রবিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫

যখন একা একা লাগে

 মাঝ রাতে যখন একা একা লাগে

জোছনা রাতে যখন একা একা লাগে
হুতুম পেঁচার মতো তখন
জেগে থাকি আমি
সে যে কী বিষন্নতা, তুমি বুঝবে না।
যদি বুঝতে তবে ছেড়ে যেতে না।।

শীতের কুয়াশা ভিজিয়ে দেয় আমায়
চোখের জল ঝরে মিহি মিহি ফোটায়
একটা চাদর নিয়ে
এগিয়ে আসে না কেউ!
সে যে কী একাকিত্ব, তুমি বুঝবে না।
যদি বুঝতে তবে ছেড়ে যেতে না।।

মাঝ রাতে যখন একা একা লাগে
জোছনা রাতে যখন একা একা লাগে
হুতুম পেঁচার মতো তখন
জেগে থাকি আমি
সে যে কী বিষন্নতা, তুমি বুঝবে না।
যদি বুঝতে তবে ছেড়ে যেতে না।।

উত্তর হাওয়ায় কেঁপে কেঁপে আসে ভোর
সূর্য ওঠে পূবের আকাশে হেসে
অথচ আমি ডুবে যাই
তুমিহীনা ঘণঘোর আধারে!
সে যে কী অমাবস্যা, তুমি বুঝবে না।
যদি বুঝতে তবে ছেড়ে যেতে না।।

মাঝ রাতে যখন একা একা লাগে
জোছনা রাতে যখন একা একা লাগে
হুতুম পেঁচার মতো তখন
জেগে থাকি আমি
সে যে কী বিষন্নতা, তুমি বুঝবে না।
যদি বুঝতে তবে ছেড়ে যেতে না।।

রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

আ হার্ট ডিভাইডেড বাই টু

আ হার্ট ডিভাইডেড বাই টু

- সাকিব জামাল


দুঃখকে আমি বিলাস করে পুষি

ক্ষণিকের প্রিয়তমা'র মতো

ছেড়ে যায় না। সে;

আকাশ যেমন ঘিরে রাখে

শূন্যতার মায়ায়

এই পৃথিবী। দুঃখমূখর সময়ে

পেখম মেলে মন আমার

মহাকর্ষ প্রেমে। খেলা করি

মান-অভিমানে; হৈমন্তি জোছনায়

নীল অপরাজিতার মোহে।

চা দিও, চিনি কম

 

চা দিও, চিনি কম

- সাকিব জামাল
প্রেম ও পূর্ণিমার পরে
সময় ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়, দ্রুত।
সন্ধ্যায় ক্লান্ত সূর্যের ভির দেখি
চায়ের দোকানে।
"মামা, চা দাও, চিনি কম।"
চুমুকে চুমুকে জীবনের হিসাব
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি জাবর কাটে
আদা চিবানোর স্বাদে!
বাড়ে অন্ধকার,
ঘণঘোর ডিপ্রেশন।
অমাবস্যার প্রহরসমস্ত
বুকে বাড়ায় পালপিটিশন।
এই জনমের খবর শুনি,
কুচকাওয়াজ হবে না এবার!

সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০২৫

প্রবন্ধ:: নভেম্বর এবং জুলাইয়ের পলিটিক্যাল লিগ্যাসি

 নভেম্বর এবং জুলাইয়ের পলিটিক্যাল লিগ্যাসি

------
ঐতিহাসিক সাতই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পলিটিক্যাল লিগ্যাসি একইসূত্রে গাঁথা। কারণ সাতই নভেম্বর, ১৯৭৫ এর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পলিটিক্যাল ফোর্স আর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পলিটিক্যাল ফোর্স দুটোর অরিজিন একটাই। পার্থক্য শুধু জেনারেশনের।

পচাত্তর এবং চব্বিশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে ঘটে যাওয়া এই দুইটা ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পলিটিক্যাল ফোর্সের অরিজিন আসলে কী?

সহজ উত্তর হলো, বাংলাদেশপন্থার রাজনীতির পিপলস পাওয়ার।

নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখবেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশপন্থার রাজনৈতিক গণপরিসর সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব একটি প্রতিবেশি দেশের প্রতি এতোটাই নতজানু ছিল, যেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ শুধুমাত্র একখণ্ড নিজস্ব ভূমি পেয়েছে যার সার্বভৌমত্ব মূলত প্রতিবেশির দয়ার ভান্ডারে রক্ষিত গণিমতের মাল। এবং এই নতজানুতার মাত্রা এতোটাই বেশি ছিল যে, এই দেশের সর্ব মহলের জনতা এইটাকে অরক্ষিত স্বাধীনতা যা মূলত পরাধীনতার একটা রূপ মনে করতে শুরু করেছিল তখন। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল চরম দুর্নীতি, জনজীবনে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা, দুর্ভিক্ষ- এইসব পেরিফেরাল ফ্যাক্টর। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নকে উপেক্ষা করে তখনকার রাজনৈতিক ডোমেইন থেকে ডেমোক্রেসি উদাও হয়ে গেল একটি দলের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল রাখার প্রতি লোভের কারণে। সকল প্রকার ভিন্নমত দমন করে চিরস্থায়ী রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি করতে গঠিত হয়েছিল বাকশাল।

