বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯

ফুলঝুরি পাখি আমি- এই শহরে!

ফুলঝুরি পাখি আমি- এই শহরে, খুজি গ্রামীণ বনফুল রস!
না, না- রস নয়, সস নয়, মেলে শুধু অখাদ্য কস!
ফুলে ভেজাল, 
            ফলে ভেজাল,
                      খাদ্যে ভেজাল,
                               বাদ্যে ভেজাল !
চলায় ভেজাল, 
             বলায় ভেজাল, 
                          ধনে ভেজাল,
                                   মনে ভেজাল !

ভেজালে ভেজালে, নকলে- নিয়ত হই বশ্ ।
      ফুলঝুরি পাখি আমি- এই শহরে, খুজি গ্রামীণ বনফুল রস!
এ কি তবে ব্যর্থ চাওয়া, ব্যর্থ প্রয়াস-
     বিলুপ্তপ্রায় সুস্থ জনম! বুঝি, এ শহরের দেহখানি এতদিনে অবশ!!

পরের ধনে পোদ্দারি

একদা বড়লোক হলেন গুরু- 
জনগনের দানের টাকায়!
পরক্ষণে শিষ্যদের বলেন, 
"আমি তোদের রাখি, খাওয়াই, পড়াই- ভীষণ সস্তায়!"
কথায় কাজে এমন খোটা- 
মনে হাসির খোরাক জোগায়!
অতীত ভোলা মহাশয়গন- না বুঝে,  
উল্টো ফাঁকা বুলি ছড়ায়!
পরের ধনে পোদ্দারি করা- উচিৎ সাজে না,
জনগন কিন্তু সবই বোঝে- চকলেট চোষে না!

সোমবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০১৯

শীতার্ত ঠোটকাব্য

শীত এলো- ফেটে চৌচির হলো ঠোট ।
ছাপ চায়, চায় স্পর্শে স্পর্শ প্রেমের ভোট!
শীতার্ত ঠোট । আমার একলা একলা ঠোট ।
শুষ্কতায় ক্লান্ত তারা, আছে ভীষণ অভাবে উষ্ণতার!
সমতল নেই, এবড়ো থেবড়ো মাঠ অনুপযুক্ত খেলার!
চায় সিক্ততায়- হোক ভালোবাসার জোট ।
শীতার্ত ঠোট । আমার একলা একলা ঠোট ।

তোমার ঠোটের চুমু- আমার ঠোটের ভেসলিন ।
শীতার্ত ঠোটে- বসন্তের দিন!

রহস্য চন্দ্রবিন্দু

চন্দ্রবিন্দু আগেই টিপ পড়ে ছিলো । আমি আর পড়াবো কোথায়?
চন্দ্রবিন্দু আগেই মুখ হেসে ছিলো । আমি আর হাসাবো কোথায়?
জানতাম না- সে রহস্য তার । বুঝতাম মনে মনে- হয়তো আছে শুণ্য মন ।
জানতাম না- দেবতারা আছে অনেক দেবীর পেছনে পুজায়রত সারাক্ষণ ।
সময় হলো যখন আমার পুজোর । চন্দ্রবিন্দু তখন সাজনো পূর্ণ প্রেমে ।
আমার চেস্টায় সরন হলো না, পদার্থবিজ্ঞান মতে- কাজ শুণ্যে থাকলো থেমে ।

বুঝলাম অবশেষে, এটিই চিরন্তন-
মনে যখন জাগে প্রেম বলতে হয় তখন, 
কালক্ষেপণে বৃথাই হয় সকল আয়োজন ।

বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৯

কতদিন বিকেল দেখি না!

