বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

পুরুষও তাকাতে জানে

বাঁকা নয়নে,
পুরুষও তাকাতে জানে- 
প্রেমে কিংবা দ্রোহে ।
প্রেমে নির্মল ভঙ্গিমা- জীবনানন্দ!
দ্রোহে বীরত্ব ভঙ্গিমা- নজরুল!
দুই কবিরূপে,
পরিস্থিতি বিবেচনায়-
পুরুষও তাকাতে জানে,
তাকাতে হয়-
অন্যথায় হয়না কোনপ্রকার ভালোবাসার জয়!!!

তসরূপ

দিনের বেলায় সাধু আমরা-
সবাইকে বকি চোর,
অপেক্ষায় থাকি কখন হবে-
রাতের আঁধার ঘোর!

সুযোগ বুঝে মেরে দেই-
আমরা অন্যের অধিকার,
সভা কথায় রটিয়ে বেড়াই-
ফাঁকা বুলি মানবতার!

এভাবেই চলছি সবাই-
লুকিয়ে নিজেদের রূপ,
এটিই হলো নৈতিকতার
মহা ভয়ঙ্কর তসরূপ!

জাগো বাঙালি জাগো

জাগো বাঙালি জাগো
সময় নেইতো আর,
আদায় করো তুমি-
তোমার অধিকার ।।

ঘুমিয়ে থেকো না আর
চলছে বড় দু:সময়,
জাগিয়ে তোলো সবাইকে-
ছিনিয়ে আনো সুসময় ।
ছাড় দেবার সময়- 
নেই যে বাকি আর।।

মিস্টি কথায় অধিকার মেলেনা-
সংগ্রাম করতে হয়,
মানুষের কল্যানেই মানুষ-
আনো মানবতার জয় ।
হুংকার ছাড়ো- শোষকের নয়, 
এই বাংলা কেবলই জনতার ।।

গণতন্ত্রের বড়াই

সমতল মাঠে- উঠুক জমে
রাজনৈতিক দলগুলোর
সুস্থ লড়াই ।
বিশ্বের বুকে,
আমরাও করতে চাই-
সত্যিকার গণতন্ত্রের বড়াই ।


জনরায়ে-
ক্ষমতার পালা বদল
শান্তিপূর্ণ হোক ।
সংসদেই চলুক-
নাগরিক অধিকারের গান,
নায্যতার শ্লোক ।

গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য্য

ছুটির দিনের অবসরে এক সন্ধ্যেবেলায়-
আমি আর আমার বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম "চিত্র প্রদর্শনী" মেলায় ।
গ্যালারি জুড়ে বাহারি চিত্রকলা টাঙানো ছিলো নানা শিল্পীর আঁকা- বেশ !
দর্শকেরা দেখে দেখে মন্তব্য করেছিলো যার যার মত ফুটিয়ে আপন চিন্তার রেশ ! 
কারও মতে- কারও কারও অমত ছিলো !
ছিলো কিছু কিছু মতৈক্য ।
চিত্র প্রদর্শনী মেলায় গিয়ে বুঝেছি-
একটি চিত্রের বর্ণনা-বিশ্লেষণঃ হতে পারে কতো রকম চিন্তার ভাবে !
বন্ধুকে বলেছি-
এটিই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য্য । 
সমস্যা দেখি নাতো!  তোর-আমার মতের মিল কিংবা অমিল থাকুক, থাকুক- তবে সহিষ্ণু স্বভাবে ।
এই পৃথিবী যতদিন আছে ততদিন, সারা বিশ্বের সবার সামনে প্রদর্শনীর জন্য-
একাত্তরে আঁকা আমাদেরও একটি "লাল-সবুজ" চিত্রকলা আছে, মুক্তমতের কলরবে হোক এই দেশগ্যালারি ধন্য ।

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

গল্পটি এক প্রেমিক ভাস্করের!

তবুও শিকড় আটকে রাখতে পারেনি বৃক্ষকে- ঘূর্ণিঝড়ে উপরে গেলো । 
বছরের পর বছর একটু একটু গড়ে তোলা প্রেম- ধুলিস্যাৎ হলো !
যদিও ভালোবাসায় কোন খাঁদ ছিলনা- রোপনে, যতনে, পরিচর্যার সময় ক্ষেপণে । 
সাথে স্বপ্ন ছিলো আকাশ ছোঁয়ার, বৃষ্টিতে ভেজবার, জোসনা পোহাবার- যুগল যৌবনে ।
ইচ্ছে পুরন হয় না সবার ।
থাকেনা ঘরে- যে পাখির স্বভাব উড়ে যাবার ।
প্রেমিক ভুলতে পারেনা । অসহায় । ভাবনা করে- কিভাবে মনের দেবীকে রাখবে ধরে, চিরতরে । জানে, যদিও সে ফিরবে না আর ।
ফেরা সম্ভবও না । শেষ ফুলগুচ্ছ দিয়ে দিয়েছে চোখের জলে বিদায় বলে- মানব জনমের আসা যাওয়ার নিয়মে সবারই থাকতে হয় যে নির্বিকার । 
তবে তার কাছে ছিলো প্রমিকার পূর্ণ দেহের ফটোগ্রাফ বুক পকেটে - তাও হয়তো নষ্ট হবে একদিন!
সংরক্ষণে দেবীর স্মৃতি বরং সে আদলে একটি পাথরের ভাস্কর্য করে ঘরে রেখে প্রেম চলুক অব্যহতভাবে মনে মনে! 
এটি হয়ে থাকলো বিরহী ভস্করের কাছে হৃদয়াকাশের লুব্ধক তিনশ যাট ডিগ্রী মধ্যকোণে ।
এরপর থেকে চলছে অলৌকিক প্রেম প্রতিদিন!!!
গল্পটি এক প্রেমিক ভাস্করের- হারিয়ে যাওয়া প্রেমের তীব্র আকুতি ।
শুনে- আমি অবাক হয়েছি । "প্রেম" আসলেই কিছুটা অলৌকিক নিয়তি !