এবং এইসব নন-ডেমোক্রেটিক পলিটিক্যাল এক্টিভিটিস,  দুর্নীতি, দুর্ভিক্ষ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতি শাসক আওয়ামীলীগের উদাসীনতায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে বাংলাদেশের জনগণ বিপ্লবী মোডে চলে যায়। তারা তৎকালীন রুশ ভারতের দালালদের উৎখাতে রাজপথে নেমে আসে বঙ্গোপসাগরের সুনামি হয়ে। অপরদিকে রক্ষীবাহিনী কর্তৃক সেনাবাহিনী ধ্বংসের নীল নকশা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার চেষ্টাকে প্রতিহত করতে সাধারণ সিপাহীরা যুদ্ধাবস্থার মুখোমুখি হয়ে পড়েন। তখন সংগতকারণেই সিপাহী-জনতার ঐক্য হয়ে যায়। নভেম্বরে এইটা মূলত পলিটিক্যাল ফোর্স হিসেবে রূপ নেয়। যেই ফোর্স স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে ঘিরে সার্কুলেটেড হতে থাকে। এবং সর্বশেষ সিপাহী-জনতার বিপ্লবে রূপ নেয় এবং চূড়ান্ত সফলতা অর্জিত হয় যখন জেনারেল জিয়াউর রহমান, বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে জনতার জিয়ায় পরিণত হন। রাজনৈতিক গণপরিসরি উদ্ভব ঘটে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতির এবং পুনরুদ্ধার হয় বাংলাদেশের ক্ষয়িষ্ণু সার্বভৌমত্ব। 

ইতিহাস পাঠে আমরা এখনকার প্রজন্ম এমনটাই জানতে পেরেছি ছেটোবেলা থেকে। যাহোক ইতিহাসের আলাপ করা আলোচ্য বিষয় নয়, বরং মূলত সাতই নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পলিটিক্যাল ফোর্সের অরিজিন যে কেবলমাত্র বাংলাদেশপন্থি রাজনৈতিক গণপরিসর বিনির্মাণের লক্ষ্যে উৎসারিত পিপলস পাওয়ার সেটিই মূলত আলোচ্য আজ।

এইবার একটু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পলিটিক্যাল ফোর্সের অরিজিন খোঁজখবর করে দেখা যাক!

আমরা নব্বই পরবর্তী প্রজন্ম থেকে বর্তমান জেনজি প্রজন্ম যখন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকলাম, প্রাপ্ত বয়স্ক হলাম, এর মাঝে হয়তো এক দশক কিছুটা গণতান্ত্রিক উত্তরণ লক্ষ্য করেছিলাম বাংলাদেশের রাজনীতিতে। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য আমাদের, কী দুর্ভাগ্য জাতির! এক/এগারো সরকারের এক্সিট পলিসি'র নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেই সেই আওয়ামীলীগ আবার একাত্তর থেকে পচাত্তরের নীতিতে ফিরে গেল!

আবার অন্ধকার! সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়ার উৎসব সর্বত্র! শতভাগ পররাষ্ট্রনীতি, বাণিজ্যনীতি হলো প্রতাবেশীর পলিসিনির্ভর। ফলতঃ সীমাহীন দুর্নীতি আর হিডেন দুর্ভিক্ষের কবলে দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একইসাথে সার্বভৌমত্ব রক্ষাপন্থিদের গুম, খুন, নির্যাতন চলে অবিরত। নন-ডেমোক্রেটিক রাজনীতিনির্ভর মাফিয়াতন্ত্র গড়ে তোলা হয়। ঠিক যেন একাত্তর থেকে পচাত্তরের রিপিটিশন কিন্তু মাত্রা আরও বেশি, সময় আরও দীর্ঘ। এইমতাবস্থায় বাংলাদেশপন্থার রাজনীতি পুনরুদ্ধারে অনিবার্য ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। জুলাইয়ে ছাত্রজনতার অভূতপূর্ব ঐক্য হলো। ফ্যাসিবাদের বিদায় ঘটিয়ে এলো বিজয়। তাই স্পষ্টতই, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পলিটিক্যাল ফোর্স ঠিক যেন নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ফোর্স থেকে নতুনভাবে জেনারেটেড পিপলস পাওয়ারের পুনরুত্থান।


