বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

করি চন্দ্র-স্নান এসো

অবগুন্ঠন খোলো !
অবারিত জোসনা জলে শরৎ রাতে
করি চন্দ্র-স্নান, এসো ।
ছতিছন্ন কবি আজ
তোমার কোলে মাথা রাখবে অক্ষয় প্রেম সাধনায়
না করবে ? থাকতে নেই এত লাজ !
দেখো, উথাল পাথাল নদীর জলে-
জহুরা চন্দ্রবতীর দুরন্তপনা !
বদ নসিব ! এমন রাতে কি বলবে তারা
যদি না দাও সাড়া ! একটু বোঝনা !
হুট করে হেসে দিলে
এ রাতে মনে এ কেমন হানা ?
চাঁদের হাসিতেই পাগল হয়েছি
তোমার হাসিতে, বলছি, হবো ফানা !
এসো, মিলানান্ত কবিতা রচি, গাই ভালোবাসার গান,
এমন জোসনা রাতে, এমন সমীরনে- বিরহ বড্ড বেমানান !
ভালোবাসারই ক্যানভাসে নানা জ্যামিতি আঁকি- সঁপে মন-প্রাণ-দেহ !
করি চন্দ্র-স্নান, এসো ।।

টেকসই দোলাচাল বনাম বিশুদ্ধ প্রেম

জোয়ারে আসে পানি ভাটায় চলে যায় ।
"টেকসই প্রেম" এ জগতে আদৌ পাওয়া দায় !
ফুল ফুটে সুবাস বিলিয়ে অচিরেই ঝরে যায় ।
"টেকসই প্রেম" এ জগতে আদৌ পাওয়া দায় !
চাঁদ স্নিগ্ধ জোসনা ছড়িয়ে ফের ডুবে যায় ।
"টেকসই প্রেম" এ জগতে আদৌ পাওয়া দায় !
বিয়ের পূর্বে প্রেম এসবেরই মত !
কাঁচের গ্লাসকে টেকসই ভাবা যায় যত !
তবুও মনে নিয়ে আশা- মানুষ, তার হৃদয় প্রেমে ভাসায়,
ক্ষনিকের সেই সুখ-দুঃখ - এঁকে রাখে স্মৃতির পাতায়।
"টেকসই" সমীকরন উপেক্ষা করে দাম্পত্য প্রেমই বিশুদ্ধতায় ভরা,
সেই প্রেমেই - টেকসই দোলাচালহীন সফলতার স্বপ্ন যায় ধরা ।

কিশোর আলো

আমি আলো চাই, অবারিত আলো,
তুমি হও আমার সূর্যালোক !
আমার পৃথিবীর সব আঁধার
তোমার হাত ধরেই চিরতরে দূর হোক ।


আলো ছাড়া এ জগতে বাঁচতে পারে কে ?
তুমি ছাড়া আমার যাত্রাপথ বন্ধুর !
অথচ যদি থাকো সাথে –
পাড়ি দিতে পারি বাঁধা, বিপত্তির সাত সমুদ্দুর !


তুমি কিশোর, তুমি জগতের আলো –
অগ্রজ-অনুজের হাত ধরে এগিয়ে চলো!
আগামী পৃথিবীতে, আগামী পথচলায় –
আমার মত সবাই, কিশোর আলোর অপেক্ষায় ।

শাহজাদা মোস্তফা’র জন্য শোক গাথা

ক্ষমতার লড়াই- যুগে যুগে এমনই হয় ধরায়,
‘শাহজাদা মোস্তফা’ সিংহাসনের দখল না পায় !


ভালো মানুষেরা জড়িয়ে পড়ে ষড়যন্ত্রের জালে,
জীবন হয় না রক্ষা তাদের বিশ্বাসের ঢালে !
ক্ষমতার মোহে জালিমেরা অন্ধ, অনৈতিকতায় ভরা প্রাণ-
দিতে জানেনা তারা- কখনো সততা আর ন্যায়ের প্রতিদান ।
ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার মোহ সব যুগেই এমন-
ভুলে যায় কোনটি অবিচার, কে সত্যিকারের আপনজন !


