বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৩

পরকিয়া

অনেকে পরকিয়াকে প্রেমের মর্যাদা দিতে ব্যাকুল
অন্যের বাগানের ফুলের প্রতি এত আকুলতার মানে বুঝিনা আমি
যে মালী তার স্বপ্ন আর সাধনায় গড়ল কুসুম কানন
সেখানে অন্য কারো রাধা-কৃষ্ণ সাজার মানে দেখিনা 
লীলা-নৃত্য যে যা বলুক, আমি বলি এ যেন অকৃতজ্ঞ ভৃত্যের কাজ
প্রেম সুন্দর তা কলুষতায় পূর্ণ করেনা সমাজ ।
প্রেম মানবিক, অসামাজিকতার স্থান নাই সেখানে ।
পরকিয়া কখনো প্রেম হতে পারেনা
এটা শয়তানের কাজ । প্রেম ঐশ্বরিক ।
আমি প্রেমকে শ্রদ্ধা করি
পরকিয়া করি ঘৃণা
স্বপ্ন দেখি সুন্দর পৃথিবীর সব সময়
যা ভালোবাসায় পূর্ণ, শুধুই প্রেমময় ।

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৩

‍নি:সঙ্গতার অবসান

চাদনী রাত
পরিপূর্ণ জোছনা
আমি আর তুমি
বসে আছি
নির্জন নদীর তীরে ।
অদূরে কাশফুল
যেন সাদা বসনে 
প্রেমের দেবী
দেখতে দেখতে
মাথা রাখ
আমার কোলে তুমি ।
আমি হাত বুলিয়ে দেই
তোমার এলোকেশে
তুমি বাঁকা নয়নে
আমার দিকে তাকিয়ে
কুটি কুটি হেসে ।
আমি গল্প বলি
প্রেমের গল্প
ভালোবাসার গল্প
শুনে রোমাঞ্চিত তুমি ।
নদীর কলকল তান
পাখিদের মিলনের গান
তোমার আমার অন্তরঙ্গতা
নি:সঙ্গতার হলো অবসান ।

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৩

দয়া করে যেও সখী ফুলের বাগানে

ভোমর কবে আমার কথা তোমার কানে কানে
দয়া করে যেও সখী ফুলের বাগানে ।।

লাল ফিতায় চুল বাঁধিও গোলাপ যেমন সাঁজে

আলতা দিও দু পায়েতে, টিপ দিও কপাল মাঝে 
ভালোবাসার কথা হবে তবে তোমার সনে ।

ভোমর কবে আমার কথা তোমার কানে কানে

দয়া করে যেও সখী ফুলের বাগানে ।। 

স্বপন দেখি যখন রাতে কথা বলি নিজের সাথে

আমার মনের কথা মনে থাকে লাজে শরমে
একা আমি জ্বলে মরি তোমার বিহনে ।

ভোমর কবে আমার কথা তোমার কানে কানে

দয়া করে যেও সখী ফুলের বাগানে ।।

জানি আমি ভোমর করবে ভুল ভেবে তোমায় ফুল

গুন গুনিয়ে কবে সে মনের কথা মোর হয়ে ব্যাকুল
শুনে তুমি বাসবে ভালো আমায় মনে প্রাণে ।

ভোমর কবে আমার কথা তোমার কানে কানে

দয়া করে যেও সখী ফুলের বাগানে ।।

মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০১৩

তোমার জন্যে

কোন এক ক্লান্ত কবির দ্রুত নিশ্বাসে
হে সুন্দরীতমা, তোমার চুলগুলো
যদি হয় একটু এলোমেলো
তবে কেমন হবে ?
কিংবা বোকা সে যুবক যদি
একটু হেসে
খুলে নেয় তোমার এক পায়ের নুপুর
তা কি তুমি সবে ?
অথবা সে যদি করে ভুল
খুলে নেয় তোমার কানের দুল
দিয়ে রক্তকরবী খোঁপায় গুজে
ডাকে নন্দিনী বলে
রঞ্জন বলে
সাড়া দিবে কি তবে ?
তুমি হেসে দিলে
মোরে পাগল বলে
ঠিকই ধরেছো সুন্দরীতমা
সবই কেবল তোমার জন্যে ।