সুতরাং সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পলিটিক্যাল লিগ্যাসি পিপলস পাওয়ার যা মূলত বাংলাদেশপন্থি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মানের আকাঙ্খা। এই লিগ্যাসিকে কখনও ভিলিফাই করলে তখনই আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগতে হবে সকল পক্ষকে। ফলতঃ বিপন্ন হতে পারে স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব। তাই কেবলমাত্র স্থায়ীভাবে বাংলাদেশপন্থার রাজনৈতিক ঐক্যই হতে পারে নভেম্বর এবং জুলাইকে অমর এবং অম্লান করে রাখার পরাগমেটিক মুভ। বাংলাদেশি জনগণের সামষ্টিক স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক।
------
সাকিব জামাল, কবি ও ব্যাংকার।

না-পাইলাম তোমারে, না-পাইলাম আমারে

 

না-পাইলাম তোমারে, না-পাইলাম আমারে

- সাকিব জামাল
একটু একটু করে বাড়ে রাতের নিস্তব্ধতা;
একটু একটু করে বাড়ে হৃদয়ে দুঃখ আমার। 
অথচ বইছে হাসনাহেনার ঘ্রাণ,
একেলা ঘরে মাতাল প্রাণ,
কথা ছিল এমন সৌরভে-                   
কন্ঠে বাজবে তোমার; 
মিলন হবে কতোদিনে...
সাঈজি'র আধ্যাত্মিক এই গান! 
না গাইলে গান, না দিলে দেখা
নিজেরে পাওয়ার পথ রইল অজানা!
না-পাইলাম তোমারে,
                     না-পাইলাম আমারে...
সময় বইয়া যায়,
আর রইয়া যায় জনম- মানবহীনতার দুয়ারে!

বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫

দ্য আনবিটেন নভেম্বর

 দ্য আনবিটেন নভেম্বর

সাকিব জামাল 

নভেম্বর। দ্রোহে দ্রোহে লাল চোখের ডাহুক;
জনতার সারি। রক্তজবার মতো টগবগে 
সিপাহীদল, উন্নত শির। শ্লোগানে, গানে 
রাজপথে ওড়ে পতাকা, লাল-সবুজ।
বিপ্লবী হুংকার, 
ভুলুন্ঠিত স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান,  
"রুশ ভারতের দালালেরা
হুশিয়ার, সাবধান।"
বঙ্গোপসাগরে জাগে ঢেউ,
ঢেউ জাগে মানুষের মনে; জনে, জনে।
প্রকম্পিত ঢাকা। থরথর কেঁপে ওঠে 
সকল ষড়যন্ত্রের মসনদ।
দীর্ঘকালীন অন্ধকার কেটে,
পূর্ব দিগন্তে ফুটে ওঠে ফের
নতুন পাপড়ির ফুল। বাংলাদেশফুল। 
অতুল। চির ভাস্বর।
শান্তি ও ঐক্যে; পায়রা ও পাখিরা গান ধরে,
"প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ।"
বাংলাদেশপন্থায় ফেরে স্বাধীন একাত্তর!
সাতই নভেম্বর। নভেম্বর, পচাত্তর।
মুক্তিযুদ্ধের রক্তের লিগ্যাসি,
সিপাহী-জনতার বিপ্লবে বিজয়ী,
লাল-সবুজের পতাকায়
জনতার জিয়া, 'বাংলাদেশ' হয়ে মিশে যায়! 
-------

রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

ঝরাপাতার গান

ঝরাপাতার গান

- সাকিব জামাল


হলদে পাতার বনে, মনে

ঝড়ে যেতে দাও বিমর্ষ পাতাসব,

দুঃখবোধ মুছে;

বসন্তদিনের অপেক্ষায়

শুরু হোক নতুন কোলাজে

সবুজের কলরব।

দিনান্তে, নৈসর্গিক শতফুলের

মহুয়া সৌরভে,

সারামন, বন সাজুক

ডেমোক্রেটিক ইনক্লুশনে!

চাঁদের মধ্যে লুকিয়ে ছিল সাপ!

 চাঁদের মধ্যে লুকিয়ে ছিল সাপ!

 সাকিব জামাল


নৈসর্গিক সন্ধ্যারঙ পোহাতে পোহাতে

নিস্তব্ধ রাত্রির সাথে দেখা হয়েছিল

অকৃত্রিম প্রেমে।

অল্পক্ষণের আলপনা এঁকে

ধীরে ধীরে বৃহস্পতি'র মোহে;

চোখে চোখ রাখতে চেয়েছিলাম

পূর্ণচাঁদ আকাশে!

ভ্রমের ভ্রূণ ততক্ষণে ব্লাক হোল;

সাপের দংশন বুঝতে পারেনি

লোনা জনম আমার।

প্লুটো'র ফিজিক্স মেনেই

জানাতে হলো,

আল বিদা, ইউনিভার্স।

মানবরূপ অধরাই রয়ে গেল! সাঁই!

বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

আ মিস্টিক মিডনাইট

 আ মিস্টিক মিডনাইট

- সাকিব জামাল


আইয়ো তুমি, আইয়ো 

আইয়ো বন্ধুয়া রাইতের মধ্যকালে,

প্রেমের এই অকাল জামানায় 

কেউ প্রেম করে না, ভালোবাসে না

বন্দি কেবল অ্যামোরাস নেশায়!

সেই কালে, আমি তোমারে ভালো পাই।

ভালো পাই অন্তর দিয়া;

এক মহুয়া রাইতে,

জোছনা পোহাবো নিরালায়

চান্দের লগে পাল্লা দিয়া;

কে বেশি, কতকাল 

রজনীগন্ধার আলো জ্বালাইতে পারে?

বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫

পরিষ্কার হৃদয়ের জলছবি

 পরিষ্কার হৃদয়ের জলছবি

- সাকিব জামাল


হৃদয় আমার ফকফকা পরিষ্কার 

প্রথমে এঁকেছি সেখানে 

একুশের শহীদ মিনার। 

আরও একটু করে পরিষ্কার 

এঁকেছি সেখানেই 

বধ্যভূমি রায়েরবাজার।

আরও আরও করে পরিষ্কার 

এঁকেছি জাতীয় স্মৃতিসৌধ, 

আত্মত্যাগের ছবি লাখো জনতার। 

ক্ষান্ত দিলাম এইখানে এইবার 

হৃদয় আমার,

করতে পারবো না আর 

উহু, একটুও, একটুও পরিষ্কার!

বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

এই পাথর সরিয়ে নিও কেউ

এই পাথর সরিয়ে নিও কেউ
- সাকিব জামাল

প্রাক্তনদের ছুড়ে মারা পাথরে, পাথরে
ভেঙেচুরে স্বপ্ন; বিরহক্লান্ত, ভীষণ চাপা এই বুক,
অথচ, একটুও সরালো না কেউ!
উল্টো ফিক করে হেসে হেসে
চলে গেল অনেকেই।
পাথরচাপা ন্যুব্জ প্রেমিক বলে;
আমায় দেখে- তাচ্ছিল্যের সুরে  শিস্ দেয়,
"লুজার সিটিজেন!"
শুনে শান্তভাবে, ডিপ্রেশনে
ডুবে রইলাম দশকের পর দশক।  
ফি বছর ফের স্বপ্ন
এই পাথরগুলো সরিয়ে নিও কেউ,
দিও সুশাসন সুন্দর জমজমরূপ;
প্রেমিকের জমিনে, জামানায়!

সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০২৫

প্রাক্তন নীড়

প্রাক্তন নীড়

সাকিব জামাল


গ্রামে; সন্ধ্যা নামার রঙে

যতোটুকু দুঃখ মিশে থাকে আমার

সিকিভাগ তার, যদি জমা নাও তুমি
তবেই প্রিয়তমা; হবো না আর
অন্যপথের যাত্রী। প্রাক্তন নীড়ে-
ফিরে ফের গড়বো বসতি।

স্বাক্ষী দিগন্তরেখা।

বিষাদরঙ ভেঙে;
চরাচরের পাখিদের সাথে মিশে যাবো।
একাকীত্ব দিবো বিসর্জন! তুমি
ধরবে মিলনের গান, নিস্তব্ধ রাতে
এই ডালে, ওই ডালে;
জোনাকিদের আলোকসজ্জায়
মাতাল নৈসর্গিক প্রেমে!

আহ্! সন্ধ্যায়, প্রতিটি সন্ধ্যায়-
ফিরি প্রাক্তন নীড়ে; মন চায়,
অথচ ফেরা হয় না আর!

সোমবার, ২৮ জুলাই, ২০২৫

গুলবাহার

 গুলবাহার

সাকিব জামাল 

বাপের দোকানে বেগার খাইট্টা 
বাইজা গেছে বিকাল তিনটা,
কাচ্চি খিলাইয়া; মহল্লা দিয়া হাটতাছি 
আর পান খাইতাছি; ভালো-মন্দ খাইয়া পান খাওন 
একটা নবাবী নেশা। হঠাৎ উপরে চাইয়া দেখি-
বেলকুনিতে দাড়িয়ে আছে; গুলবাহার। 
চান্দের লাহান মুখ তার।
চিক্কুর পাইরা কইলাম,
পান খাইবা নি?
গুলবাহার কয়, তওবা, তওবা ঠোঁট হইবো লাল।
বাপ-মায় দেখলে কইবো, বেইজ্জতি কারবার।
পাড়া-পড়শি কইবো, কেঠাগো তোর পেয়ারী লাল!
আমি কই, 
ভুল যা, আবে হালা সব ভুল যা!
তু মুজে হোগায়া পেয়ার!
গুলবাহার হেসে খান খান।
ওই কইরে পাতলা খান?
লাগা একখান পান, লগে দিস চমনবাহার!
সেই দিন থেইক্কা-
গুলবাহার, 
মায়াহীন এই শহরে
আশ্রয় আমার!