আত্মকেন্দ্রিক চিন্তায় সব স্বৈর শাসক সদা ব্যস্ত রয়,
তবুও বলি – মোস্তফা’দের এক সময় হয় জয় ।


শত শত বছর পরেও ন্যায়ের সৈনিকদের নিয়ে হয় শত শত শোক গাথা,
ষড়যন্ত্র, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যোদ্ধাদের জন্য উৎসর্গ- আমার কাব্য-কথা  ।

বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জাতীয় পাখি দোয়েল

গাছে গাছে, নেঁচে নেঁচে
গায় দেশেরই গান ,
তার শিসে, তার সুরে,
জুড়িয়ে যায় প্রাণ ।


সাদা-কালো কতো ভালো
ভীষণ সুন্দর লাগে,
তারে দেখলে দেশের কথা
সবার মনে জাগে ।


শান্ত পাখি, গানের পাখি
সাহসেও ভরা বুক,
চালচলনে স্বাধীনচেতা
বাংলাদেশেই তার সুখ ।


এই পাখিটি দোয়েল পাখি
জাতীয় পাখি মোদের,
নিরুপোদ্রপতার প্রতীকও সে
প্রতীক স্বকীয়তা বোধের ।

অধিকারের অসমতার সমীকরণ কবে নিপাত যাবে

কতোটি কবিতা লেখা হলে-
বলো - জাগবে বিশ্ব মানবতা  ?
কতোটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে-
মিলবে স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা  ?


কতটুকু অধিকার বঞ্চিত হলে -
মানবাধিকারের বাণী তার পক্ষে কথা কবে ?
কোন সংজ্ঞায়, কোন নিয়মে-
সব মানুষ তার মানুষ পরিচয় ফিরে পাবে ?


বলো, বিশ্ব বিবেক বলো –
মানুষের সাথে মানুষের অধিকারের কেন ভেদাভেদ হলো ?
বলো, বিশ্ব বিবেক বলো –
অধিকারের অসমতার সমীকরণ কবে নিপাত যাবে বলো ?


জবাব তোমাকে দিতেই হবে –
কবে এই পৃথিবীতে সব মানুষ- মানুষ হবে ?

জেগে থাকি এসো

এসো,
জেগে থাকি সারা রাত
দেখবো,
একসাথে সোনালী প্রভাত ।


সব তরুন প্রাণ জাগো ।
সব যুবক প্রাণ জাগো ।


তোমারাই কেবল পারো
তাড়াতে আঁধার !
আলো আধাঁরির যুদ্ধে
আলোর বিজয় হাতের মুঠোয় তোমার !


একটু জেগে থাকো !
সারা রাত জেগে থাকো ।


সচেতন এই জেগে থাকা তোমার
বিশ্বে নিশ্চিত আনবে আলোর জোয়ার ।


এসো,
জেগে থাকি সারা রাত -
হাতে নিয়ে আলোর মশাল, চোখে অপলক ।


দেখবো,
একসাথে সোনালী প্রভাত
স্বপ্নের পৃথিবীতে- সব মূখে কাঙ্ক্ষিত হাসির ঝলক ।।

গ্রামই স্বর্গ ( সনেট )

পাখির গানে ভোর হয় গ্রাম বাংলায়
চাষী বসলে ছায়াতলে দুপুর আসে ।
বিকেল আনে কিশোররা নানা খেলায়
রাখালের বাঁশির সুরে গোধুলী ভাসে ।
কিশোরীর তই তই ডাকে সন্ধ্যা নামে
পড়ার শব্দে শিশু রাতের মোহ বাড়ায় ।
যুবকরা লোকগীতি গায় নানা কাজে
ধর্ম কর্মেই বৃদ্ধরা সময় কাটায় ।


এমন গ্রাম ছেড়ে মন চায়না থাকি
শহুরে যান্ত্রিক জিবন বেদনাময় ।
বারে বারে মনে পড়ে গ্রাম সূখময়
শহুরে দিন রাতে সে সুখ দেয় ফাঁকি ।
গ্রাম বাংলার দিন রাত আনন্দে ভরা
শহর নয়, গ্রামেই স্বর্গ সূখ ধরা ।

বাঙালির শপথ

দেশের মায়া হৃদয় জুড়ে বাঙালির বুকে,
ভালোবাসি স্বদেশ, মোরা থাকি সুখে বা দুখে ।


দেশের প্রেমে- প্রাণ দানে পাইনা কেউ ভয়
স্বপ্ন দেখি, সদা চাই - মোরা দেশেরই জয় ।


ভয় দিওনা, ভয় পাইনা - এদেশ আমার
স্বাধীনতা, পতাকা রক্ষায় মোরা দুনির্বার ।


ততদিন রবে বাংলা, যতদিন রবে ধরা,
বেঁচে থাকবে এদেশ- শপথ নিয়েছি মোরা ।

চাল নিয়ে চালবাজি

চাল নিয়ে চালবাজি
করোনা গো বাবাজি !


কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করোনা
নিয়ে মানুষের মূখের আহার,
এমনভাবে করোনা তুমি-
নীতিহীন ব্যবসার প্রসার ।


সুযোগ পেয়ে অবৈধ ভাবে
যদি করো খাদ্য মজুদ,
হিসেব তোমায় দিতে হবে
পরকালে এর নিখুত !


মন্দের প্রতিদান মন্দ, ভালোর প্রতিদান ভালো-
এমনই বলেছেন আমার মহান রব,
আমি যতটুকু জানি, জানিয়ে দিলাম-
মানা, না মানা তোমার উপরই রইল তা সব ।

মা বাবার সন্তুষ্টি করো অর্জন

তুমি সচ্ছল, তুমি সক্ষম
অথচ তোমার বৃদ্ধ মা অথবা বাবা
যদি করে ভিক্ষা ক্ষুধার তাড়নায়
ধিক, তোমায় শত ধিক ।
তোমার বৃদ্ধকালে- তোমার সন্তান
যদি একই পথ করে অনুসরণ
তোমার এমন আচরন দেখে হায়
উচিত শিক্ষা পাবেই তুমি - ঠিক ।


জানো কি, এই পৃথিবীতে যে সন্তান তার-
মা-বাবাকে করেনা যথাযথ সম্মান
দুনিয়া ও আখিরাতে পাবে সে -
সকরুণ ও অপমানজনক প্রতিদান ।


দোজাহানে যদি চাও সুন্দর জীবন
মা-বাবা'র সন্তুস্টি করো অর্জন ।
তোমার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন তোমার রব
দুই ভুবনে তোমার সুখপাখি করবে কলরব ।

মঙ্গলবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জীবনতো এমনই হয়

তোমার ডান হাতটি বাড়াও -
ঐ হাতের চারটি আঙ্গুল
আমার ডান হাতটির পাঁচটি আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরবো
হাটু ভাজ করে সবুজ ঘাসে বসে
আর বাম হাতটি তোমার আমার মাথার উপর রাখো
চুলগুলো এলোমেলো করো
বাকা নয়নে তোমার নয়নে তাকাবো, তোমার হাতের পৃষ্ঠদেশে চুমু দেবো যখন
মনের আকাশে বিজলী চমকাবে তখন হঠাৎ, হঠাৎ ।


তারপর –
দুজনে বাহুবন্ধী হবো
হাটতে হাটতে নদীর পাড়ে যাবো
গল্প, কবিতা, গানে কাটিয়ে দেবো সময়
পড়ন্ত বিকেলকে গড়িয়ে নেবো সন্ধ্যায়
ফেরার কথা বলবে যখন
হৃদয়ে হবে শুরু তোলপাড়
তীর ভাঙা ঢেউ এর মত ছলাৎ, ছলাৎ ।


এরপর রাত্রি নামে –
একাকীত্বের, বিরহের, বিচ্ছিন্নতার !
মানব জীবনতো এমনই হয়
ক্ষণিকে সুখ, ক্ষনিকে বিষাদময় ।
সময়, প্রেম বা বিরহের মত
রঙিন স্বপ্নে হয় শুরু, মলিনতায় শেষ
পরের দিন সকালে –
ঝরে পড়া শিউলী ফুল, আকস্মাৎ !

যে বৃষ্টির ফোটায় ফোটায়

এ পৃথিবীর 'পরে দিন দিন মানবের মানবপ্রীতি যাচ্ছে কমে
মানুষের জন্যই মানুষ হচ্ছে বিপদজনক, পরিনত হচ্ছে অসুরে-যমে !
উত্তর-দক্ষিন, পূর্ব-পশ্চিম সবখানে অস্ত্রের পরীক্ষা, মহড়া, প্রতিযোগিতা –
শান্তির পৃথিবী, সুখের পৃখিবী রচনায় - বুঝিনা এর কি আছে উপযোগিতা !