হিমার্দ্র রাত

হিমার্দ্র রাত
তুমিহীনা সময়
মন্দ বরাত ।

সমস্ত উষ্ণতা ইদানিং তোমার চাদরের আদরে লুকিয়ে রয়েছে এমন মনে হয় ।
আইনত বয়স হয়েছে! হৃদয়ের এমন ভাবনা এখন আর অমুলক নয়!
মাতৃকুল, পিতৃকুলের সব গ্রান্ড পা, গ্রান্ড মা- কেমন কেমন রসিকতা করে শীত নিয়ে,
লজ্জা পাই! মুখ লুকাই! তাদের রসের আলাপ না কমে বরং বাড়ে- পাল্লা দিয়ে!
কি আর করা যায়, স্বাক্ষর দাও সবুজ পাতায়- কবুল বলো তিন বার!
আসছে হিমার্দ্র রাত- বৃথা যেতে দেয়া যাবে না, বরং হোক সে মধুরতম উষ্ণতার ।

নিবেদনটি ছিলো হৃদয়ের গহীন থেকে

নিস্তব্দ মধ্যরাতে একাকী বসে পদ্মাসনে বিছানার পরে, চোখ দুটো বন্ধ করে-
বুকের বাম পাশে ডান হাত রেখে তর্জনী দিয়ে পরপর সাতটি টোকা মেরেছিলাম,
ধমনীতে শিহরণ জেগেছিলো- রক্ত বিন্দু সাঁতরে বেড়িয়ে ছিলো সমস্ত দেহ ।
শ্বাস প্রশ্বাস ধীর লয়ে ফুসফুসে যাওয়া আসার খেলা করেছিলাম-
ধমনীতে শিহরণ জেগেছিলো- রক্ত বিন্দু সাঁতরে বেড়িয়ে ছিলো সমস্ত দেহ ।
আমার হৃদয় মন্দিরে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম- তোমাকে আসবার আমন্ত্রণ ।
জানি, মনের কথা মনে আবেশিত হয় অলোরবেগে যেন বিদ্যুৎচমক-
অলৌকিক প্রেমের বার্তায় মুহুর্তেই হয়- সর্বত্র সলক!
অবশ্য তুমি সেদিনও কাছে নয়, ছিলে দূরে কুঞ্জবনে সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল । 
অথচ তোমার প্রতিবিম্ব ছিলো- আমার হৃদয় মন্দিরে প্রেমাকুল ।
তারপর...
তারপর, কেটে গেলো কতো শীত, এলো কতো বসন্ত- তুমি এলে না !
নিবেদনটি ছিলো হৃদয়ের গহীন থেকে-
এখনো আছি অপেক্ষায়, হয়তো সে সময় হতে পারে অনন্ত- তবে ব্যর্থ হতে পারে না !
ইহলোকে না হলে, হয়তো হবে দেখা পরলোকে ।
কেননা আমার নিবেদনটি ছিলো হৃদয়ের গহীন থেকে ।

লাল সবুজ লাল

সবুজ মানে ভালোবাসা, মাঝে সূর্যদয়ের লাল
আমার হৃদয়ে আঁকা এ ছবি-
অমলিন চিরকাল, উজ্জ্বল চিরকাল ।
লাল সবুজ, লাল । লাল সবুজ লাল ।।

সবুজে ঘেরা আমার এ দেশে-
লাল সূর্য ওঠে হেসে,
এদেশের মাটি, এদেশের মানুষ-
যাই আমি ভালোবেসে ।
জন্ম আমার এ দেশের বুকে-
স্বাধীন সুখের দিনকাল ।।
লাল সবুজ, লাল । লাল সবুজ, লাল ।।

ভালোবাসা আমার একটি দেশ
সোনার মানুষে ভরা বাংলাদেশ,
তারই ভালোবাসায় উঠেছি বেড়ে-
এখানেই চাই আমার দেহাবশেষ ।
ভালোবেসে এ দেশেরই বুকে
থাকতে চাই মিশে চিরকাল ।।
লাল সবুজ, লাল । লাল সবুজ লাল ।।

বুধবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৮

চারটি লেখচিত্র

একুশের লেখচিত্রঃ
বাঙালির ভাষাপ্রেম ফেব্রুয়ারির এক তারিখে শুরু হয়,
একুশ তারিখে সর্বোচ্চ উচ্চতায় যায় ।
এরপর কমতে থাকে তার হার-
ফেব্রুয়ারি শেষ, ভাষাপ্রেম শেষ, লেখচিত্র চমৎকার!

স্বাধীনতার লেখচিত্রঃ
এ চিত্রেরও একই রূপ-
এক তারিখে শুরু, ছাব্বিশ তারিখে সর্বোচ্চ ।
তারপরে স্বাধীনতার চেতনায় ভাটা পরে-
মার্চ পেরোলে থাকে না আর প্রীতির উচ্চবাচ্য!

বৈশাখী লেখচিত্রঃ
অদ্ভুত আমরা- 
তিনটি নববর্ষই করি পালন ।
পহেলা বৈশাখে ষোলা আনা বাঙালি-
এর আগে এবং পরে যেমন ছিলাম তেমন!

বিজয়ের লেখচিত্রঃ
এক ডিসেম্বরে শুরু হয় দেশের গল্প কবিতা গান-
ষোলই ডিসেম্বরে তার অনুনাদ সর্বোচ্চ তান ।
এর পরে নিম্নমূখী, থার্টি ফার্স্ট নাইটে হয় অবসান!

বলো, তুমি বলো-
এসব লেখচিত্র কেন হয় এমন? 
ধারাবাহিক হও, হুজুগ বাদ দাও, 
চারটি লেখচিত্রেরই করো জ্যামিতিক উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ ।।

সবুজ লাল

সবুজ মানে ভালোবাসা, দ্রোহের রঙ লাল
আমার হৃদয়ে আঁকা এই ছবি-
অমলিন চিরকাল, উজ্জ্বল চিরকাল ।।

সবুজে ঘেরা আমার এ দেশে-
লাল সূর্য ওঠে হেসে,
এদেশের মাটি, এদেশের মানুষ-
যাই আমি ভালোবেসে ।
জন্ম আমার এ দেশের বুকে-
স্বাধীন সুখের দিনকাল ।।

ভালোবাসা আমার একটি দেশ
সোনার মানুষে ভরা বাংলাদেশ,
তারই ভালোবাসায় উঠেছি বেড়ে-
এখানেই চাই আমার দেহাবশেষ ।
ভালোবেসে এ দেশেরই বুকে
থাকতে চাই মিশে চিরকাল ।।