মঙ্গলবার, ২২ জুলাই, ২০২৫

এঞ্জেল মাহরিন ম্যাম

 এঞ্জেল মাহরিন ম্যাম

- সাকিব জামাল

বাংলাদেশের নাইটিঙ্গেল
এঞ্জেল মাহরিন,
আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
আর আজীবনের ঋণ।

বাঁচাতে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী
নিজেই হলেন লাশ!
মানবতা ও আত্মত্যাগের
এক অম্লান ইতিহাস।

আপনি বাঁচবেন হৃদয়ে হৃদয়ে,
ভাস্বর চিরদিন,
জান্নাতের পাখি হয়ে থাকুন
এঞ্জেল মাহরিন।
-------

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫

চব্বিশের মুয়াজ্জিন বীর ওয়াসিম

চব্বিশের মুয়াজ্জিন বীর ওয়াসিম

- সাকিব জামাল 


চলে আসুন সবাই ষোলশহরে

গাই গণতন্ত্র ফেরানোর গান,

আমি ওয়াসিম, জান দেব তবু

দেব না বাংলাদেশের মান।


আকাশে বাতাসে রটে গেল সেদিন 

গগনবিদারী এই আহ্বান,

ছাত্র-জনতা নেমে এলো রাজপথে

জেগে ওঠে বাংলাদেশের প্রাণ!


শহীদ হলো বীর ওয়াসিম 

রক্তের দাগ লাগে দেশের বুকে,

ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে-

জনতা, ঘরে ফেরে এবার সুখে!


শৃংখলমুক্ত হলো স্বদেশ আমার, 

পালিয়ে গেল স্বৈরাচার!

চব্বিশের মুয়াজ্জিন বীর ওয়াসিম,

অম্লান হৃদয়ে জনতার।

--------

সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫

ঝালমুড়ি

 ঝালমুড়ি

- সাকিব জামাল


ঝাঁকাও, ঝাঁকিয়ে নাও।

বয়স হয়ে গেলে;

ঝাঁকাতে পারবে না আর।

তখন আকাশে উড়ে বেড়াবে

নীলকন্ঠ নাগরিক পাখি!

পৃথিবীর সমস্ত গণঅভ্যুত্থান

রয়েছে স্বাক্ষী।

রবিবার, ২৫ মে, ২০২৫

রাজনৈতিক সান্ডা

 রাজনৈতিক সান্ডা 

- সাকিব জামাল 

সান্ডার কথা কী আর বলবো ভাই!
গ্রামে এমনই প্রাণী আছে,
যারে গুইসাপ বলে বেড়াই। 
বোকা বোকা ভাব করে
কিন্তু চালাক ভীষণ, 
সুযোগ পেলেই হাস মুরগির ডিম 
খেয়ে ফেলে যখন তখন। 
একদিনের গল্প করি শোনেন,
আমার বয়স কতো আর হবে
সাত, আট, নয় গোনেন!
ঘরে ঢুকে হঠাৎ সান্ডা
ডিম নিল সব খেয়ে,
দাদী এলো লাঠি নিয়ে
পিছে পিছে তার ধেয়ে।
আমিও ওকে মারতে হাতে
লাঠি নিলাম তাড়াতাড়ি,
চালাক সান্ডা পালিয়ে গেল
সাঁতরে খাল পাড়ি।
বড় হয়ে ঠিক এমনই সান্ডা
দেখি রাজনৈতিক ময়দানে
লুটপাট আর চুরি করে 
দেশ ছাড়ে গোপনে।
এদেরকেও যায় না ধরা
যায় না ছোঁয়া
চালাক তারা অতি,
সুযোগ পেলেই 
এ দল ও দল করে
করে জনগণের ক্ষতি। 
রাজনৈতিক এই সান্ডাদের থেকে
দেশটা মুক্ত থাকুক, 
ফাক ফোকর না পেয়ে এরা
আইনের চুলায় জ্বলুক। 
-----

ফিরে এসো মেহেরিমা

 ফিরে এসো মেহেরিমা

- সাকিব জামাল


ফিরে এসো, মেহেরিমা।

এই ভরা পূর্ণিমায়-

ডুবতে চাই জলে;

স্নিগ্ধ গ্রামীণ নদীর মোহনায়!

নিস্তব্ধতা যেখানে কথা কয়

ছলাৎ, ছলাৎ। দূরে দাড়িয়ে

থাকা তালগাছের ডানায়

বাবুইয়ের বাসা ঘিরে

জোনাকিরা করে

নাঁচ উৎসব।

ফিরে এসো, মেহেরিমা

স্নিগ্ধ গ্রামীণ নদীর মোহনায়!