দু দন্ড শান্তি দিবে

পৃথিবীর রুঢ়তা, বাস্তবতা যখন আকঁড়ে ধরে
কবিতা লেখার খাতার কথা আর মনে পড়েনা ।
দ্রুত দ্রুত নিশ্বাস নিয়ে বলি
আমাকে দু দন্ড শান্তি দিবে কেউ
আমার আহ্বান শোনে না কেউ, দেয় না কেউ সাড়া
সবাই ব্যস্ত অর্থণীতি, রাজনীতি নিয়ে
কত শত কথা, কত চেষ্টা, কামান দিয়ে শান্তি আনবার
কিন্তু আমার মনে হয় এ যেন সময় নেই কারও-মানুষ নিয়ে ভাববার ।

সোমবার, ৮ জুলাই, ২০১৩

বন্ধু তুই ভুলিস না আমায়

দিলের মধ্যে তোর নাম লিখে ঘুরি সর্বদায়
বন্ধু তুই ভুলিস না আমায় ।।

সূর্য ছাড়া চন্দ্র মিথ্যা
সাগর ছাড়া নদী
তুই ছাড়া আমি মিথ্যারে 
বৃথা জিন্দেগী
তুই ছাড়া বেঁচে থাকা সে যে মহাদায়
বন্ধু তুই ভুলিস না আমায় ।। 

‍দিলের মধ্যে তোর নাম লিখে ঘুরি সর্বদায়
বন্ধু তুই ভুলিস না আমায় ।।

ওরে আকাশ ছাড়া জমিন একা
ভ্রমর ছাড়া ফুল
তুই ছাড়া আমি একা রে
বৃথা দুই কুল 
তুই ছাড়া বেঁচে থাকার নাইরে উপায়
বন্ধু তুই ভুলিস না আমায় ।। 

‍দিলের মধ্যে তোর নাম লিখে ঘুরি সর্বদায়
বন্ধু তুই ভুলিস না আমায় ।।

আজি বরষায়

আজি বরষায়...
পাগল হলো মন
হৃদয় আমার ওগো
তোমায় খোঁজে সারাক্ষণ
মন তোমায় কাছে চায় ।।

আজি বরষায়...
মন তোমায় কাছে চায় ।।

আজি বরষায়...
নাচে ময়ুরী আজ
গুলে বাহারী সাঁজ
হৃদয়ে বিরহ বেদন
তোমাকে পাবার আশায় ।।

আজি বরষায়...
মন তোমায় কাছে চায় ।।

আজি বরষায়...
আকাশে মেঘের বাজনা
বাতাসে গানের সুর
এ মধুর লগনে
মন শুধু তোমায় চায় ।।

আজি বরষায়...
মন তোমায় কাছে চায় ।।

আজি বরষায়...
ফুটেছে কদম ফুল
গন্ধে মাতোয়ারা বকুল
দু চোখ স্বপ্নে আকুল
হারিয়ে যেতে ভালোবাসায় ।।

আজি বরষায়...
মনতোমায় কাছে চায় ।।

আজি বরষায়...
নদীতে ভরা যৌবন
মৌবনে ভোমরের গুঞ্জণ
হিঁয়ার মাঝে ভিরু কাঁপন
ভালোবেসে তাই ডাকি তোমায় ।।

আজি বরষায়...
মন তোমায় কাছে চায় ।।

আজি বরষায়...
পাগল হলো মন
হৃদয় আমার ওগো
তোমায় খোঁজে সারাক্ষণ
মন তোমায় কাছে চায় ।।