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮

বিজয়ী প্রজন্ম

শিশু পাখিটি তরুন হয়েছে । উড়তে শিখেছে । খাদ্য সন্ধানের সংগ্রাম শিখেছে । বাসা বাধতে হবে । এও এক জানা সংগ্রাম ।
বনে বনে ঘুরে ঘুরে তৃণ লতা সংগ্রহ সংগ্রাম । ডাল নির্বাচন । নিরাপদ এবং নিরাপত্তা সহ এটিও করতে হবে । জীবন মান উন্নয়ন সংগ্রাম অবিরাম ।
যুগল নিয়ে থাকার স্বপ্ন । বংশ ধারাবাহিকতা রাখার স্বপ্ন । পাখিটির শত্রুও আছে বলে দিয়েছেন মা-বাবা কানে কানে । তাকে সফলভাবে মোকাবেলার স্বপ্ন ।
এ সব স্বপ্নই তার হৃদয় গহীনে বোনা বীজ ।
আত্মবিশ্বাসী প্রজন্মের পাখি সে- হারবে না কোনদিন উন্নত জীবন সাধনার যুদ্ধে ।
একাত্তরের বিজয়ী চেতনা তার অন্তরে গ্রোথিত তাবিজ ।

পতাকা প্রেম

একাত্তরের বিজয় নিশান
উড়ছে এই বাংলার বুকে,
লাল সবুজের ভালোবাসায়
উড়ছে স্বাধীনতার সুখে ।।

এই পতাকা ভালোবেসে-
হলো শহীদ ত্রিশ লক্ষ প্রাণ,
এই পতাকা ভালোবেসে- 
হারালো দুই লক্ষ মা সম্মান,
পতাকা প্রেমের এইছবি আঁকো- 
তরুন বন্ধু তোমার বুকে ।।

বিজয়ের গানে চেতনা জাগাও প্রাণে
মহান মুক্তিযুদ্ধের,
বুকে রেখে হাত নাও সবাই শপথ
দেশপ্রেম শুদ্ধের, 
দেশ গড়ার স্বপ্ন আঁকো-
তরুন বন্ধু তোমার বুকে ।।

রবিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৮

সমতান

সমতানে-
ক্রম উন্নতি আনে ।
জমিনে লাঙলের ফলার উচু নিচু চাষে মই দিয়ে সমতল করতে হয়-
কৃষক জানে ।
তারপর বীজ বপন । সবুজায়ন । সোনালী ফলন । অন্যথায় নয়-
নায্যতার চাষেও বৈষম্যে মই দিতে হয়-
অথচ, এ কথাটি নাগরিক না বোঝে, না মানে!
সুশাসন তাই বারবার "সু" উপসর্গ হারায়-
সমতানের অভাবে ।
থেকে যায় আইনের ফাঁক-ফোঁকর অথবা মারপ্যাচে-
শোষণের বাসনা জোঁকের স্বভাবে ।
সমতান বাঁজাও, তোমার মনের সারগামে, আইনের শাসনে-
সবাই মিলে মহাধুমধামে ।

কবিতার ইশতেহার

আসছে দিনে কবিতারও কিছু চাওয়া আছে-
কেননা, যদি সাহিত্য বাঁচে, সংস্কৃতি বাঁচে- তবে সমাজ, রাষ্ট্রও বাঁচে!
তাই আসছে দিনে- 
কবিতারও কিছু চাওয়া আছেঃ

কবিতাকে চলতে দিতে হবে আপন গতিতে-
কন্ঠস্বর আটকে দেয়া যাবেনা তার, কোন মতে ।
"কবিতা মাহফিলে" কোন প্রকার বাধা যাবে না দেয়া-
বাধা প্রাপ্ত যেন না হয় জনতা- যাদের ইচ্ছে কবিতার স্বাদ নেয়া ।
কবিতার স্রষ্টাদের নিরপত্তা করতে হবে নিশ্চিত-
তবেই শক্ত হবে সমাজে মুক্তচিন্তার ভিত ।
একটি "জাতীয় কবি ভবন" আছে চাওয়া-
কেননা আড্ডার মাঝেই নব নব সৃষ্টি হয় পাওয়া ।
জাতীয় অধ্যাপকদের মত দেশের প্রথিতযশা কবিদের করতে হবে সম্মান-
সুকুমার বৃত্তির বিকাশে এটি হবে দারুন উৎসাহ প্রদান ।
যেসব কবিগন চাকরি করে করেন জীবিকা অর্জন-
কর্মক্ষেত্রে তাদেরকে হয়রানি করতে হবে বর্জন ।
পুজিবাদ, পেশি শক্তি, ইত্যাদির কাছে হেরে যায় কবিরা- পারে না করতে নির্বাচন,
ইতিহাস বলে,অতীতে রাজসভায় কবি থাকতেন, ধারাবাহিকতায় তার সংসদেও চাই শতকরা একভাগ আসন সংরক্ষণ ।

কবিতার জন্য এই চাওয়াগুলো সবাই মেনে নাও-
কবিতার মত সুন্দর হোক দেশ, শুদ্ধতার নির্বিঘ্ন চাষ কবিদের করতে দাও ।।

সময় যখন একলা চলার

কার পানে চায় চোখ, কোন মনে রাখে আপন মন ?
সময় যখন একলা চলারঃ পার্থক্যহীন দিন-রাত-ক্ষণ!
ঘুরছে ঘড়ি, ঘুরছে মানুষ, ঘুরছে গোলক-
সম্পর্ক বদলে যায়, বদলে যায় প্রেমের শ্লোক!
বাঁচবো না তোমায় ছাড়া, ছাড়বো না তোমায় কোন কালে-
চলে না এসব কথা, ভুলছে সবাই- ভুল প্রেমের ভুল চালে!
এই আত্মকেন্দ্রিক সভ্যতায় বহতা সময় যখন একলা চলার-
কেউ থাকেনা আশেপাশে মুখোমুখি বসে দুটো মনের কথা বলার!
বনলতা কিংবা লাবণ্য... কেউ থাকেনা...
কেউ না...

সোমবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮

বিজয় ফুল

বিজয় ফুল

সাকিব জামাল
আয় বন্ধু খুশি মনে-
ইশকুলেতে যাই,
ইশকুলেতে গিয়ে মোরা
'বিজয় ফুল' বানাই।

বিজয় ফুলের মানে-
এসো, তুমি আমি জানি,
ছয় পাঁপড়ি মানে ছয় দফা,
মাঝে- উজ্জ্বল ৭ মার্চ খানি।

'বিজয় ফুল' পরি বুকে-
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়,
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা-
গড়ে তোলার বাসনায়।

ফড়িং নেতা

ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ ফড়িং ওড়ে রাজনৈতিক ময়দানে,
আদর্শ ভেসে যায়- স্বার্থ স্রোতের কলতানে!!
মিষ্টি মধুর কথা বলে, একবার বসে এই ডালে, 
না মিললে ব্যক্তি স্বার্থ- উড়াল দেয় ঐ ডালে ।
ডালে ডালে ছলে চলে- নিত্য নতুন বাসাতলে,
আদর্শ চুলোয় যাক- যাক না সব রসাতলে!
ফড়িং নেতার রূপ ধরে, ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ ডাল বদল- 
চলছে ভীষণ সবখানে, জনতা শুধু খায় ধকল!
অভাগা জনতা জনম জনম-চেয়ে থাকে কার পানে, 
সময় কাটে বৃথা তাদের আর্দশিক নেতার সন্ধানে!