এক পাশে ফসলের বুকে

শুয়ে আছে মেঠোপথ;

নীল জোছনাবিলাসে।

দিক দখিন দাখিল করেছে

মিহি বাতাসের গান,

ধানের ঘ্রাণ।

মাতাল এই প্রাণ,

সভ্যতার ধারাবাহিক ভাবনায়।

ফিরে এসো, মেহেরিমা

স্নিগ্ধ গ্রামীণ নদীর মোহনায়।

আহ্! দ্যাখো, দ্যাখো

রাতের এতোটা গভীরে

জলে জ্বলে চাঁদ;

অচেনা এক রাজহংসী

খুনসুটি করে তার সাথে

অকৃত্রিম মহব্বতে;

তীব্র কামনায়!

ফিরে এসো, মেহেরিমা

স্নিগ্ধ গ্রামীণ নদীর মোহনায়!




ডানা এবং ডিএনএ

ডানা এবং ডিএনএ

- সাকিব জামাল


পূর্বপুরুষদের সোনালি ডানায়

আঘাত দিও না; ডানার ওমে

বেড়ে উঠেছে লাল সূর্য

সবুজের জমিনে।

সময়ের গানে কখনও অনুজ

ছিন্ন করো না প্রেম; বরং থেকো

ধারাবাহিক পজিটিভ,

ডিএনএ মিউটেশনে!

মুহব্বত

 মুহব্বত

- সাকিব জামাল


কলবে কলম আমার,

তোমার মনটা দিও;

লিখবো কবিতা প্রেমের

আসমানে-জমিনে

দু'জনার!

জারী থাকুক মুহব্বত

অনন্তকাল।

বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫

ফিলিস্তিনি শিশু

 ফিলিস্তিনি শিশু

- সাকিব জামাল


কেমন মুসলিম বিশ্ব, 

আমরা কেমন মুসলমান?

ফিলিস্তিনে শহীদ হয় শিশু

আমাদের কাঁদে না প্রাণ!

আমাদের কাঁদে না প্রাণ! 


শিশুদের জন্য, মানবতার জন্য 

মুসলিম ঐক্য বাঁধো,

স্বাধীনতার জন্য লড়ো আর 

খোদার কাছে কাঁদো।

এক হও বিশ্ব মুসলিম 

জুলুমের করো  অবসান! 


জালিম হটিয়ে, খোদা আমার 

বিজয় করো দান,

শান্তি আর নিরাপদে থাকুক 

সব ফিলিস্তিনি সন্তান।

জাগো এবার বিশ্ব বিবেক, 

ধরো মানবতার গান।

না-পাইলাম তারে!

 না-পাইলাম তারে!

- সাকিব জামাল


কতো রূপ, কতো রূপ দেখলাম

আমার এই রূপে।

না-পাইলাম, না-পাইলাম

তারে স্বরূপে!


খানিক দেখি পশু পালে,

খানিক দেখি কীট, পতঙ্গ, পাখি,

স্বরূপে পাইলে গো আমায়

জুড়াইতো দুই আখি রে,

আমার জুড়াইতো দুই আখি।।

কতোকাল আর থাকবো বইসা

বাতি লইয়া অন্ধ কুপে!

না-পাইলাম, না-পাইলাম

তারে স্বরূপে!


মানুষ হইয়া জন্ম লইয়া

মানুষ রূপ না পাইয়া

এই জনমে,

সাকিব জামাল কানতাছে,

সূর্য বুঝি ডুবতাছে

শ্যাষ পশ্চিমে!

লুকাইয়ো না, লুকাইয়ো না

আর অরূপে।।

না-পাইলাম, না-পাইলাম

তারে স্বরূপে!


(গানের কবিতা)


শনিবার, ২২ মার্চ, ২০২৫

সমুদ্রে যাবো

 সমুদ্রে যাবো

- সাকিব জামাল


মনে আমার 

           ইচ্ছে ভীষণ 

সমুদ্রেতে যাবো, 

নীল জলের 

            প্রাণীর সাথে 

খুশিতে হারাবো। 


হাঙ্গর দেখবো 

       ইলিশ দেখবো 

দেখবো নীল তিমি, 

অক্টোপাস আর 

      ডলফিনের সাথে 

করবো দুষ্টুমি।

শান্ত গোসলের দিনে

 শান্ত গোসলের দিনে

- সাকিব জামাল


শান্ত গোসলের দিন আমার। পবিত্র পাথর চোখে 

আকাশে তাঁকাবো না আর। তুমি তখন, 

দেখো, নীল। শঙ্খচিল। কীভাবে এক জনম 

কেটে যায় বাসা বাঁধার ক্লান্ত বাসনায়! 