এমন একটি বৃষ্টি হতো যদি -
যে বৃষ্টির ফোটায় ফোটায়-
সজীবতা আনতো, উর্বরতা দিতো বাড়িয়ে
হৃদয়হীন মানুষগুলোর মনের জমিনে ,
সেথায় গড়ে উঠতো
ভালোবাসার সবুজ উদ্যান, কুসুম কানন
অন্য মানুষের কল‌্যাণ সাধনে ।
এবং যদি সে বৃষ্টির শেষে-
ভুলে যেতো সবাই-
কিভাবে মরনাস্ত্র বানাতে হয় ? কিভাবে ক্ষেপনাস্ত্র বানাতে হয় ?
বরং শুধুই ভাবতো- কী সুন্দর পৃথিবী ! কী সুন্দর মানবজাতি !
সবারই বাঁচার অধিকার আছে !  যুদ্ধ নয়, শান্তির জয় ।

এসো দেখা হবে

এসো, দেখা হবে বন্ধু-
পৃথিবীর প্রান্তরে, প্রান্তরে
মুক্তির সংগ্রামের জনপদে
জনতার অন্তরে, অন্তরে ।


একটি সুন্দর পৃথিবীর জন্য-
আয়োজিত কবিতার কুঞ্জবনে
জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে
সব মানুষের মূখে হাসি ফোটানোর রণে ।


এসো, দেখা হবে বন্ধু-
চলার পথে, মানবিক ধ্যানে
রাজপথে, জনপথে -
"সবার উপরে মানুষ সত্য" স্লোগানে ।


কথা হবে - কেবলই, কেবলই এবং কেবলই
অহিংসা আর ভালোবাসার জয়গানে ।।

মানুষ নিয়া ভাবো মন নিরালায়

মানুষ নিয়া ভাবো মন নিরালায়
কেন তুমি জন্ম নিলে
কাকে তুমি কিবা দিলে
কে তোমারে রাখবে মনে
যেদিন তুমি রবেনা ধরায়
মানুষ নিয়া ভাবো মন নিরালায় ।।
কোন কাজে সময় দিলে
কি করলে কি মিলে
যৌবনে মাত কোন রঙে
কোন ঢঙে নেবে বিদায়
মানুষ নিয়া ভাবো মন নিরালায় ।।
মানব প্রেম করে যে রে
মানুষের মনে রয় সে রে
প্রেমের উপর নাইরে কিছু
স্রষ্টা-সৃষ্টির জগৎ মেলায়
মানুষ নিয়া ভাবো মন নিরালায় ।।

বহুবচনে খোজ সুখের পথ

আত্মকেন্দ্রিক চিন্তায় জমাট বন্ধ কপাট- যাক, খুলে যাক,
ঘরে বাইরে সবার তরে ভালোবাসায় বাজুক সব জয় ঢাক ।


কদমে কদমে চলার পথে ছন্দ তালে পদ যুগল সবার চলুক,
একটিই পৃথিবী বাসযোগ্য রাখতে সবার হাতে মশাল জ্বলুক ।


মানুষের যাতনায় যেন না কাঁদে মানুষ জগৎ মাঝে আর,
মানুষ হিসেবে করতে কি পারেনা মানুষ এতটুকু অঙ্গীকার !


‘আমি’ কেন্দ্রিক সুখ খোজার চেয়ে বহুবচনে খোজ সুখের পথ
তবেই দুখের দিন হবেই বিলীন - একসাথে চলবে সবার জয় রথ ।

একলা-দোকলা

একলা মনে উথাল পাথাল ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ,
ভেসে যাব অথৈ প্রেমে- আসবে নাকি কেউ !


কেমনে জানি মনের কথা রাষ্ট্র হলো হায়-
হঠাৎ শুনি কুসুম বনে ডাকছে কে আমায় !


গোলাপ ফোটে, হাসে ঠোটে, মূখ ঘুরিয়ে কয় –
জানোনা তুমি, তোমার-আমার সাত-জনম পরিচয় !


হাতে বেধে রাখি, হলাম সখা-সখী, সঙ্গী হলো কেউ,
এখন, দোকলা মনে উথাল পাথাল ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ !

লাল টিপ

তোমার কপালের -
ঐ বেশাখী লাল টিপ
আমার প্রেমের সূর্যোদয় ।
এসো মিলি প্রাণে-প্রাণে
আজ দুটি হৃদয়
হোক চারু-কারুময় ।।


যেন বাকী জীবন চলার বাঁকে বাঁকে
এই মন তোমার কেবলই সেই ছবি আঁকে ।

পুরুষত্ব বৃদ্ধি করুন !