আয় রাধিকা আয়

গাদা ফুলের মালা দেব
তোর প্রেমের গলায়,
একা কৃষ্ণ বাশি বাজায়
আয় রাধিকা আয় ।।

সবার চোখ ফাকি দিয়ে
গঙ্গা পাড়ে চল,
লাজ ভেঙ্গে মিস্টি হেসে
ভালোবাসি তুই বল ।
জনম জনম সাধনারত
আমি তোরই অপেক্ষায় ।।
আয় রাধিকা আয় ।।

অসীম প্রেমে অসীম সুখে
মেতে উঠি আজ,
প্রেমের ফুলে অলি বসে
কাটুক সকাল সাজ ।
সৃষ্টির সাথে কৃষ্টির মিলন
শঙ্খ সুরে গায় ।।
আয় রাধিকা আয় ।।

বুধবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৮

বরং ভাবো- বেঁচেছো তুমি

ফুলের ভাঁজে ভাঁজে ঘুরে বেড়ায় দুষ্ট ভ্রমর,
অঙ্গে অঙ্গে, ঢঙ্গে ঢঙ্গে, রঙ্গ করে ঢের!
প্রেমের ছলে, কৌশলে কৌশলে, মধুবন উজাড় করে উড়াল মারে অন্য ফুলে,
অপরিপক্ক বোধনে আমোদিত ফুল আবেগে বলে- এসো কিন্তু ফের ।
ভ্রমর আর ফেরেনা! আর ফেরে না!
পূর্ব ইতিহাস গোপন করে- নতুন ফুলে ঠোট ছোঁয়ায় পাক্কা সেয়ানা!
দুঃসংবাদ ভেসে যায় বাতাসে বিরামহীন বেগে-
শুনে কুমারিত্ব হারানো ফুল যায় রেগে,
দুঃখ করে বলে, এ জীবন রেখে কি লাভ- বিষ খোঁজে, 
অনিয়ন্ত্রিত আবেগ জীবনের মানে- না বোঝে, না বোঝে!

আরে বোকা ফুল! কার জন্য আকুল? কার জন্য করতে চাও আত্মহনন?
চরিত্রহীন, প্রতারক, লোভীর জন্য- চাও নিজের মরন? 
বরং ভাবো- বেঁচেছো তুমি ।
বড় বাঁচা বেঁচেছো তুমি ।
দূর্ঘটনা মানতে শেখো, সৌরভ ছড়াও, বিশ্বাস রাখো- ফুল তুমি এখনও আছো ফুল,
নিজেকে গড়ো, ভালোবাসো, স্বপ্ন সাজাও, ভুলে যাও অতীত ভুল ।

এই মন চায়

মন চায়, এই মন চায়, 
দিগন্তজোড়া ঐ নিলীমায়-
চোখে চোখ রেখে দুজনে,
হারিয়ে যাই ভালোবাসায় ।।

এসো উড়ি ডানায় ডানায় মেঘে-
উড়িয়ে ইচ্ছেঘুড়ি তুমি আমি,
এসো বেড়াই ভেসে ভেসে বাতাসে-
যাই সুখের বাড়ি তুমি আমি।
জীবনের বাকি দিনগুলো দুজনে-
কাটাই আনন্দধারায় ।।

এসো গড়ি সীমানাহীন 
একটি ভালোবাসার আকাশ,
এসো গড়ি রাজা রানীর মত
প্রেমের প্রিয় আবাস ।
দাও সাড়া হে নীলাঞ্জনা- 
তোমার দুচোখে আমার স্বপ্ন দেখা যায় ।।

কবিকেও হতে হবে নেতা!

ইতিহাস বলে-
কবি না থাকলে রাজসভা কি করে চলে?
চলে না ! শুরু থেকে সভ্যতার বিকাশে-
কবিগনের ভুমিকা ধনাত্মক প্রকাশে ।
অন্দরমহল থেকে রাজসভা পর্যন্ত- 
কবিদের বিচরন থাকতে হয় আপোষহীন পদযাত্রায় ।
                       থাকতে হয় মানবিক চেতনার মশাল হাতে ।
থাকতে হয় জাগ্রত জনতার কল্যাণে কবিতার খাতায়-
                    নিয়ত শুভ সূর্যোদয়ের প্রয়াসে নব নব প্রাতে ।
রাজনীতি কবিতার অংশ বটে-
তবে, কেবলই, কেবলই তা মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রামী তটে ।
সবার জন্য সমতল পৃথিবী নিশ্চিত করার বার্তা হবে কবিতার খাতা- 
কবিকেও হতে হবে নেতা: আম জনতার নেতা ।

পোশাক দান

উত্তর থেকে বইছে হাওয়া-
হিম হিম ভীষণ শীত,
ছোট বড় কাঁপছে সবাই-
যেন নড়ছে দেহের ভিত !

গরীব দু:খীর বড়ই কষ্ট-
পরার পোশাক তাদের নাই,
আমার সকল বন্ধুর কাছে-
তাদের শীতের পোশাক চাই ।

স্কুলে রাখা দান বাক্সে-
সে পোশাক করবো দান,
শীতে সবাই ভালো থাকবে-
চায় যে আমার প্রাণ ।

সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

ক্রাশ

অসাম লুক এর পাগলীরে তুই
একবার ফিরে চাস,
দেখে যা, এই বুকটা জুড়ে
শুধু তোর নামেই ক্রাশ ।।

তোর মিষ্টি মধুর কথায় ক্রাশ,
হেলেদুলে চলায় ক্রাশ,
তোর রূপে ক্রাশ- গুণেও ক্রাশ,
ও এঞ্জেল তুই-
হ্যাঁ বললেই আমি-
স্বর্গে করবো বাস ।।

দিবানিশি তোরে নিয়ে
ক্রাশ খায় কতো ছেলে,
প্রপোজের বন্যায় ভেসে
যাসনে তুই আমায় ফেলে ।
ও এঞ্জেল তুই-
আমার লাভ রিএকশনে
প্লিজ ভালোবাস ।।

