক:
তোমার মধুর অভিমান!
মিষ্টি মিষ্টি রোদের সলক:
তোমার  হাসি-গান!
                       হালকা হালকা শীতের ধকল:
                       আমার বিরহকাতর প্রাণ!
                       একটু একটু উষ্ণতার মহল:
                       আমার মিলন ঐক্যতান!
সুইট নভেম্বর: কিন্তু, টক-ঝাল-মিষ্টি কাল!
প্রকৃতির রূপনগরে- চলে প্রেমের দোলাচাল।

সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯

পৃথিবী অথবা প্রিয়তমার জন্য


একদিন, পৃথিবী অথবা প্রিয়তমার জন্য-
একটি স্বতন্ত্র পাণ্ডুলিপির খোঁজে বেড়িয়েছিলাম,
কতকটা পথ হেটে, ক্লান্ত দেহে যখন-
বৃক্ষতলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে বসেছিলাম দু'পা ছড়িয়ে,
তখন সূর্য ময়ূখ জাগিয়ে দিলো- বিষণ্ণতায় মগ্ন হলো মন!
হঠাৎ পাখির গান, গাছের ডালে-
উপরে তাকিয়ে দেখি- সাদা কবুতরযুগল। ভালোবাসায় লিপ্ত।
ভাবি, ওদের পৃথিবী কী আনন্দময়!
অজান্তেই তখন, মনের ভিতর সূর্যজ্ঞান সম্বনিতা বলে উঠলো-
"তোমার পৃথিবী অথবা প্রিয়তমার জন্য প্রকৃষ্ট পাণ্ডুলিপি: ভালোবাসার জাগগান।"
দেখো, তোমার পৃথিবীও অনুরূপ আনন্দময়!
--------------
ইংরেজি অনুবাদ
--------------
For the world or For the beloved ones


One day, I am, For the world or for the beloved ones-
Looking for a unique manuscript,
Walking on the ways, when the body feel tired-
Under a tree, I took rest and relaxed two leg,
Then the sun rays woke me up- the mind was engulfed in sadness!
Suddenly I heard the coo of birds, on a branch of the tree-
On the tree – I saw, a white pigeon couple is indulged fully in love.
I pondered about, what a joyful world they have!
Unconsciously, then, in my mind, the provoking mentor uttered a prophetic saying:
"The Manuscript for the world or for the beloved ones: The awaking song of Love."
Then, Feel, like the pigeon couple, your world is also joyful!

রাত যায় সূর্যের কাছে!

সামনে আঁধার? ভয় হয়?  
কিচ্ছু না! জীবনে সবার- এমনই মনে হয়!
আঁধার যতো বাড়ে বাড়ুক, ঢেউ যতোই হোক ত্রাসী ভাবের,
উত্থান-পতন; উভয়কে তুমি চুমু খেতে পারো বীরদর্পে-
আশা রাখো, এগিয়ে চলো নাবিক- সামনে উপকুল, উপদ্রবহীন।
যেমন ইচ্ছে- তুমি সাজাতে পারবে।
ধৈর্য্যসমেত শুধু মনে রেখো,
"রাত যায়- সূর্যের কাছে। ভোর হবেই!"

পূর্বরাগ

দেখো, সকালটি কি সুন্দর!
অরুনোদয়ের রঙিন রেখা এখনো মুছে যায় নি,
তবে বুঝি, থামলো থামলো প্রায় পাখ-পাখালির কিচিরমিচির গান!
চলো না- নদীর পাড়ে বেড়িয়ে আসি। মৃদুমন্দ হেমন্তে মলয় পবন বহমান,
দোলরাত্রিযাপন শেষে-
ঘুম ঘুম চোখ যুগলে,
নদীতে নেমে, জল ছিটানোর খেলা করি!
তারপর, শুদ্ধ নয়নে ফিরবো ভালোবাসার আসরে, অনুরাগে-
কেটে যাবে সময় আনন্দলোকে অনন্তকাল!