আজি বরষায়...
মন তোমায় কাছে চায় ।।

তাক দুম তাক দুম

বাজা ভাই বাজারে ঢোল
বাংলা গান, বাংলা বোল্
তাক দুম তাক দুম
তাক দুম তাক দুম ।।

বৈশাখের আজ প্রথম দিনে
মিলে‍মিশে নেচে গেয়ে
গলা ছেড়ে গা সবাই
বাংলা গান, বাংলা বোল্ ।।

বাজা ভাই বাজারে ঢোল
বাংলা গান, বাংলা বোল্
তাক দুম তাক দুম
তাক দুম তাক দুম ।।

আজি হিঁয়ায় নাচন ওঠেরে
রক্তে কাঁপন জাগেরে
বাংলাদেশের সব বাঙালী
বাংলায় বাংলা রব তোল্ ।।

বাজা ভাই বাজারে ঢোল
বাংলা গান, বাংলা বোল্
তাক দুম তাক দুম
তাক দুম তাক দুম ।।

আজি কাল‍বৈশাখী ঝরের মত
জঞ্জাল, পাপ, কালিমা যত
উড়িয়ে দিয়ে, জড়িয়ে ধর
বাংলা মায়ের কোল্ ।।

বাজা ভাই বাজারে ঢোল
বাংলা গান, বাংলা বোল্
তাক দুম তাক দুম
তাক দুম তাক দুম ।।

প্রত্যাশা

অফুরন্ত প্রেম চাই
অবিরাম তোমার সঙ্গ চাই
মায়াবী রাতে, শরৎ জোসনায়
রূপকথার গল্প হোক
হারিয়ে দুজনে দুজনায় ।
নতুন নতুন স্বপ্ন চাই
তোমার প্রিয় স্পর্শ চাই
চন্দ্রবতী তোমার আলোকছটায়
ভালোবাসার জয়গান হোক
আমার জীবনের সাধনায় ।
মধুময় ক্লান্তিহীন মিলন চাই
আমরন তোমায় কাছে চাই
হৃদপিন্ডের প্রতি কম্পনে
তোমার নাম স্পন্দন হোক
তুমি রক্ত স্রোতধারা মোর শিরায়-উপশিরায় । 
সর্বপরি তোমাকে চাই
তোমার ভালোবাসা চাই
দুজনে একাকার হবার
দৃপ্ত প্রতিশ্রুতি হোক
চিরসাথী হবার প্রত্যাশায় ।

রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৩

‍প্রেমাঞ্জলী


মনমন্দিরে তোমার
স্থান হোক মোর 
ভালোবেসে ভালোবেসে 
এনেছি ‍প্রেমাঞ্জলী
সপিঁতে তোমায় আমি
নিত্যান্ত একান্তে ।
নাও তুমি প্রিয়তমা
মোর আবেগে কুড়ানো
এ প্রেমের ফুল
ক্ষমা করে নন্দিনী
মোর প্রেম জীবনে
যতসব করেছি ভুল ।

আনাড়ী কবি


আমি কবিতা লিখতে পারিনা
ছন্দের যাদু কিংবা শব্দ চয়নের তেলেসমাতি
জানা নেই আমার
তবুও আমার কবিতা পড়ার শখ হলো তোমার ।
অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, সরবৃত্ত
আরও কত কি !
কাব্য-মহাকাব্য পার্থক্য জানিনা
তবুও আমার মত করে
তোমার জন্যে আনাড়ী এ কবির
ছোট্ট একটি  কবিতা
শোন তবে-
" আমি ভালোবাসি তোমাকে " ।