আমি দেখছি আমাদের পুরুষত্ব কমে যাচ্ছে দিন দিন !
আসুন, সামাজিক এ রোগের লক্ষণগুলো জেনে নিন ।


যদি আপনার থাকে ধর্ষণকামী মন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি করেন নারী নির্যাতন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি করেন শিশু নির্যাতন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি হন তোষামুদেজন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি হন দুর্নীতিতে নিমজ্জন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি চাঁদাবাজিতে করেন উপার্জন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি মাদক ব্যবসায় করেন উপার্জন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি খাদ্যে ভেজাল করে মুনাফা করেন অর্জন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !
যদি আপনি মিথ্যাবাদী, অসৎ রাজনীতিক হন - এটি পুরুষত্বহীনতার লক্ষণ !


সময়ের পরিবর্তনে, নৈতিক অধ:পতনে
আরো উপসর্গ হতে পারে প্রকাশ এ রোগের লক্ষণে ।


আপতত এগুলো থেকে নিজেকে বাঁচানোই সত‌্যিকারের পুরুষত্ব ।
শুভ কামনা সব পুরুষের জন্য- পুরুষত্ব বৃদ্ধি করুন ।
সামাজিক পুরুষত্বহীনতার দূরারোগ্য এ ব্যধি থেকে সবাই মুক্তি পাক,
সব পুরুষ করুক - ভালো মনের, সত্যিকার পুরুষত্বের আভিজাত‌্য ।

ভালোবাসার রঙ কি

বেদনার রঙ নীল, ভালোবাসার রঙ লাল
এমন কথাইতো জানতাম আমি এতকাল ।
হঠাৎ সেদিন ডেকে বলে আমায় পদ্ম-নীল
ভালো কি বাসোনা আমায়, ভালোবাসোনা আকাশ সুনীল ?
ভালো কি বাসোনা প্রিয়ার নীল আঁখি যুগল ?
ভালো কি বাসোনা সমুদ্রে ঢেউ খেলা নীল জল ?
আমি নিচু স্বরে বললাম - নীলকেও ভালোবাসি
শুনে কুসুমবাগে গোলাপ দিলো মুচকি হাসি !
তবে কি আমায় তুমি ভালোবাসোনা কবি?
রক্তজবা পাশ থেকে বলে তোমার হৃদয়ে নাই আমার ছবি ?
বললাম দিয়ে দুষ্ট হাসি - লালকেও  আমি ভালোবাসি !
এমন সময় ইশারা করে বলে হলুদ গাদা ফুল
আমি ছাড়া সাজে কি তোমার রাধার চুল ?


পরে গেলাম ভাবনায় আমি - আহা, ভালোবাসার রঙ কি ?
অমনি তখন সূর্যবলে - তোমার মনে যার প্রতিফলন- ভালোবাসার রঙ ও-ই !

রাখি বন্ধন

ভালোবেসে মনে প্রাণে,
তোমার হাতে দিলাম বেঁধে
চির বন্ধুতার রাখি ।
শুভ হোক পখচলা বন্ধু তোমার,
অশ্রুজলে কখনো যেন
না ভেজে ঐ দুই আঁখি ।।


বন্ধুতার আকাশে
পূর্ণিমার চাঁদে
কভু যেন লাগেনা গ্রহণ ।
শত দু:খ মাঝ
না আসে যেন সাঝ
বন্ধুতা থাকুক আজীবন ।


বন্ধুত্বের বন্ধনে
বিশ্বাস হারানো
কবিগুরু বলেছেন- "পাপ" ।
আস্থার মাঝে
হৃদয়ে হৃদয়ে
অমলিন থাকুক - বন্ধুতার ছাপ ।।

বিসিএস ফলাফল রসকাব্য (প্যারোডি)