আনন্দে বাঁচো

আনন্দে বাঁচো।
আনন্দে বাঁচো মন সর্বক্ষণ।
এ জীবন আনন্দময়, এ পৃথিবী আনন্দময়-
যদি তুমি সাজাতে পারো!
খুব বেশি কিছু করতে হবে না এজন্য-
শুধুমাত্র লোভশত্রুকে করো দমন!
লোভ: সে কেবলই তোমাকে দুঃখে ডুবিয়ে রাখতে চায়-
এসব উপেক্ষা করতে শেখো! নিয়ন্ত্রক হও অনুভুতির।
অনুভুতিতে সুখ বারবার তৈরি করো!
আনন্দে বাঁচো।
--------------
ইংরেজি অনুবাদ
---------------
Live in Pleasure.

Live in pleasure.
Live in joy forever.
This life is blissful, this world is heavenly-
If you can decorate those nicely!
You don't have to do too much -
Only suppress the greediness that is your enemy!
Greediness: It wants to submerge you in sorrows only!
Learn to ignore these! Be the feelings controller!
Create happiness in your feelings over and over!
Live in pleasure.

একটি তাবিজের সংকেতলিপি

একটি মেয়েকে আমার প্রেমে ফেলবো বলে-
বাহুতে পড়েছিলাম একটি তাবিজ!
দিন যায়, রাত যায়,
কাজ হলো না!
একদিন তাবিজে আস্থা হারিয়ে-
ভেঙে ফেলি,
বহু চেষ্টা করে উদ্ধার করি এর সংকেতলিপির মানে।
আমি অবাক-
তাবিজে লেখা ছিলো জানা একটি কথা-
"না কাঁদলে নিজের মাও দুধ দেয় না!
অথচ, তুমি ভাবো, তোমার অধিকার বিনা পরিশ্রমে পেয়ে যাবে!"

বুঝতে বাকি থাকলো না-
তারপর থেকে, শ্লোগানকে ভালোবাসতে শিখেছি।
নিজের অধিকারের শ্লোগান।

---------------
ইংরেজি অনুবাদ
---------------
The secret codes of an amulet

To make a girl fall in love with me-
I had taken an amulet in my arm!
Day goes by, night goes by,
No work is done!
One day I lost confidence in the amulet.
Break it down
With much more effort, I try to reveal the meaning of the secret codes.
I am surprised-
The amulet was written by a known proverb-
"No mother breastfeeds her child even if her baby does not cry!
But, you think, your rights will be paid for free!"

Nothing here to doesn't understand-
From then, I learned to love the slogan.
The slogan of my own right.

মনস্তাত্ত্বিক পানিচক্র

প্রকৃতি নিদর্শন।
দূষিত পানি- সূর্যতাপে বাষ্প হয়ে মেঘ হয়, মেঘ থেকে ঝরে পড়ে বৃষ্টির জল।
দেখো, কী দারুন বিশুদ্ধ সে পানি!
মন আমার, শোনো, মনস্তাত্ত্বিক পানিচক্রে প্রবেশ করো!
দূষিত চিন্তার জগতে- সূর্যের মতো বিবেক জ্বালো,
তারপর, অনুতাপে, চোখের জলে- পরিশুদ্ধ হও।
দেখো, কী দারুন বিশুদ্ধ সে তুমি!
---------------
ইংরেজি অনুবাদ
---------------
The psychic water cycle

Nature, The example.
Polluted water-evaporated by sun to form clouds,
Rain falls from the clouds.
Look into, what a pure water that is!
My mind, Listen to me, Enter the psychic water cycle!
In the world of malicious thoughts-Like the sun shines lit up your conscience,
Then, In repentance, in tears- Be cleansed.
Look into, What a pure person you are!