কী সুখ পাইলি বল

ওরে পাহাড় ভাঙ্গিয়া নামে
যেমন অথৈ বানের ঢল ।
সেইরূপ কান্দাইয়া আমায়
কী সুখ পাইলি বল ।
আমারে কান্দাইয়া তুই
কী সুখ পাইলি বল ।।

আমি না হয় ভাইসা গেলাম-
একা দুঃখের সাগরে,
তবু সুখে দেখতে চাই
তোরে জগত মাঝারে ।
তুই দুঃখে থাকলে আমার
চোখে আসবে জল ।
আমারে কান্দাইয়া তুই-
কী সুখ পাইলি বল ।।

তোর সুখই আমার সুখ
বুঝলি না কেন তুই ।
তোর দুঃখে আমার অন্তর
কষ্টের মরু ভুই ।
নিজের ভালো চাইয়া তুই
করলি প্রেমে ছল ।
আমারে কান্দাইয়া তুই
কী সুখ পাইলি বল ।।

আপন কেউ নাইরে আমার

আপন কেউ নাইরে আমার
আপন কেউ নাই,
মনে জমা দুঃখের কথা-
কারে যে শোনাই ।
আমার) সুখের কথা, দুঃখের কথা-
কারে যে শোনাই ।।

রূপকথার গল্পের মত
এক রাজকুমারি ছিলো,
অন্যদেশের রাজা এসে
তারে কেড়ে নিলো ।
সেই থেকে জীবন একা
কষ্টের সীমা নাই!
মনে জমা দুঃখের কথা-
কারে যে শোনাই ।।
আমার) সুখের কথা, দুঃখের কথা-
কারে যে শোনাই ।।

কতো গল্প, কতো গান
আছে হৃদয়ে জমা,
প্রেমের কথা কারে বলি
হারিয়ে প্রিয়তমা ।
না বলা সেসব কথা-
আমি লুকিয়ে বেড়াই!
মনে জমা দুঃখের কথা-
কারে যে শোনাই ।।
আমার) সুখের কথা, দুঃখের কথা-
কারে যে শোনাই ।।

রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮

ভাঁজ খোলো

অন্ধকার গুহায় - কবি এসে বসলেন, বললেন:
ভাঁজ খোলো!
হাসির শব্দ তীব্র হতে হতে আবার থেমে গেলো,
নারী কন্ঠে বললো: পাগল!
কিচ্ছু নেই অবশিষ্ট! কত যুগ যুগ ধরে- যন্ত্রণার শীতল স্পর্শে সব চাওয়া-পাওয়া:
জমে জমে বরফ স্তুপ!
আমি অসহায় অধিকারহারা যুবক গুহার মুখে-
তাদের কথোপকথনে দিয়েছিলাম ডুব, চুপচুপ!
নারী কন্ঠে বললো: দেহকাব্য নয়, মনকাব্য পড়ো ।
কবি, তোমার প্রিয় কবিতা বইয়ের ভাঁজ খোলো-
দেখি, মানবতার কবিতা লিখেছো কতো?
তার চেয়ে কম না বেশি- কাম, প্রেমের কথা বলো যতো?
নারী কন্ঠে বললো: আমার মতো অন্ধকার গুহায় কারো যেন না হয় বাস!
এতোটুকু অনন্ত নিশ্চিত করো তোমার কবিতায়- বিশ্বময় হোক আলোক আবাস ।

আমি পড়ি, পরেরদিন, ঐ কবির কবিতা পত্রিকার পাতায় ছাপা হলো -
কবিতা শিরোনাম: "পুরো পৃথিবী আজ প্রবেশ করেছে অন্ধকার গুহায়, ভাঁজ খোলো!"

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৮

পাঁচটি হাইকু

১.
ব্যাঙের বিয়ে
বরযাত্রীরা যায়
বিমান দিয়ে !

২.
প্রেমের নাও
মনে মিললে মন
তবেই বাও ।

৩.
মেঘের দল
বলে: প্রেম কাননে-
দু:খের জল!

৪.
বৃষ্টির সাজে
প্রজাপতির মন
ফুলের ভাজে!

৫.
আকাশ নীল
জলজ ছলছল
চোখের মিল ।

চলার পথে একটি ছেলে এসে বললো

চলার পথে একটি ছেলে এসে বললো- ভাই,
তোমার কাছে বাঁচার মত- পৃথিবীটা আমার চাই ।।

তুমি কি বোঝনা- ক্ষুধার কি যাতনা ?
দরিদ্রতার কষাঘাতে-কতো শিশু আমরা,
অকালে মারা যাই।।
আমরা) অকালে মারা যাই।।

তুমি কি বোঝনা- মূর্খতার কি বেদনা ?
ভাগ্যের পরিহাসে- কতো শিশু আমরা,
পড়াশুনার সুযোগ না পাই।।
আমরা) পড়াশুনার সুযোগ না পাই।।

তুমি কি বোঝনা- প্রতারণার কি  নির্মমতা ?
অসৎ লোকের চাপে কতো শিশু আমরা,
বিপথে চলে যাই।।
আমরা) বিপথে চলে যাই।।

তুমি কি বোঝনা- ভালোথাকার কি বাসনা ?
এই পৃথিবীতে বাঁচার তরে- কতো শিশু আমরা,
হাহাকার করে যাই ।।
আমরা) হাহাকার করে যাই ।।

রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৮

তবে তুমি মানুষ

কতো মানুষ না খেয়ে মরে,
কতোলোক বাস্তুহারা,
কতো মানুষ চিকিৎসা না পায়,
কতোলোক সর্বহারা ।
এসব নিয়ে তোমার বিবেক
দিয়েছে কভু কি নাড়া ?
যদি নাড়া দেয় তবে তুমি মানুষ,
নইলে মানুষের পরিচয়হারা ।।

কতো মানুষ ভালো পোশাক না পরে,
কতোলোক শিক্ষার আলো ছাড়া,
কতো মানুষ নায্য পাওনা না পায়,
কতোলোক অধিকারহারা ।
এসব নিয়ে তোমার বিবেক
দিয়েছে কভু কি নাড়া ?
যদি নাড়া দেয় তবে তুমি মানুষ,
নইলে মানুষের পরিচয়হারা ।।

কতো মানুষ সুপথ কি চিনলোনা,
কতোলোক দিশেহারা,
কতো মানুষ সুখ কি বুঝলোনা,
কতোলোক আপনহারা ।
এসব নিয়ে তোমার বিবেক
দিয়েছে কভু কি নাড়া ?
যদি নাড়া দেয় তবে তুমি মানুষ,
নইলে মানুষের পরিচয়হারা ।।

বুধবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৮

দীপাবলি এবং দেবদাস

দীপালি ক্ষণে-
ফের আগুন জ্বলে পোড়ামনে!