ক্যাডার হই হই ননক্যাডারে ফালাইলা
ক্যাডার হই হই ননক্যাডারে ফালাইলা
হন হারনে ভাইভার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভাইভার দাম ন দিলা
ক্যাডার হই হই ননক্যাডারে ফালাইলা
ক্যাডার হই হই ননক্যাডারে ফালাইলা
হন হারনে ভাইভার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভাইভার দাম ন দিলা
আশাই আঁচিল ক্যাডার লয় বাইন্দুম একখান সুখেরি ঘর
আশাই আঁচিল ক্যাডার লয় বাইন্দুম একখান সুখেরি ঘর
ক্যাডার বদলে ননক্যাডারে দিলা
ক্যাডার বদলে ননক্যাডারে দিলা
হন হারনে ভাইভার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভাইভার দাম ন দিলা
চাকরির নদি……তে অইনুর টানত আরে কেন ফেলাই গেলা
চাকরির নদি………তে অইনুর টানত আরে কেন ফেলাই গেলা
এনগরি কেন ভুল বোঝিলা
হন হারনে ভাইভার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভাইভার দাম ন দিলা
ক্যাডার হই হই ননক্যাডারে ফালাইলা
ক্যাডার হই হই ননক্যাডারে ফালাইলা
হন হারনে ভাইভার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভাইভার দাম ন দিলা
ক্যাডার হই হই ননক্যাডারে ফালাইলা
ক্যাডার হই হই ননক্যাডারে ফালাইলা
হন হারনে ভাইভার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভাইভার দাম ন দিলা
হন হারনে ভাইভার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভাইভার দাম ন দিলা
হন হারনে ভাইভার দাম ন দিলা
হন দোষখান পায় ভাইভার দাম ন দিলা

ভালোবাসতেই হবে

ভালোবাসতেই হবে
যতবার ফিরিয়ে দিবে
ততবারই তোমার মনের আদালতে আপীল করবো ।
হে তরুন বন্ধু আমার –
ভালোবাসতেই হবে
"কবিতা"কে ভালোবাসতেই হবে ।


সময়ের প্রয়োজনে –
ক্ষয়িষ্ণু সমাজে
মানবিকবোধ জাগরণের শক্তি আছে কবিতার ।
সে জাগরণিয়া গানের সাথে
তোমাকে সুর ধরতেই হবে
"কবিতা"কে ভালোবাসতেই হবে ।


এখনই সময় –
কবিতাপ্রমী প্রজন্ম গড়ে তোলো
সবার জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রচনার প্রতাশ্যায় ।
হে তরুন বন্ধু আমার-
কবিতার শক্তিকে অবহেলা নয়
মানবাধিকার নিশ্চিত করতে ,নিশ্চিত করতে জনতার জয় ।

শাপলা ফুল

ওগো আমার শাপলা সোনা
কেন মুচকি তুমি হাসো
নীলের নিচে বিলের মাঝে
কেন পসরা মেলে সাঁজো ।
স্বাধীন দেশের স্বাধীন জমিন
পেয়ে মুক্ত বাতাস আলো
মনের সুখে রঙিন দেহে
এলোমেলো তাই নাচো ।
ওগো আমার শাপলা সোনা
কেন মুচকি তুমি হাসো
নীলের নিচে বিলের মাঝে
কেন পসরা মেলে সাঁজো ।
স্বাধীন চেতার স্বপন ওগো
তুমিও বুঝি সদা দেখো
জলের বুকে তাই বীরের মত
মাথা উঁচিয়ে তুমি বাঁচো ।
ওগো আমার শাপলা সোনা
কেন মুচকি তুমি হাসো
নীলের নিচে বিলের মাঝে
কেন পসরা মেলে সাঁজো ।

জোনাকী এবং জীবন

নদীর বাঁকে হোগলাপাতার বনে
আধারে বসেছে জোনাকীর হাট
নিস্তব্দ রাতে নির্জন মাঠ ঘাট-
আমি পথিক কালের নৌকায় –
চোখে দেখি এমন প্রাকৃতিক দৃশ‌্য
জীবনের মানে করি পাঠ ।


মিটি মিটি জ্বলে আর নেভে-
আলো আর আঁধার -
তবু জোনাকীরা চঞ্চল !
স্বপ্ন আর দু:স্বপ্নের খেলায় –
আশা আর নিরাশা ভরা
মানব জীবন অবিকল ।

ও বন্ধু তুমি শুনতে কি পাও

ও বন্ধু তুমি শুনতে কি পাও-
বানভাসি মানুষে কান্নার রোল
গগন বিদারী আহাজারি, হাহাকার
তবে কিভাবে রও - নির্বিকার ?