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৯

Sadness is my long-time lover

Sadness is my long-time lover
-Sakib Jamal

Happiness makes the breakup over and over,
Sadness is my long-time lover!
When we learned to understand-
Like the red fairy, the blue fairy, with disguising-
Happiness – comes and goes!
But Sadness is only there -
Always on the way - as like a shadow, life entire!
Sadness is my long-time lover.

জেগে ওঠো সব মা

মা....
জেগে ওঠো সব মা।
তোমার ছেলে, তোমার মেয়ে-
বিপথে আজ যায় যে চলে!
তুমি কি দেখো না,
তুমি কি বোঝ না?
মা....
জেগে ওঠো সব মা।।

মারামারি, হানাহানি-
চলছে ভীষণ আজ,
মানবতা হারিয়ে সবাই-
নষ্ট করছে সমাজ।।
খুন, ধর্ষণ, রাহাজানি
আজ নিত্য ঘটনা!
জেগে ওঠো সব মা।
মা....
জেগে ওঠো সব মা।।

তোমার ছেলে, তোমার মেয়ে,
তুমি যদি করো ঠিক,
সব পরিবার থাকবে সুখে-
সমাজ চলবে সঠিক।।
সবার জীবনের শিক্ষাগুরু-
তুমিই সে প্রথমা।
জেগে ওঠো সব মা।
মা....
জেগে ওঠো সব মা।।

সাধিকা সই

ও সাধিকা সই, তুমি আছো কই?
তোমার আঁচলে লুকিয়ে পড়বো বই-
প্রেমের!
তারপর,
আকাশ, মহাকাশ, মহাশূন্যে ভ্রমণ!
উর্ধ্বগমন-অবনমন, সংকোচন-প্রসারণ,
শেষে- স্থিতিশীল গ্রহে বসবাস।
ছায়াপথে ছায়াপথে, গ্রহে গ্রহে-
প্রেমের নামতা পড়ে পড়ে সন্ধান করবো সৃষ্টির রহস্য।
ভালোবাসা অনিঃশেষ। ভালোবাসা মহাজাগতিক।
চলো, একটু একটু জলে নেমে-
বায়ুতে ডুবে রই!

সময়ের কবিতা

সময়ের কবিতা


হে বিশ্ব মানবতা,
রইল একটি খোলা চিঠি- সময়ের কবিতা!
বেঁচে থাকার জন্য আমাদের আছে কেবল একটাই গ্রহ,
শান্তিপূর্ণ রাখো এটি, রাখো ছন্দময় ছড়ার মতো।
অন্যের প্রতি শত্রুতার ভাব- মুছে ফেল তোমার,
চিন্তা করো, কীভাবে মানবতা- হবে নিশ্চিত সবার।
সবার জন্য- সাম্য এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করো তুমি,
প্রমান করো নিজেকে সর্বশক্তিমানের সেরা জীব। সময় এখনই!

---------------
ইংরেজি অনুবাদ
---------------
Poetry of Time

To all human being of the world,
It is  open letter- Poetry of Time!
We have only one planet to live,
Keep it peaceful with rhythmic rhyme.
Erase your antagonistic feelings towards others,
Above all, think, how to confirm humanity.
Make sure equality and justice to all,
Its now, Proof yourself the best creature of Almighty.

মন খারাপের রাজ্যে একলা রাজকুমার

মন খারাপের রাজ্যে, আমি- এক একলা রাজকুমার!
দমকা হওয়ায়, আকাশ মাঝে, উড়ে বেড়াই-
যেমন মেঘের মন ভার!
রাজা, রানী, রাজকুমারী, ভাগ নিতে কেউ নয় রাজি-
বিরহ, ব্যথা, দুঃখ- কেবল যার থাকে তার!
মন খারাপের রাজ্যে, আমি- এক একলা রাজকুমার!