যখন বয়স আমার বাইশ বসন্ত পেরোলো-
হঠাৎ আঁধার জীবন আঙ্গিনায় আলো জ্বলেছিলো,
ভালোবাসায়- তোমার ছোঁয়ায়, সেদিন ছিলো দীপাবলি রাত ।
আধো আলো আধো ছায়ায় হাত ধরে গেয়ে উঠলে-
আগুনের পরশমনি জ্বালাও প্রাণে...
আমি শুনে মুগ্ধতায় পড়েছিলাম তোমার ধ্যানে-
রাত গড়িয়ে ক্লান্ত চোখে শুরু হয়েছিলো - সেদিন সোনালী প্রভাত ।

তারপরের গল্প: ছোট গল্প ।
তোমার যুগল জীবন চলছে বেশ অন্য পুজারির ঘরে!
আমার একলা জীবন-
এখনো বেঁচে আছে প্রাণ কোনমতে ধড়ে!
গেরুয়া বসনে আমি যখন মনে মনে তোমায় খুঁজি-
এই মন্দির ছেড়ে ওই মন্দিরে যাই যাযাবরের মত-
তখন কতো যুবক প্রশ্ন করে- তোমার গল্প শোনার বায়না ধরে, শোনেনা বারন
ঘোরে পিছু পিছু অবিরত! পাড়ার সবাই জেনে গেছে যে তুমিই এমন জীবনের কারণ!

আমি গল্পে বলি-
প্রেমের আলো নিভতে দিতে নেই ।
যত কষ্ট হোক- করো প্রেম মিলনাত্মক!
প্রার্থণায় বলি- কারও জীবন দেবদাসের মত নষ্ট না হোক, নষ্ট না হোক ।

তুমি কি আমার বৌদি হবে?

তুমি কি আমার বৌদি হবে?
যদি হও, তবে-
তুমি আমার হৃদয়ের লক্ষী,
তুমি আমার হৃদয়ের সরস্বতী,
তুমি আমার হৃদয়ের দূর্গা,
এভাবে সবগুলো দেবীরূপে-
আমার মন মন্দিরে চিরদিন রবে ।
তুমি কি আমার বৌদি হবে?

তুমি কি আমার বৌদি হবে?
যদি হও, তবে-
প্রভাতী সূর্য ওঠার কালে,
সিঁদুর পরিয়ে দেবে দাদা তোমার ভালে,
সে আলোয় আলোকিত হবো সারাদিন ।
আবার সন্ধ্যে বেলায়-
তোমার হাতে সান্ধ্য প্রদীপ জ্বালাবো,
সে আলোয় নিশির আঁধার হবে ক্ষীণ ।
এ জীবনে চলার পথে-
সদা আলোকবর্তিকা হয়ে রবে ।
তুমি কি আমার বৌদি হবে?

তুমি কি আমার বৌদি হবে?
মা, মাসি চলে গেছে-
একলা একলা ফেলে!
বড়দা ভীষণ ব্যস্ত-
কাজে, টাকা কোথায় মেলে!
আমি বেকার, দু:খে সময় কাটাই -
মাথার উপর ছায়ার মত কেউ নাই, কেউ নাই ।
একলা চলা তপ্ত রোদে-
ছায়া দেয়া বটবৃক্ষ হয়ে রবে,
তুমি কি আমার বৌদি হবে?

সোমবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৮

কতো কি দেখবো ভাইজান!

কতো কি দেখবো ভাইজান-
বিএনপির সমাবেশে- আওয়ামী লীগের শ্লোগান!
কতো কি দেখবো ভাইজান-
আওয়ামী লীগের সমাবেশে- বিএনপির শ্লোগান!

চেয়ে চেয়ে, দেখে দেখে লাভ কি?
কন্ঠে চাবি আমরাও বাড়িয়ে দি!
শ্লোগান ধরো, শ্লোগান ধরো-
মসনদ বড়, মসনদ বড়!
তাতে যদি হয় হোক-
আদর্শ ভেঙ্গেচুড়ে খান খান!

কতো কি দেখবো ভাইজান-
নয়া রাজনীতিতুন টাসকি খাইজান!

নদীর বুকে চাঁদ ডুবেছিলো একদিন

মনে পড়ে, মনে পড়ে আজও, নদীর বুকে চাঁদ ডুবেছিলো একদিন,
সে কী রূপোলী জলকেলি! স্বপ্তসুর, নুপুর, নৃত্যরূপঃ তা ধিন ধিন ।
ঢেউচুড়া অষ্টাদশী যুবতীর বুক-
বলতে গেলে, নদীর পুরো দেহে ছিলো কেমন কেমন ভীষণ সুখ!
লেপ্টে থেকে থেকে কিছুটা এগিয়ে নাভীকুপ ঢেউ পাদদেশ,
খবর অজনা সেসব! কতো নাবিক এমন জোসনা রাতে হয় নিরুদ্দেশ!
এরপর নদীর মোহনাঃ জলে জল মেশে,
মোচড় খায় যুবক হৃদয়, দেহ কাঁপে ভেসে বেড়ানো কচুরিপানা বেশে ।
সেদিন কচুরিপানায় অবশ্য রঙিন ফুল ফোটে!
চুমুক লাগায় জল- পাখি ঠোঁটে!
নদী, পাখি, সময়- সব, সব হারিয়ে ফেলেছিলো খেই!
দুর্ভাগ্য তখন, নদীর বুকে বাসা বাধতে দেবার জায়গা নেই!
পাখি উড়ে গেলো, সুরেলা কন্ঠে ছিলো বিচ্ছেদী বীণ-
মনে পড়ে, মনে পড়ে আজও, নদীর বুকে চাঁদ ডুবেছিলো একদিন ।
মনে পড়ে, পড়ন্ত জীবন বিকেলে- অল্প সল্প, সঙ্গ গল্প, সে সময় ক্ষণকাল ।
আহারে মানব জনম! সুখ সে অস্থায়ী, দুঃখ দীর্ঘকাল ।

বৃহস্পতিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৮

প্রেমের সংলাপ

বালিকা,এসো খোলা মনে-
তোমার সাথে করবো প্রেমের সংলাপ ।
আমি বলি-ভালোবাসি, তুমি বলো- ভালোবাসি,
মোড়কে চাই না কোন সত্যের অপলাপ।