কতদিন বিকেল দেখি না! ভালোবাসার বিকেল । পারিবারিক বিকেল । বন্ধুতার বিকেল । 
কতদিন বিকেল দেখি না! পড়ন্ত বিকেল । নিস্তেজ সূর্যের মিস্টি আলোর বিকেল । গোধুলি রাঙা আধো আধো আলোর রঙিন বিকেল । 
কতদিন বিকেল দেখি না! সবুজ ঘাসের বিকেল । নদীর পাড়ের বিকেল । বনের পাখির গানের বিকেল ।

সূর্য ওঠা মাত্র ম্যারাথন দৌড়ে ঘুম ভাঙে । তাড়িৎবেগে সকালকর্ম সকল সম্পাদন সফল করে- পাবলিক বাসে সিট দখল যুদ্ধ শেষে বীরের বেশে ক্লান্ত হয়ে অফিসে প্রবেশ ।
এ নিয়ম ভাঙি না ! ভাঙলে পেটে ক্ষুদার্ত নেকড়ে ডাকবে । পরিবার আফ্রিকায় যাবে এই দেশে বসেই ! তাই যথাযথ এই কর্ম- বেশ ।
দিন শেষে রাতে ফিরি । এভাবেই । তাড়াহুড়ো করেও ঐ রাত দশটায় বা পরে!
সবাই ঘুমে তখন ঘরে । 
সন্তান-বাবা মুখোমুখি বন্ধ । বউটি জেগে থাকে বিরক্তিরভাবে । আবার কখনো অপেক্ষার স্বভাব সুলভে । অথবা থাকতে হয় বাধ্য হয়ে- সে ই মূলত সংসার করে ।
কতদিন বিকেল দেখি না!  এই দুজনে এক সাথে- ফের! 
ছুটির দিনগুলোতে বিকেল দেখা হয়- মহা কর্মযজ্ঞে । সে বিকেলে প্রেম নেই, বন্ধন নেই হৃদয়ের ।

কতদিন বিকেল দেখি না! প্রেমের বিকেল । পরিবারের সাথে অথবা বন্ধুদের সাথে অথবা আত্মীয় স্বজনের সাথে অথবা একাকী!

কতদিন বিকেল দেখি না!

উৎসর্গঃ কবি সাজ্জাদ খানকে ।

তুমিই আমার শেষ প্রেম!

আমিই কি তোমার প্রথম ? অথবা আমার প্রথম তুমি ? 
বিষয়টি থাকে লুকানো কমবেশি সবার জীবনে গোপন ধাঁধায়!
থাক না, সেসব প্রেমের গল্প-কবিতা-গান অজানা!!!
বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চাই না তোমায় । তুমিও আমাকে ফেল না দ্বিধায়!
প্রেমের বয়সের ঠিক ঠিকানা নেই! জানা আছে ।
পরিনত বয়সে এসে তোমার প্রেমে পড়ছি, কতো কথা আছে পাছে!
সুতরাং অতীত নিয়ে কোন ঘাটাঘাটি নয় আর!
বরং দুজনের কন্ঠে একই সুরে, অনুনাদ হোক সারা জনমের তরে-
"তুমিই আমার শেষ প্রেম ।"

আমাদের শেষের কবিতা মিলনাত্মক হোক ।

মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৯

সুর মরে না, শ্রদ্ধায় থাকে বুলবুল

‘আমাকে যেন ভুলে না যাও… তাই একটা ছবি পোস্ট করে মুখটা মনে করিয়ে দিলাম।’
তোমার এ শেষ বাণীর প্রতিক্রিয়ায় বলি-
সুর মরে না, গান মরে না, কন্ঠান্তর হয় মাত্র !
প্রেমিক মনে ভালোবাসা বেঁচে রয়, যুগ যুগান্তর বেঁচে রয় গুরুমূখী ছাত্র । 
সবুজ বনে বনে পাখিরা- তোমার গান গাইবে ।
শীত কিংবা বসন্তে. সুসময় কিংবা দুঃসময়ে- শ্রদ্ধা সম্মানে তোমার স্মরন মনে লইবে ।
জাগতিক নিয়মে- দৈহিক স্থানন্তর হয়, মনের স্থানন্তর নয় ।
নদীর কলতানে গানে এ বাংলায় থাকবে বহতা তুমিময় সময় ।