তোমাকে দেখিনু বইমেলায়


তোমাকে দেখিনু বইমেলায়
বিশ বসন্ত পেরুনোর পরে
ভাসিনু সেদিন প্রেমের ভেলায়
মন সপিঁনু তোমার তরে ।
দেখিনু চেয়ে তোমায় অপলক
দেখিনু বিধাতার সৃষ্টি
মায়াবী কথন, মায়াবী বদন
প্রেমভরা তোমার দৃষ্টি ।
গোলাপ রাঙা ঠোট
তোমার মুক্তা ঝরানো হাসি
চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলি
রূপবতী তুমি অতি ।
এলোমেলো তোমার ব্রাউন কেশ
‍দোলাদিনু মোর মনে
চাহিনু তোমায় বাসিতে ভালো
মোর একাকি এ লগনে ।

তোমাকে ভালোবাসি


আকাশ পাতাল

পার্থক্য বুঝিনা
তোমাকে ভালোবাসি
অন্য কিছু খুঁজিনা ।
তোমার কাছে চাই সুখ
দাও যদি দাও দুখ
তবুও মোর কাছে প্রিয়
তোমার চাঁদমাখা ঐ মুখ ।
তোমার ভালোবাসার সিন্ধু সেঁচে
অমৃতহীনে যদি পাই বিষ
তবুও তোমাকে ভালোবাসি
তোমাকে শুভাশিষ ।
তোমাকে হীনে, ভালোবাসা বিনে
চাইনা কিছু আর
যায় যাবে সব যাক তবে
ফিরে আসব আমি বারবার ।

শিউলী

শিউলী ‍কি জানে
রাতের শেষে
ঝরে পড়তে হবে তাকে
‍শিশিরস্নাত ঘাসে ।

তবুও ‍সে ফোটে
যদি কোন পথিক
নেয় তব তুলে
তাকে ভালোবেসে ।

লজ্জায় মূখ লুকাতে আসিনি, ফাঁসির দাবী নিয়ে এসেছি...

ও‍ রে কাপুরুষ
অনাকঙিখত ‍যৌনতায় নয়
নারীর হৃদয় জয় হয় ভালোবাসায় ।

তবে কেন পশুত্ত্বের কাছে হার মানিস
হিংস্র জানোয়ারের মত নারীর দেহে ঝাঁপিয়ে পড়িস।

ও রে কাপুরুষ শোন-
সুপুরুষ কখনো ইভ টিজিং করে না
সুপুরুষ নারীর দেহে এ‍সিড ছোড়ে না
সুপুরুষ কখনো ধর্ষণ করে না
সে ভালোবেসে জয় করে নারীর মণ ।
অনাকাঙিখত ‍যৌনতায় আর নয় মৌনতা
নারীর প্র‍তি সহিংসতায় ব‍সে থাকা নয়
ধর্ষণকারীর গজর্নে চুপ হয়ে যাবার নই আর
লজ্জায় মূখ লুকাতে আসিনি আজ
আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দিন আওয়াজ
পৃথিবীর সব প্রমাণিত ধর্ষণকারীর ফাঁসি চাই ।

আপনি সুপুরুষ ?
তবে বলুন-
" ধর্ষণকারীর ফাঁসি চাই "
" ধর্ষণকারীর ফাঁসি চাই "
" ধর্ষণকারীর ফাঁসি চাই "

চিঠি

বন্ধু
কেমন আ‍‍‍ছো ?
আছি তো মনে
নাকি বাস্তবতার ফেরে পড়ে
গেছি ভেসে
অচেনা স্রোতে ।

বন্ধু
তোমার-আমার দেখা
প্রয়োজন মেটাতে
শুধু চলার পথে 
নাকি ছিল কিছুটা 
মনের রথে ।

বন্ধু
বুঝি, ব্যস্ত আ‍ছো ।
আজ যে দ‍ুরত্ব
তা হয়তো কোন প্রয়োজনে ।
যেখানে যখন যেভাবে থাক
ভালো থেকো-
অসম্ভব রকম বেশী
অথবা যতটুকু থাকা যায় ।