হও শান্তির সৈনিক

আঁধার রাতে চাঁদ আলো ছড়াক...
আঁধার দিনে হাসুক- সূর্য,
সব কন্ঠে বাজুক শান্তির গান...
কোন কন্ঠে নয়- রণতূর্য!
আদিমতাপ্রসূত যুদ্ধের দিন শেষ।
এখনতো মানুষ- মানবিক যুগে করবে প্রবেশ।
               মসজিদের মিনারে ধ্বনিত- "হাইয়া আলাল ফালাহ"
               প্রতিধ্বনিত হোক মূখে-মনে বারবার।
               মন্দিরের ঘন্টা ধ্বনির সাথের বানী- "ওম শান্তি, শান্তি"
               প্রতিধ্বনিত হোক মূখে-মনে বারবার।
               গীর্জার প্রার্থনা বানী- "গড ব্লেস আস অল"
               প্রতিধ্বনিত হোক মূখে-মনে বারবার।
               প্যাগোডার প্রার্থনা বানী- "সব্বে সত্তা সুখিতা ভবন্তু"
               প্রতিধ্বনিত হোক মূখে-মনে বারবার।
সব ধর্মমতেই, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অযৌক্তিক।
হও শান্তির সৈনিক, হও মানবিক।।

লক্ষ্মী জোছনায় নিমন্ত্রণ

আজ শরতের শেষ পূর্ণিমা তিথি, ভীষণ নিসঃসঙ্গতা মনের বাটে,
একলা আমি বসে আছি নির্জন প্রহরে- সান বাঁধানো গায়ের পুকুর ঘাটে,
লক্ষ্মী দেবী নেমে আসা জোছনায় রাত ভরা,
পুকুর জলে চলে রূপের নৃত্য খেলা- তবু কল্পনার দেবী, দেয়না সত্য হয়ে ধরা!
প্রদোষ থেকে নিশীথ অবধি, এতো ডাকলাম, এতো দিলাম পুজো-
ধনের লোভে নয়, খুঁজে বেড়াই শুধু একটি প্রশস্ত প্রেমের মন, আজো!
কোজাগরীর প্রতিক্ষণে ক্ষণে ভজি তোমায়, তবু দেখিনা পায়ের ছাপের ছবি- আসবার লক্ষণ,
দখিনে পবনে বয়না কেন- প্রেমের উত্তাল সমীরণ?
অথচ, মধু জোছনায়- পাশা খেলার সময় বয়ে যায়, সয়না দেরী এই অন্তর যে আর,
কোথায় তুমি দেবী আমার?
দুঃখজনক, এমন রাতে এমন একলা ভ্রমন!
কল্পনা ভেঙে, ভালোবেসে এ জীবনের লক্ষ্মীরূপে- এসো তুমি, রইলো সবিশেষ নিমন্ত্রণ!

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯

কামগ্নি এবং আমি

স্পষ্টত, এই দেহ কামুক!
ধন চায়, জন চায়, মান চায়- একান্ত নিজের করে সব চায়,
চাওয়ার শেষ জানে না, সর্বভুক।
অসীম চাওয়াই- কামগ্নি: ভালোবাসাকে গিলে খায়।
তোমার প্রতি আমার প্রেম ধ্বংস করে- বিদায় চায়!
অথচ আমি যে তোমাকে ভালোবাসি!
গান্ধী মতে, এই দেহকে তাই একটু কষ্ট দিতে চাই।
মনকে, দেহের নিয়ন্ত্রক করার অভিপ্রায়ে-
এই দেহকে দূরে সরাচ্ছি, তোমার মনে স্থান পাবার জন্যে!

দুঃখই আমার দীর্ঘকালীন প্রেমিকা

সুখের সাথে শুধু ব্রেকআপ হয় বারবার-
দুঃখই আমার দীর্ঘকালীন প্রেমিকা!
যখন থেকে বুঝতে শিখেছি-
লাল পরী, নীল পরী সেজে সেজে-
সুখের এই আসা- এই যাওয়া!
দুঃখই শুধু আছে মিশে-
চলার পথে সবসময়- ছায়ার মতো অবিরত। মহাকায়া!
দুঃখই আমার দীর্ঘকালীন প্রেমিকা।