সুর মরে না, চেতনা মরে না, শ্রদ্ধায় থাকে গানের প্রিয় বুলবুল ।

জোছনাগ্রাস

ভেবেছিলাম তোমায়: হিম হিম পৌষালী চাঁদের মতন !
প্রেমাবেগে মন হয়েছিলো উষ্ণপ্রবণ !
ভালোবাসতে শুরু করলাম । ভাবলাম- জীবন পাবে যুগ্মসুখ ।
ভাবলাম, রাতের সময় সে কম নয়- থাকবে বহতা, এখনো উঠতে দেরি সূর্যময়ূখ ।
স্বপ্নভঙ্গ । জোর্তিবিদ বললেন- আর ক্ষাণিকক্ষণ !
শুরু হলো- অনাকাঙ্ক্ষিত চন্দ্রগ্রহণ !
জোছনাগ্রাস । বিরহ আঁধারে বাস । তারপর...

আর কোনদিন দেখা হয়নি পূর্ণজোছনাসমেত তোমাকে ফের ।

মূলনীতি

হ্যাঁ, আমার দাদা'র বন্ধুরা,
               এবং আমার বাবা'র বন্ধুরা,
বড় কষ্ট করে একটি গাছ লাগিয়েছিলেন: সবুজের মাঝে লাল ফুল তার- অপরূপ ।
আমি জেনেছি-
         গাছটির চারটি শিকড় আছে ছড়িয়ে: জনম জনম ধরে- সঞ্জীবনী স্বরূপ ।
গাছটি বাড়ছে, 
               বাঁচছে,
                     বেঁচে থাকতে চাইছে-
যুগ যুগান্তর । আশাকরি থাকবে সে- এই পৃথিবী আছে যতদিন ।
সুতরাং একটি শিকড়ও কি থাকতে পারে যত্নবিহীন ?
পারে না, কখনোই পারে না -
কারন, চারটি শিকড়ছাড়া এ গাছটি বাঁচবে না !

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯

ঋতুস্রাব

ফুলের কলি সৌরভ ছাড়ায় না !
তাকে পরিস্ফুটিত হতে হয়, পূর্ণতা দানে- 
এই পৃথিবী বাগানে ভালোবাসার জয়গানে ।
ভালোবাসা ছাড়া পৃথিবী বাঁচে না !
ফুল না ফুটলে- পৃথিবী শ্মশান, 
অনুজ প্রজন্মহীন- পৃথিবী বিরান !
এ সবই জানে পুরুষ । জানে, নারী ছাড়া পুরুষ জন্ম নেয় না !
কলিফুলে ভ্রমর বসেনা ! পুরুষ ছাড়া নারী সাজে না !

সবই যদি জানো পুরুষ, সবই যদি জানো নারী-
ঋতুস্রাবঃ ঘৃণার কি ?
পারস্পরিক সহযোগিতায়-
কলিকে ফুটতে দাও- স্বতঃস্ফুর্ততায় ।
প্রাকৃতিক নিয়মে লজ্জার কিছু নাই । 
এ বিশেষ সময়ে "অচ্ছুত" শব্দটি অভিধান থেকে মুছতে চাই ।

বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯

এক বুক দু:খ

এক বুক দু:খ দিয়ে
তুমি চলে গেলে
সুখ পাখি উড়ে গেলো
দুই ডানা মেলে ।।

ফিরে তুমি আসবে না আর
জানি আমি জানি
বিরহ আগুনে জ্বলে এখন
পোড়ামন খানি ।
আপন যখন পর হয়ে যায়-
দু:খ শুধু মেলে ।
দু চোখের অশ্রু ধারায়-
ঝর্ণা বয়ে চলে ।।

ভালোবাসা শুরুর কালের
সবাই মিষ্টি কথা বলে
সব পাখি উড়ে যায় 
নতুন সুযোগ পেলে ।
খাটি ভুলে কাঁচের লোভে 
হীরা দেয় ফেলে ।
যতনে গড়া প্রেমের লক্ষী-
দেয় পায়ে ঠেলে ।।

মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯

হাত চিরুনি

তুমিহীনে- অশান্ত সময়, বিষন্ন ক্ষণ !
এলোমেলো কেশ, এলোমেলো মন-
প্রশান্তির অপেক্ষা উত্তাল সমুদ্র বয়ে চলে- 
একলা না'য়ে আমি দিশেহারাপ্রবণ !
এই দুর্বত্ত সময় তাড়াতে-
চিরুনি অভিযান চায় প্রাণ,
তোমার হাতের আঙুল: আমার মাথার চিরুনি ।
চাই- এ দু'য়ের অভিযানে মাতুক আমাদের সুখের সাম্পান!

আমার এমন অশান্ত সময়ে, বিষন্ন ক্ষণে- 
যদি চিরুনি অভিযানে তোমার হাতআঙুলতার:  প্রেমের সুপরিবাহিতায় সাজে-
পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা আবেশিত হয় তখন আমার মাঝে !
বাঁচি আমি বাঁচি ! বাঁচি ক্লান্তিহীন- প্রশান্ত মনে ।

আমিই মশাল!

হায়েনারা কখনো আয়না দেখে না !
রূপান্তর চোখে পড়ে না তাই!
ধর্ষণের চেস্টা অব্যহত থাকে; আর-
অন্ধকার: আইয়্যামে জাহেলিয়াত থেকে কৃষ্ণগহ্বর পৃথিবী পর্যন্ত- থাকে, হয়তো থাকবে!
উল্টো বিবর্তনে মানুষ কখনো কখনো পশু হয়- জীববিজ্ঞানের নিয়ম ভেঙে!
তাই নানারকম যৌনাস্ত্রের ব্যবহার চলে নানা ভাবে, যেমন-
নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেয়ার- ধর্ষণ চলে !
গরীবকে আরও গরীব রাখার- ধর্ষণ চলে !
অধিকারহারাদের আরও বঞ্চিত করার- ধর্ষণ চলে !
অসমতা জিইয়ে রাখার কৌশলী- ধর্ষণ চলে !
কারণ অন্ধকার উপযুক্ত সময় ধর্ষকদের !
সময়ের অগ্রগামী তীরের সাথে আলো ছুড়ে দেবার কেউ নাই-
দুঃখজনক- এমন সভ্যতার বিকাশ !

মুক্তি চাই । আলো চাই । 
এখনই, এসো তুমি-আমি করি অন্তরে মানবতার পূর্ণ প্রকাশ ।
বলো- আমিই মশাল । আলো ছড়াই ।
অন্ধকারের গতিপথ রুখে দাড়াই ।

অদল বদল

হাতি, ঘোড়া আকাশ চরে-
যায়না তারা জলের তল!
গাধার দল বলতেই পারে-
মেপে দেখি কতো জল!!
এসব নিয়ে শ্লেষ করার-
দিন হয়েছে কবেই শেষ!
আদা আসে জাহাজ করে-
সবার খবরে দেশ বিদেশ!!
প্রবাদ পাল্টে হয়েছে  প্রলাপ-
নেই কেউ বোকা, ভাঁড়!
সময় বুঝে থলের বিড়াল- 
ম্যাঁও বলে দেয় চিৎকার!!
এখনও যেসব পন্ডিত মশাই-
বাজাও পুরানো সুরে বাঁশি!
মনে রাখো হিসেব করেই-
হবে অদল-বদল হাসি!!