সফল সংলাপ সঙ্গম শেষে,
আমাদের অনাগত আত্মজ-আত্মজার জন্যে,
কার্যকর যুগল কর্মপরিকল্পনায়,
টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির সাধনায়-
বালিকা, এসো খোলা মনে-
তোমার সাথে করবো প্রেমের সংলাপ ।
প্রেমে শতভাগ আস্থা রেখে, সত্য বলছি-
এসব নয় কোন ভ্রান্ত প্রলাপ ।

আমাদের ভবিষ্যৎ যুগল জীবনে-
পূর্ব অথবা উত্তর কোন শর্ত নেই আমার !
এই হৃদয় ভুখন্ডে শুধু ভালোবাসার পতাকা উড়বে,
পারাস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে নির্ধারিত হবে তোমার-আমার অধিকার ।
বালিকা, এসো খোলা মনে-
তোমার সাথে করবো প্রেমের সংলাপ ।
সমঝোতার সুশৃংখল ভাবনায়-
আগামী সুসময় গড়ি- জয় হোক প্রেমের প্রতাপ ।

মোটর বাইকে নারী

মোটর বাইকে চালক নারী দেখে-
পুরুষমন আড়চোখে তাকায়,
মেনে নিতে বোধহয় কষ্টহয়
এগিয়ে চলার এ প্রচেস্টা "সমতায়"!

সহজপাঠঃ গতি হতে হবে সমান-
যৌথ অগ্রযাত্রার পথে ।
ভ্রান্তপাঠঃ পুরুষমনের বেঁকে বসা বারবার-
যৌথ জয়যাত্রার রথে ।

"মোটর বাইকে চালক নারী"
একটি উদাহরণ মাত্র ।
আমিও পুরুষ! তবুও তোমায় বলছি,
এসো হয়ে যাই, মনযোগী ছাত্র-
দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের পাঠে ।
চিন্তার "অসাম্যতা" রোধে ।
এগিয়ে চলুক পুরুষ, এগিয়ে চলুক নারী-
"সমতাবোধে" ।

হেমন্ত রজনী বয় সুমন্দ সমীরণ

হেমন্ত রজনী-
বয় সুমন্দ সমীরণ
সখীর পরশে-
শিশিরে ভেজে মন ।।

নিশুতি বেলায়-
কবি মন কি চায়? কি চায়?
বোঝেনা, বোঝেনা  কবিতা-
আহারে ! সখী মন ।।

দিপালী ক্ষণে-
তবু আছি বিরহ আঁধারে !
মিনতি সখী, প্রেমের প্রদীপে-
সাঁজাও মোর মন ।।

সোমবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৮

সড়ক পথে হোক শৃংখলার জয়

আমার মূখেও পেট্রোল মবিলের কালি মেখে দে!
নিয়ে নে কিছুটা বিকৃত সুখ!!
তোরা জাতির মুখ কতো করলি ফর্সা-
এবার সবাই চোখ মেলে দেখুক!!!
বাহাদুরীর রূপ এই যদি হয়-
তবে বেশ, তবে বেশ!
গাড়ি চালা ইচ্ছে খুশি বেপরোয়া-
কিসের মানুষ, কিসের দেশ!!
------
মনেরেখো, শ্রমিকেরাও কিন্তু যাত্রী বটে!
তবে, নিরাপদ সড়কে ক্ষতি কি?
জানোতো, যেদিন দুঃখ নামে আপন ঘটে-
সেদিন বোঝা যায় তার জ্বালা কি!!
যাত্রী-শ্রমিক দ্বন্ধে সবার ক্ষতি-
অবুঝের দল আমরা বুঝবো কবে?
চলার পথে শান্তি না থাকলে-
তুমি-আমি কে বলো সুখে রবে?
------
অযৌক্তিক দাবীনামা কারও পক্ষেই উচিৎ নয়!
এসো, সুন্দরের পথে, সড়ক পথে হোক শৃংখলার জয় ।

জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না!

জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না !
অডিও ভিডিও লাইভ চ্যাটিং,
লং ড্রাইভ আউট গোয়িং,
রেস্টুরেন্টে ট্রিট, মিটিং
বইপড়ার সময়? ওটা তাদের মেলে না !
জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না !

স‌্যোশাল মিডিয়া সেলফি ঢঙ
মনে বড় পশ্চিমা রঙ
আপলোডিং আর ডাউনলোডিং,
সাহিত্য সংস্কৃতিতে সময় বোরিং!
কবিতা? ওটা এ যুগে চলে না !
জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না !

প্লেবয়, ভোগ, ফোর্বস এসবই বেশ
কতো মর্ডান, আপডেটেড !
সাহিত্য কাগজে আছে কি রেশ ?
ওসব বড় ব্যাক ডেটেড !
সাহিত্যপাতা? ওটাতে মন মাতে না !
জানেন দাদা, বড়লোকে কবিতাটা ভালোবাসে না !

তবে আমি যা মেনে চলি-
প্রশস্ত হৃদয়কে বড়লোক বলি ।
সংস্কৃতিমনা যারা- তারাই ভালো,
জগতে আনে- তারাই আলো ।
জানেন দাদা, এসব লোকে- 
কবিতা ভালো নাবেসে পারে না !

উত্তর হাওয়া

উত্তর হাওয়া

- সাকিব জামাল

মন বনে বইছে উত্তর হাওয়া-
ভালোবাসার পাতাযুগল যায় যায় ঝরে!
উষ্ণ সুখের সময় বদলে যাওয়া-
বিরহে দিন কাটে শীতলভরা ঘরে!


সবুজ সবুজ পাতা হলুদ হলুদ হয়
প্রেমের যতন চায় ফিরে ফিরে!
ভুলে ভুলে স্বজন দূরে দূরে রয়-
ফোটে না ফুল পাতাহীন নীড়ে।


তবু বেঁচে রয় শুকনো কাঠের গাছ-
বাতাসের দিক যদি আবার ঘোরে!
হয়তো হবে সেদিন অনুকুল বাস
বাসনায় মন অপেক্ষা যাতনায় পোড়ে!