বন্ধু
আজকে রাখি তবে
বিদায় ।

----------------
উৎসর্গ: আমার সব বন্ধুদের ।

প্রেমের ‍‍দেবী

যখনই বায়ু তোমার চুলে খেলে যায় ঢেউ
মনে হয় এই বুঝি হৃদয় মোর কে‍ড়ে নিল কেউ ।
যখনই দেখি তোমার ঠোঁটের কোণে হাসি
তখনই আমি যেন প্রেম যমুনায় ভাসি ।
তুমি যখন কথা বলো মনে হয় যেন গান
তখনই হৃদয় মোর তোমার জন্য করে আনচান ।
যখনই তুমি হেঁটে যাও নৃত্য তালে
মনে হয় ‍প্রেেমর দেবী ধরায় ‍‍এস‍ছে হালে ।
যখনই দেখি তোমার মায়াভরা নয়ন
মোর হৃদয়ে ‍প্রেেমর কবিতার হয় নব চয়ন ।

তুমি বিহনে

তুমি বিহনে বাঁচিবনা আজ
জীবনে আসিবে তুমি হীনে সাঁঝ
তুমি বিহনে মোর অনন্ত ভালোবাসা
অকাল প্রায়াত জগতের মাঝ ।

খুলে দাও হে প্রিয়া তুমি
ভালোবাসার সে গহীন ভুমি
তোমার বাহুডোরে বেঁধে মোর
স্থান দাও হে তোমার হৃদয়ের মাঝ ।

নিশিকাব্য

নিশি
এক নির্লজ্জ কিশোরী
সন্ধ্যা থেকে ‍‍সেজে
নব বধুর মত
দঁাডি়য়ে একাকী
পথ পাশে
খুজে বেড়ায় 
অচেনা অজানা পথিক
‍ক্ষণিকের বন্ধু
শত সহস্র ভোমর !
পার্থিব কিছু চাওয়া
সর্ব্বোচ্চ বিসর্জন
নিরস দেহদান
সমূহ সমর্পন ।
অকৃত্রিম ভালোবাসার
জন্মদাত্রী যে নারী
সে আজ কৃত্রিম
নিরস নিথর
স্রেফ জীবিকার্জন
রচে নৈতিকতার কবর ।
কে , কী দায়ী
শুধুই দারিদ্র্য !
আ‍মি নির্লজ্জ বলেছি
কথাটি কি ঠিক ?
অন্যদের মত
তারও লজ্জা ছিল
প্রেম ছিল
মায়া মমতা সবই
অন্যদের মত তারও
বাঁচার অধিকার ছিল
তবে ... ???

গাঁয়ের বালিকা

আঁকা-বাকা মেঠো পথে
লাল শাড়ি পড়িয়া
কে যায় গো হেলেদুলে
হিঁয়ায় নাচন তুলিয়া ।
নুপুর বাজে তার রুন ঝুনঝুন
হৃদয় মোর হলো যে খুন
উদাসী মন মোর পাগল হলো
পেতে কাছে গাঁয়ের সে বালিকা ।
রিনিঝিনি কাঁকনে সুর তার
ছন্দ তোলে হে মনে বারবার
রূপের বাহারে ব্যাকুল হৃদয়
নিতে হবে যে তারে বরিয়া ।
এলোমেলো তার কালোকেশে হায়
বায়ু যে নিত্য দোল খেলে যায়
মন বড় চায় চুলে হাত দিয়ে
আদর করি বসে নিরালায় ।
লাজে ভরা তার হাসিমাখা মুখে
মাদকতাপূর্ণ নেশাভরা চোখে
প্রেমের ভুবনে কেটে যায় রেশ
উদাসী করিল সে আমাকে বেশ ।

মেয়ে, তুমি চাঁদ হও


‍নিস্তব্দ শরতের রাতে
আকাশে দেখেছিলাম চাঁদ
অপূর্ব আর সাদা মেঘগুলোকে
মনে হয়েছিল অনেক দিনের না দেখা প্রিয়তার জন্যে
আকুলে ছুটে চলা অশান্ত-অতৃপ্ত আত্মা
যে না‍হি মানে কোন বাধ ।