অন্যরকম রাধিকার কুঞ্জবনে

গভীর নিশিতে আমন্ত্রণ । রাধিকার কুঞ্জবনে । যেতেই হবে- না করার উপায় নেই আজ !
শর্ত দিয়েছে: খালি পায়ে পদব্রজের । চাঁদর জড়িয়ে । পাঞ্জাবী-পাজামা, কাঁধে ঝুলানো ব্যাগ সমেত । 
পুরোই কবি সুরাত কাম্য তার । 
আমারতো থাকাই যাবেনা, সেও নাকি পাপড়ির ভাজে- লুকিয়েছে লাজ!
রওনা হলাম । শিরোধার্য নির্দেশ পালনে । রাত নির্জন অথচ অশান্ত মন । 
গোপনে ফুলের কাছে যেতে সব ভ্রমরের পরাণ করে দুরু দুরু । আমারও!
শীতে উষ্ণতার প্রয়োজন । উপেক্ষা তাই বাধা বিপত্তি- কামনা সাহসী ভ্রমণ ।
মেঠো পথে দূর্বাঘাসে পা ভেজে । পিছলে যায় । কুকুর শিয়ালের ডাক ভয় জাগায় !
তবুও চলছি ....
রাধিকা দুয়ার খুলে রেখেছিলো । কুশল শেষে, জিজ্ঞেস করলো- কবি, প্রেম কি ?
বললাম আমি- তুমি ‍!
উচ্চস্বরে হেসে খিলখিল রাধিকা । এমন শ্লেষাত্মক হাসি আমি আর দেখিনি আগে !
আমি বিব্রত বটে । অপ্রস্তুত ছিলাম- এমন হবে আজ রাত । হায়রে বরাত !
রাধিকা বুঝে ফেলে, হাত ধরে এক হাতে, আরেক হাত কবিব্যাগে, খুজে খুজে বের করে- কলম ।
বলে- এটিই প্রেম । এটিই ধারক সভ্যতার । সুন্দর করে গড়ে মানব জনম ।
অন্যরকম রাধিকার কপালে আমি চুমু খাই !
পাছে ভয় ভুলে- প্রেম কি বুঝে যাই !
কলমের প্রেমে নতুন কবিতার জন্মদানে- আসলেই পৃথিবীতে আসে ভোর ।

পথশিশুর অস্পষ্ট সুর

ধুলো মাখা জীবন আমার-
ভালোবাসা চায়,
রাত বিরাতে জীবন কাটে-
রাজপথে, রাস্তায় ।।

ঘর নাই, টাকা নাই-
চাওয়া পাওয়াও কম,
তবু নিত্য হানা দেয়-
আমার কাছে যম !
মানুষ নামের পশু যারা-
বিপথে আমায় চালায় ।।

পথশিশু নাম শুনেই- 
যারা নাক ছিটকে বেড়ায়,
তাদের কাছে প্রশ্ন আমার-
এসব কারা বানায় ?
আমিও চাই মানুষ হবো-
হাত বাড়াও মানবতায় ।।

যুগল চোখের নিচে কালো দাগ

যুগল চোখের নিচে কালো দাগ আমার- প্রমাণ অপেক্ষার! তোমার অপেক্ষায়-
দিনভর পথ চেয়ে থাকা ক্লান্ত চোখযুগল রাতভর ঘুমোতে চায়-
পারে না ! যদি ফেরে পাখি অকারণে ভেঙে ফেলা নীড়ে, ভুলে অভিমান ফের-
সে আশায় উত্তেজিত মন- জাগিয়ে রাখে চোখ অপলক । ক্লান্তির উপেক্ষা ঢের !
একলা ঘরে একলা জাগি- যেন নির্জন বিচ্ছিন্ন দ্বীপে শাস্তির বনবাস-
হয়তো শাস্তি ! নয়তো- এ আমার  বেশি ভালোবাসার ব্যর্থ প্রয়াস ।
বিরহের গান শব্দের বেগে না ভেসে যদি চলতো আলোর চেয়ে বেশি-
হয়তো তুমি তবে শুনতে তোমার অপেক্ষায় কতো সুরে কতো কেঁদেছি-
এই আমি  বোকা ভীষণ । বিজ্ঞানিরা বলেছে, আলোর চেয়ে বেশি বেগে চলেনা কিছু-
যুগল চোখের নিচে কালো দাগ আমার- থেকে যায় । কালো হয় আরও!  বুঝি ছাড়লো না আর পিছু !