বরইয়ের ডালে, পাতার বাসর ভেঙে যায় 

বিচ্ছিন্নতাবোধের উষ্ণ জলে, দেখো। 

বাতাসে গোলাপের সৌরভ, নিও। 

ভুলে যেও সমস্ত অভিমান- 

মায়াবী মাটির মায়ায়। এই দীর্ঘতম ঘুম; 

কারও কারও জন্যে- প্রিয়তমা'র ছোঁয়া! 

--------- 

কবিতাটি দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ এ প্রকাশিত।

জোনাকি হতাম যদি

 জোনাকি হতাম যদি

- সাকিব জামাল


এই বসন্তে জোনাকিরা 

   হোগলা বনে নাঁচে, 

কী দারুণ জনম ওদের 

   আনন্দে সদা বাঁচে! 

দখিনা বাতাস সুরে সুরে 

জোনাকির ঘরে আসে, 

নদীর জল করে টলমল 

জোছনায় চাঁদ ভাসে। 

এমন একটা জীবন যদি 

  আমিও পেতাম ভাই, 

হোগলা বনে গড়ে নিতাম 

  আমার সুখের ঠাই।

শনিবার, ৮ মার্চ, ২০২৫

মাহে রামাদানের ডাক

 মাহে রামাদানের ডাক

- সাকিব জামাল


রাতের অন্ধকার ভেঙে ভেঙে 

         সেহেরি বেলায় 

জেগে ওঠো সব মুসলমান। 

মানবতার কল্যাণে 

           ঐক্যবদ্ধ প্রাণে 

গাও সুবহে সাদিকের গান।। 


ধরো, কন্ঠে কন্ঠে সুর, সুমধুর 

           তুমুল উচ্ছাসে 

মুসলিম রেনেসাঁর আহ্বানে। 

আসবেই সফলতা এবার 

       প্রাণের ঐক্যতানে 

সূর্যোদয়ের দীপ্ত অভিযানে।।

ফুটিল ফুল যখন প্রথম

 ফুটিল ফুল যখন প্রথম

- সাকিব জামাল


ছলে; 

ভেসে যাই আমি 

মায়াবী মোহনায়। 

জলে; 

ডুবে যায় 

এক ফালি চাঁদ। 

নীল আকাশ; 

এলোমেলো কাঁপে 

নদীর হাওয়ায়। 

উড়াল পাখি'র 

দুই পা উপরে, 

বেদনায়; 

ডানা ঝাপটায় 

হায়, হায়!

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

সবার আগে বাংলাদেশ

 সবার আগে বাংলাদেশ

- সাকিব জামাল


   মা আমার বাংলাদেশি 

বাবাও এই মাটিরই লোক, 

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ 

  আমার পরিচয় হোক। 


এই দেশের মাটি ও মানুষ 

সুখ আমার, আমার বেদনা! 

"সবার আগে বাংলাদেশ" 

   এটাই আমার চেতনা।

শব-ই-বরাতের প্রার্থনা

 শব-ই-বরাতের প্রার্থনা

- সাকিব জামাল


জেগে জেগে রাত           করো মোনাজাত 

             খোদার দরবারে চাও, 

দুঃখ আছে যত               মুছে দাও তত 

              সকলেরে সুখ দাও। 

মিলেমিশে সবাই         ভ্রাতৃত্বের গান গাই 

               হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে, 

শব-ই-বরাতে               শান্তির বার্তাতে 

               ঐক্য ধরো তুলে। 

সবার ভাগ্য              সুন্দর হোক আরও 

              দুনিয়া ও পরকালে, 

পবিত্র এই রজনী       দিক সার্থকতা আনি 

              সব মুসলিমের ভালে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

স্টকহোম সিনড্রোম

 

স্টকহোম সিনড্রোম

পতিত স্বৈরাচারের          প্রেমে যাদের
              এখনও কাঁদে মন,
স্টকহোম সিনড্রোমে        ভুগছে তারা
             মনস্তাত্ত্বিক কারণ!
এই রোগের লক্ষণ          হুটহাট এমন
               জাগে সহানুভূতি,
খারাপ জেনেও          ভুলতে পারে না
               অতীতেরই স্মৃতি!
সিনেমায় যেমন            চায় মুক্তিপণ
             নায়িকা ধরে এনে,
তারেই দেখা যায়        পেমে পড়ে হায়
            ঐ লোকেরই সনে!
কঠিন এই রোগ     দূর হোক, দূর হোক
          রাজনীতি থেকে সবখানে,
আগামীতে সবাই        দেশ গড়তে চাই
               ভয়মুক্ত এই প্রাণে।

ছিঃ ছিঃ, ছিঃ ফাগুন!

 

ছিঃ ছিঃ, ছিঃ ফাগুন!