আমি ফানুস ওড়াবো

এই লক্ষী জোছনায়-
তোমার হৃদয়াকাশ
আমাকে কিগো চিরতরে
দান করা যায়?
আমি ফানুস ওড়াবো,
একটু ফানুস ওড়াবো ভালোবাসায় ।।

মন মন্দিরে আজ ইচ্ছেরা-
নিরলস শুধুই উড়ছে, 
দেবী ভেবে ভেবে তোমায়-
পুজারী মত চারপাশে ঘুরছে, 
ঢোল বাজিয়ে কিগো
রটিয়ে তবে দেয়া যায়?
আমি ফানুস ওড়াবো,
একটু ফানুস ওড়াবো ভালোবাসায় ।।

কথা দিলাম আমার ফানুস,
দেখে অবাক হবে সকল মানুষ!
প্রেমের আলো করবে দান
যতদিন এ জীবন রবে বহমান!
তবে কিগো জোছনাবতী
তাকাবে আমার পানে মনের মায়ায়?
আমি ফানুস ওড়াবো,
একটু ফানুস ওড়াবো ভালোবাসায় ।।

কী আছে তোর দাম?

সাধের যৌবন, সোনার দেহ-
কী আছে তোর দাম!
দম ফুরাইলে ভুইলা যাইব
মানুষ তোরই নাম ।।
কী আছে তোর দাম?


গাছে থাকা রঙিন ফুল 
কতো কদর পায়,
ঝরা ফুল পরে থাকে
খবর থাকে না হায় !
গান করা প্রেমের ভোমর
একদিন দেয় বিরাম ।।
কী আছে তোর দাম?


সুখ বসন্তে কত পাখি 
গায় সুরেরই গান !
শীত আইলে হইয়া যায়
সব নিমিষে অবসান ।
রঙ্গের মেলা ভঙ্গ হইলে
কারবারি কয় থাম ।।
কী আছে তোর দাম?

মানব জনম ক্ষণকালের
গোধুলি রাঙের খেলা,
ডুইবা গেলে সূর্য খানা 
সারা হইব বেলা ।
সাকিব জামাল কয়, শোন
কর সুপথে সৎ কাম ।।
কী আছে তোর দাম?

কী আছে তোর দাম | সাকিব জামাল

মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৮

বাংলাদেশ ফুল

"বাংলাদেশ ফুল" সর্বক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে ফুটুক,
ছুটে চলুক জয়রথ বাঙালির, অবিরাম চলুক ।

একাত্তরে যে ফুল বাঁচিয়েছেন যুদ্ধ করে আমার পূর্বসুরী-
সে ফুলের সৌরভ সর্বত্র ছড়িয়ে দেবো আমরা উত্তরসূরী ।

নতুন প্রজন্মের এই প্রধান কাজ দেশ মাতার তরে -
শুধু দেশেই নয়, স্বপ্ন বড়: সুখ এনে দেবো বিশ্বের সবার ঘরে ।

সোনার বাংলার পতাকা উড়বে স্বগৌরবে বিশ্বের মাঝ-
"বাংলাদেশ ফুল" ফুটবে পুন:পুন - আসবে জয়ের তাজ ।

নিখাঁদ গুরু চাই

জীবন নদে ঢেউ উঠেছে
তুফানে ডুবে যাই ।
সাতার জানা, প্রেমের মানুষ
নিখাদ গুরু চাই ।
একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।
আমি একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।।

মোহনার মাঝে পথ হারাইয়া
হাবু ডুবু খাই 
মাঝি হইয়া গুরু এসে
নাওয়ে দাও ঠাই ।
সত্য পথে চলতে ফিরতে
নিখাঁদ গুরু চাই ।
একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।
আমি একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।।

একা একা সাধন মর্ম
বোঝার শক্তি নাই
বৈঠার টানে নাও ধাবরাইয়া
উল্টে পরে যাই ।
নাও বাওয়ার নিয়ম শিখতে 
নিখাঁদ গুরু চাই ।
একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।
আমি একটা নিখাঁদ গুরু চাই ।।

আমি বারোমাস তোমায় ভালোবাসি, বাচ্চু ভাই!

হেমন্তের রৌদ্রোজ্জ্বল স্নিগ্ধ সকাল –
মনে হলো আঁধারে ঢেকে গেলো একটি নক্ষত্র পতনের খবরে ।
মনে পড়লো সবুজ ঘাসের ডগায় মুক্তোর মত রূপালী শিশিরও উবে যায় - সময় ফুরিয়ে গেলে ।
এ নিয়ম কেউ ভাঙতে পারেনা ঠিকই-
তবে দু:খবোধ জমা থাকে স্থায়ী রূপে ।
কান্নায় শুরু যে জীবনের । তা অন্যের কান্নায় শেষ করতে কজনে পারে ?
সফলতা এখানে তোমার।
তোমার প্রয়াণে- ঠিকই মনের আকাশে মেঘ জমে গেলো,
হৃদয়ে কান্নার জলধারা বহতা খরস্রোতা নদী ।
হয়তো যতদিন বেঁচে থাকবো - ততোদিন অনুভব করবো তোমার রূপালী গিটারের সুর । 
ভারাট কন্ঠে প্রেম -বিরহ - মানবিক এবং দেশের গান শুনবো । শুধু তুমি থাকবে বহুদূর !
হে ব্যান্ড গুরু, অসম্ভব রকম বেশি ভালো থেকো স্বর্গীয় ভালোবাসার জগতে ।
কথা দিলাম: ঐ নীল আকাশে মিটিমিটি চিরদিন-
আমি তারা গুনবো তোমার নামে!
আমি বারোমাস তোমায় ভালোবাসি, বাচ্চু ভাই !
--------------------------
উৎসর্গ : সদ্য প্রয়াত ব্যান্ডশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে ।

অষ্টমীর বালিকা

চলছে পুজো... শুভ ক্ষণ, মহা অষ্টমীর দিন ।
বালিকা, মনে রেখো- তোমার কপালে সিঁদুর পড়াবো একদিন ।
কতোটা বসন্ত বুকে চাঁপা রেখে পেরিয়েছি কতো শরৎ একা-
অবশেষে পেমের দেবী সাধনাতৃপ্ত । হলো তোমার-আমার দেখা ।
শুভ ক্ষণ, মহা অষ্টমীর দিন ।
তোমাকেও দেবীর মত লেগেছে! চোখে মনে অন্তর কোনে কোনে-
মন্দির সাঁজিয়ে সপ্ত অর্ঘসমেত ঠায় দাড়িয়ে আছি লুকায়িত সপনে-  
তোমার কপালে সিঁদুর পড়াবো একদিন ।
অষ্টমীর বালিকা থেকে আমার প্রেমের রাধিকা হবে সেদিন ।।