প্রাণ খুলে কাঁদতে চাই

কাঁদতে চাই । প্রাণ খুলে কাঁদতে চাই ।
অদ্ভুত মানুষ আমি- 
নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা মনে নাই ! সুকান্তের ছাড়পত্রও মনে নাই !
হঠাৎ হঠাৎ নয়, হে চোখ যুগল আমার- 
শ্রাবণের বিরামহীন ধারার মত কাঁদতে চাই ।
চোখ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়া জল দু হাতের পাতায় নিয়ে দেখতে চাই-
কী করুন রূপ তার ! সব মানুষের রক্তের রঙ লাল জানা আছে সবার ।
মানবাধিকার বঞ্চিত মানুষের চোখের জলের কোন রঙ নাই-
হয়তো সেজন্যে অলোর ক্রিয়ায় গোচরীভুত হয় না অন্যের কাছে !
লুকিয়ে থাকে কালো কালো দুঃস্বপ্নের মেঘের ভাজে-
সে মেঘভাঙ্গার পর- প্রাণ খুলে কাঁদতে চাই !
শুকনো জমিনে প্রবাহধারা নামাতে চাই !
চোখের জলে নদী হবে ।
                     নদীতে তুফান হবে ।
                                 তুফানে দখলদারের জমিন ভাঙ্গবে!
এ প্রত্যাশায়-
ভালোবাসার স্বপ্ন ভেঙে গেলেই কাঁদতে চাই !
অসহায় যে হাত বজ্রমুষ্টি হয় না !
অসহায় চোখের জল সে হাতে নিয়ে দেখতে চাই !

রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৯

কবিতার নজরঘাটি

অতীত থেকে সমসাময়িক, এমনকি ভবিষ্যত গতিবিধিও নজরে রাখেন কবি!
কবিতা সে তো এক নজরঘাটি ।
ব‌্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, বিশ্বসহ তাবত বিষয় পর্যবেক্ষণ করে,
এ পর্যবেক্ষণ কর্মযজ্ঞ সেও খাটি ।
দুর্বৃত্তায়নের দখলে যদি এ নজরঘাটি হাতছাড়া হয় কবিদের-
এক কথায় বলা যায়- সব হবে মাটি! সব হবে মাটি!! সব হবে মাটি!!!
অতএব যেকোন মূল্যে-
হে কবি, দখলে রাখো তোমার কবিতার নজরঘাটি ।

অবশেষে ছুরিকাহত মন!

অনেক যতনে সিন্ধুকে ভরে রাখাছিলো- 
শিশু থেকে বেড়ে ওঠা একলা একলা কিশোরমন  !
যৌবনেমন পাখির মতন উড়ে ঘুরে খুজে নিলো-
বিশ্বাসে আস্থাপনে যুগল সঙ্গী প্রেমে পূর্ণ ষোলকলা আয়োজন ! 
অবাক হবার কিছু নেই- দিন যায়  প্রিয়জন রূপ পাল্টায় ! 
বেঁচে থাকলেই নাকি সবাই বদলায় !
জানতাম এসব । জানতাম, অনেক মানুষ দুমুখো সাপ !
তবুও নূন্যতম বিশ্বাস হারাইনি । মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ !
হঠাৎ সব বিশ্বাস ভেঙে অধিকার বঞ্চনা হলো শুরু, 
টের পাই মনে দহন, উত্তাপ, রক্তক্ষরণ লঘু থেকে দিন দিন হয় গুরু-
নিত্য বেড়ে চলে ভালোবাসায় গড়া মনের সেতু ভাঙার ধারা, 
একদিন হয় সারা -
ফিরে আসে ফের একলা থাকার ক্ষণ ! 
অবশেষে ছুরিকাহত মন !!!