উবাস্তু মানুষজন আশ্রয়হীন, না খেয়ে কাটছে দিন,
রোগে-শোকে জরাগ্রস্থ, দু:খের সাগরে ভাসে, সুখ শব্দটি হয়েছে বিলীন ।
একটু সাহায্য পাবার আশায় চাতক পাখির মত তাকিয়ে রয়-
"হামাগো কেউ নাইগো" বলে বাতাস ভারী করে কেঁদে কেঁদে কয় ।


খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা - সব মৌলিক অধিকার হারা তারা আজ
এমন বিপর্যয়ে, মানবিক আবেদনে - নিরব থাকতে পারে কি - ব্যাক্তি, রাষ্ট্র, সামাজ?


যদি তুমি এসব বেদনার্ত পঙক্তিমালা শোনো –
তবে মানবিক চোখে তাকাও ।যতটুকু পারো- পাশে দাড়াও ।
অন্যজনকেও হাত বাড়াতে বলো - বানভাসি স্বজনগুলো একটু ভালো থাকুক
“মানুষের জন্য মানুষ” কথাটি তব চির সত্য হউক ।

রাত গভীর, ভাবনা গভীর

দিনের বেলায় আনন্দ মেলায়
কাটে সময় সুখের ভেলায় ।
বেশতো চলে যায় দিন - হেলায় খেলায়
বিচ্ছেদের ভাবনা আসে মনে - গোধুলী বেলায় !
এরপর যখন আঁধার নামে -
রাত গভীর, ভাবনা গভীর ।
হিসেব কষে হৃদয়, অতীত করে স্মরণ ।
জীবন-যৌবন, আয়-ব্যয় আর অতিবাহিত সময়
হলো কি সঠিক পথে সব কর্ম সম্পাদন ?
ভেবে উথাল-পাতাল হয় এই মন ।
সময় গড়ায় - চোখের পাতায় ঘুম এসে যায়
ভাবে মন - যদি ঘুম হয়ে যায় পাতাল বিছানায় !
ক্ষণিকের অতিথী তুমি-আমি
আসা-যাওয়ার নাই জানা কোন তিথী !
শেষ বিচারে সফলতা-বিফলতা কি ?
কি এই জীবনের মানে ?
ভাবো মন বসে কাজীর আসনে -
গভীর রাতে নিরলস ধ্যাণে ।

প্রেম রাধিকার ধ্যানে

গুন গুনিয়ে কইও ভ্রমর যাইয়া ফুলের কানে ।
একলা কৃষ্ণ বসে আছে প্রেম রাধিকার ধ্যানে ।।


কৃষ্ণ পাগল হইবরে আইজ যদি না পায় তারে
না জুড়াইলে মনের আগুন - বাঁচা যায় কেমনে ।


গুন গুনিয়ে কইও ভ্রমর যাইয়া ফুলের কানে ।
একলা কৃষ্ণ বসে আছে প্রেম রাধিকার ধ্যানে ।।


রাধিকা বড়ই পাষাণ, ফুল বনে রয় সারাক্ষণ
লয়না খোজ, কৃষ্ণ প্রাণ উতলা তার বিহনে ।


গুন গুনিয়ে কইও ভ্রমর যাইয়া ফুলের কানে ।
একলা কৃষ্ণ বসে আছে প্রেম রাধিকার ধ্যানে ।।


যদি থাকে মায়া মনে, রাধিকা যেন আসে গোপনে
নইলে কৃষ্ণ চইলা যাইবো দুই চোখ যায় যেখানে ।


গুন গুনিয়ে কইও ভ্রমর যাইয়া ফুলের কানে ।
একলা কৃষ্ণ বসে আছে প্রেম রাধিকার ধ্যানে ।।

তোমাকে নিয়ে

একটি গল্প লিখতে চাই
এই জীবনে তোমাকে নিয়ে
শুধু তোমাকে নিয়ে ...


একটি কবিতা পড়তে চাই
এই জীবনে তোমাকে নিয়ে
শুধু তোমাকে নিয়ে ...


একটি গান গাইতে চাই
এই জীবনে তোমাকে নিয়ে
শুধু তোমাকে নিয়ে ...


একটি ছবি আঁকতে চাই
এই জীবনে তোমাকে নিয়ে
শুধু তোমাকে নিয়ে ...


একটি স্বপ্ন দেখতে চাই
এই জীবনে তোমাকে নিয়ে
শুধু তোমাকে নিয়ে ...