হলো মনে
চাঁদের কানে ফিস ফিস কি বলে
খানিকটা পুজো করে আবার গেল ছুটে
অনন্তের পানে ।

আর আমি পড়লাম ধ্যানে
কোন এক দেবীর
মনে মনে প্রলাপ কেটে বললাম
কোথায় তুমি ? এসো
পুজো করব তোমার
মেঘ গুলোর মত ।

হয়তো ওদের মত
আমি ধবল নই-আমাতে হয়তো কালিমাও আছে
তবুও বলি
মেয়ে, তুমি চাঁদ হও
আমায় দাও ক্ষণিকের তরে
পুজো করবার তোমায় ।

অকৃ‍‍‍ত্রিম ভালোবেসে
তারপর যাব চলে 
মহাকালের পথ ধরে
অনন্ত সম্মূখে ।

প্রশ্নোত্তর

বারবার প্রশ্ন করো
তোমায় ভালোবাসি কতো ?
নানা মূখরোচক উপমা দিতে পারি আমি
তবে ফাঁকা বুলি আওরাতে চাইনা
শুধু এতটুকু বলি
তুমি আমার উপর আস্থা রাখতে পারো ।

শব্দটা রাজনৈতিক মনে হলো ?
হতেই পারে !
তবে ‍জেনো আমার প্রেম ধ্রুব সত্য
অবিশ্বাসের ছিটে‍ফোটাও নাই
কেবল তোমাকে ভালোবাসি
কেবল তোমাকে ভালোবাসতে চাই ।

সুখের পথ

বলো যদি ভাই- কি করে সুখ পাই
‍শোন তবে- তোমারে সুখের পথ জানাই ।
রাখো হৃদয় ঘৃণা মুক্ত, উৎকন্ঠা মুক্ত মন
সাদাসিধে বেঁচে থাকো, গড় সরল জীবন ।
চাও খুবই কম, দিতে যদি পার দাও তবে বেশী
ভালোবাসায় পূর্ণ করো হৃদয়, ছড়াও সূর্যের মত হাসি ।
নিজেকে ভুলে এখন পরকে ভাব আপনজন
এটাই সুখের পথ- বলেন গুণীজন ।

নিভৃতে অশ্রু ফেলি

(উৎসর্গ : ড. হুমায়ুন আজাদ স্যারকে)

ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশ
নষ্ট‍ দের অধিকারে সমাজ
ব্যহত মুক্ত চিন্তা
লংঘিত মানবাধিকার 
আর আমাদের
নিরবে অশ্রু ফেলা
অথচ তুমি 
স্মৃতিতে আজ
বেদনা ক্লিষ্ট আমরা ।
তুমি সংস্কারক
প্রচলিত রীতি বিরোধী
মুক্ত চিন্তার অগ্রজ
মানবতার ধারক
স্বাধীন চেতা ।
ওদের সহ্য হয়নি
তাই তোমাকে
তোমার অমর সৃষ্টি
' পাকসার জমিন সাদবাদ ' ।
ওরা হিংস্র পশু
নগ্নতার পুজারী
অর্থলোভী অত্যাচারী
ওরা ভালোবাসে
পরাধীনতা গোলামী ।
ওরা আঘাত করেছে
তোমাকে বারবার 
তবুও টলোনি তুমি
ছিলে আপোষহীন চির সংগ্রমী ।
তোমাকে তাই স্মরি
নিভৃতে অশ্রু ফেলি
তোমাকে ভালোবাসি
বাংলাকে ভালোবাসি
দেশকে ভালোবাসি ।

------------------------------------------------------------------------
এ কবিতাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একু‍শে হল স্বরচিত কবিতা প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার প্রাপ্ত ।