আমার বিবেক হারিয়ে গেছে

আমার বিবেক হারিয়ে গেছে-
কি অবস্থা তোর ?
বন্ধু, কি অবস্থা তোর ?
আমার মনে আঁধার ভীষণ-
তোর আছে কি ভোর ?
বন্ধু, কি অবস্থা তোর ?

বন্ধু বলে, আরে না, না, না,
তোর মনে যে অবস্থা-
আমার মনেও তা!
মানুষের অধিকার মানুষ কেড়ে খায়-
সর্বত্র শোষক চোর !

ঠিক । টিকটিক সময় বয়ে যায়,
অধিকারহীনের বিশ্ব তবু-
একই রয়ে যায় !
আয় বন্ধু আয় মানবিক চিকিৎসায়-
খুলি বিবেকের দ্বোর ।

আমার বিবেক হারিয়ে গেছে-
কি অবস্থা তোর ?
বন্ধু কি অবস্থা তোর ?

মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৯

বোবাদের গান

মাঝে মাঝে বোবাদেরও গান গাইতে ইচ্ছে হয়-
কেউ শুনুক অথবা না শুনুক,
কেই বুঝুক অথবা না বুঝুক,
ওটা ব্যাপার নয়!
আপনমনে সুর ধরে-
দু:খে, কষ্টে, ক্ষোভে কিংবা দ্রোহে ।
নিজের অথবা পরের তরে-
অধিকারের গান করে সব উপেক্ষা সহে ।
কবি বলে, এসব দুর্বোধ্য গান-
যে বোঝার চেস্টা করে তার দেহেই কেবল মানুষের প্রাণ ।

হৃদয়কথার শব্দবিজ্ঞান

অভিমান, বিরহ কিংবা নির্লিপ্ততায়,
কিছু হৃদয়কথার কম্পাংক কমে যায়-
বিশ হার্জের কম !
শোনে না সে শোনে না-
কথা ছিলো যার এসব কথা শোনার !
আবার,
ক্ষোভ, বিচ্ছিন্নতা কিংবা নির্মমতায়,
কিছু হৃদয়কথার কম্পাংক বেড়ে যায়-
বিশ হাজার হার্জের বেশি !
শোনে না সে শোনে না-
কথা ছিলো যার এসব কথা শোনার !
হৃদয়কথার কম্পাংক-
বোঝার সহজ সরল অংকঃ
ভালোবাসা ।
পারস্পরিক ভালোবাসা ।
তবেই শ্রবণসীমার মাঝে থাকে-
হৃদয়ের সব কথা ।

স্বপ্ন দু:স্বপ্ন বলবিদ্যা

স্বপ্ন থাকে সব মানুষের মনে লুকায়িত- বড়, অনেক বড় !
কিন্তু মনেহয় দু:স্বপ্ন সংকোচন বলের মত ক্রিয়াশীল-
স্বপ্নকে ক্ষুদ্র করে দেয় এ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে ।
সাম্যবস্থা ভেঙ্গে যায়- কিছু স্বপ্ন হারিয়ে যায় নানান ছলে ।
ঝড়ো হাওয়ায় ভেঙ্গে পড়া ভাঙা গাছের কোমর থেকে-
যেমন গজাতে চায় নতুন সবুজ অবুঝ শীর্ষ ডাল,
তেমন আবার স্বপ্ন সাজে মনে- ধরে নতুন করে হাল ।

যদিও দিন দিনান্তর, রাত রাতান্তর-
মানব জনমে স্বপ্ন-দু:স্বপ্নের মাঝে সাম্যাবস্থা সৃষ্টির চেস্টা চলে,
তবুও মন বলে-
দীর্ঘশ্বাসে ভরা বেশিরভাগের পৃথিবী ভ্রমন!
"স্বপ্ন দু:স্বপ্নের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া বল সমান না ।"
ভেঙে যায় বিখ্যাত তৃত্বীয় সূত্র, যেমনটি বলেছিলেন স্যার আইজাক নিউটন!!!