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বিরহ বিলাপ

জনমেরও তরে
আগুন জ্বলে মনে
হৃদয় যায় পুড়িয়া
হৃদয় যায় পুড়িয়া...
আমার প্রেমেরও কোকিলা
গেলো গো উড়িয়া
ফিরিয়া আইলো না
ও সে আর ফিরিয়া আইলো না ।।
তাহারও বিহনে
চোখেরও জলেতে
নদী যায় বহিয়া
নদী যায় বহিয়া...
আমার প্রেমেরও কোকিলা
গেলো গো উড়িয়া
ফিরিয়া আইলো না
ও সে আর ফিরিয়া আইলো না ।।
কিসেরও লোভেতে
ছাড়িলো সে আমারে
পারিনা উঠিতে বুঝিয়া
পারিনা উঠিতে বুঝিয়া...
আমার প্রেমেরও কোকিলা
গেলো গো উড়িয়া
ফিরিয়া আইলো না
ও সে আর ফিরিয়া আইলো না ।।
মনে বন্ধু রাখিও
ভালো আজও বাসিগো
যতদিন এ দেহ রইবে বাঁচিয়া
যতদিন এ দেহ রইবে বাঁচিয়া...
আমার প্রেমেরও কোকিলা
গেলো গো উড়িয়া
ফিরিয়া আইলো না
ও সে আর ফিরিয়া আইলো না ।।

হে শরৎ তুমি এসো

শুভ্র সকালে শিশির স্নাত স্নিগ্ধ প্রাতে-
সজীবতা বাড়াতে
হে শরৎ তুমি এসো-
আমার মনের মঞ্জিরে ।


মেঘ-সুর্যের আলো-ছায়া খেলায় সে বেলায়-
নানা রঙে ছাপাতে
হে শরৎ তুমি এসো
আমার মনের মন্দিরে ।


পড়ন্ত বিকেলে কাশ ফুলের পবনে দোল খাবার কালে-  
কোমল স্পর্শ দিতে
হে শরৎ তুমি এসো
আমার মনের গহনে।


গোধুলী রাঙা সন্ধ্যায় পাখির মত আপন কুঞ্জ খোজার আবেগে-
শান্তির নিবাস দিতে
হে শরৎ তুমি এসো
আমার মনের মুকুরে।


মায়াবী রাতে জোসনায় সাদা-মেঘ আর চাঁদের খুনসুটির অথবা আধারে প্রিয়ার মুখোমুখি বসার আনন্দ আয়োজনে
প্রেম-মমতা বাড়াতে
হে শরৎ তুমি এসো
আমার মনের মায়া কাননে।

একদিন এসো স্বপনে

আমার মনেরও বান্ধব রে,
মায়ারও মানব রে
একদিন এসো স্বপনে ।
একদিন এসো স্বপনে ।


আমার পরানেরও প্রিয় রে
নয়নেরও মনি রে
একদিন এসো স্বপনে ।
একদিন এসো স্বপনে ।


আমার অন্তরেও আত্মা রে
হিয়ারও জীয়ন রে
একদিন এসো স্বপনে ।
একদিন এসো স্বপনে ।


আমার নিশ্বাসের ও বিশ্বাস রে
জীবেরও জীবনরে
একদিন এসো স্বপনে ।
একদিন এসো স্বপনে ।

পরিশীলিত প্রদীপ জ্বালাও তুমি

তাবৎ বিশ্বে চলছে তিমিরের তুফান !
কে জ্বালাবে হেথায় প্রদীপের প্রাণ ?
গহীন গহ্বরে মানবতা নানা ছলে কুপোকাত!
বিবেকহীন বিদ্রুপে ভ্রুকুটি মারে সেথা জুলমাত!
তেমন সাধক কোথায় পাব হেন জামানায় ?
পঙ্কিলে যে পদ্ম ফোটাবে মানবপ্রেম সাধনায় !
সব সাধকের 'তথাকথিত' সব বংশধরেরা চলছে ভুল পথে ছল চাতুরি রটে !
কে শুধরাবে ? কে সত্য পথের আলোর দিশা দিবে? কে আনবে তাদের সমতল তটে ?
পই পই করে তবুও কবিতার পঙতিমালায় আশা জ্বালিয়ে রাখি মজলুম সব অন্তরে !
তুমি, হ্যাঁ, তুমিও হতে পারো সেই সাধক, পরিশীলিত প্রদীপ জ্বালিয়ে বিশ্বের সব বন্দরে ।