প্রজাপতির ডানায় লেগেছে আগুন, 
ছিঃ ছিঃ, ছিঃ ফাগুন!
এমন যন্ত্রণা কেন দাও, ও দখিনা হাওয়া।
এমনকরে বুক কাঁপাও কেন কোকিলের গান?
কেন ফুটলে ফুল, এতটা রঙিন; 
                           ঐ সবুজের ডালে?
আমি তো মরে যাই, 
                  হৃদয়ের কুঞ্জকোণে
কেউ দেয় নাই ঠাই, ভালোবেসে, কোন কালে!
দু' ডানায় দুঃখ আছে জমা। বিরহ বহুগুন;
ছিঃ ছিঃ, ছিঃ ফাগুন!
আমায় পোড়ানো ফাগুন।।

বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

অথচ পেঁচা ডাকে দূরে

 অথচ পেঁচা ডাকে দূরে

- সাকিব জামাল


রাত-বিরাতে, 

মন আমার ছোটে ঘুড়ি উড়াতে, 

ঘুড়ি আকাশ চেনে না। 

ঘুড়ি পাখা মেলে না! 

নাটাই নিয়ে বসে থাকি 

যমুনার পাড়ে; ঢেউ থামে না। 

কেউ দেখে না! 

অথচ পেঁচা ডাকে দূরে...

বড় চোর

 বড় চোর

- সাকিব জামাল


বড় চোরে চুরি করে  

  রাতে নয় দিনে, 

রাষ্ট্র বসে হিসাব কষে 

  মাথাপিছু ঋণে। 


ঋণখেলাপি, ঘুষখোর 

  ওরা দুর্নীতিবাজ। 

লুটপাট করাই হলো 

ওদের নিত্য কাজ! 


আইনের ফাঁক ফোকরে 

  যায় না ধরা চোর, 

সামাজিক বয়কট হোক 

  আসল বিচার ওর!

মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ভাষার স্বাধীনতা

 ভাষার স্বাধীনতা

- সাকিব জামাল


মায়ের ভাষাকে কোনও নিয়মে বেঁধো নাকো। 

মাতৃভাষার প্রেমে, মমতায়, ডুবে সবাই থাকো। 

যার আঞ্চলিকতা থাক তার মুখে, 

ফুটুক কথার ফুল সীমাহীন সুখে, 

শ্রদ্ধার সাথে গাঁথো সকলে, সকল ভাষার সাঁকো।

হে ফেব্রুয়ারি তুমি এসো

 হে ফেব্রুয়ারি তুমি এসো

- সাকিব জামাল


হে ফেব্রুয়ারি, তুমি এসো 

তুমি এসো যখন আমরা নত করি শির, 

ভুলে যাই মাতৃভাষার মায়াময় রূপ; 

গান গাই একুশ বিরুদ্ধ চেতনায়! 

তুমি এসো তখন, 

           কৃষ্ণচুড়ার শাখায় শাখায়। 

মিনারে মলিনতার ছোঁয়া 

যখন বোধ কেড়ে নেয় আমাদের, 

নাঁচি হিপহপ ভিনদেশি জাতীয়তাবোধে 

মন ভুলানো নানা তত্ত্বে-তথ্যে; 

তুমি এসো তখন, 

       বাংলা বসন্তদিনে পাখির কন্ঠে। 

এসো ফুলের সৌরভে, দখিনা বাতাসে 

নদীমাতৃক জলের মধুর মোহনায়। 

এসো অ আ ক খ'র ঐক্যতানে, 

সবার আগে বাংলাদেশে 

প্রতি জনঅন্তরে! এই বাংলায়- 

    একুশ রেখো সঙ্গে। সঙ্গে রেখো আমায়। 

হে ফেব্রুয়ারি, তুমি এসো...

বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৫

এক রুমের বাসা খুঁজছি

 

এক রুমের বাসা খুঁজছি

এক রুমের বাসা খুঁজছি ভীষণ...
আমি আর আমি থাকবো একা!
আমার সাথে কথা কবো
গান গাইবো,
করবো ঘূর্ণিনাচ।
নিজের সাথে নিজের হবে দেখা,
বলবো মন, বাঁচ।
আনন্দে বাঁচ। ভীষণকরে বাঁচ!

দ্য উইন্টার্স ফল

 

দ্য উইন্টার্স ফল

এই শীতে-
একটা চাদর দিলো না কেউ!
উত্তরা হাওয়ায় ঝরে গেল;
উষ্ণতার ফুল।
বন্ধুতা হলো আমার, এরপর;
কেবল দহনকালের সাথে
হারিয়ে যাবার শর্তে-
শিশিরে!

পড়তি সন্ধ্যাকালের কাক

 

পড়তি সন্ধ্যাকালের কাক

পুরো শহরজুড়ে উড়ে বেড়ালাম একলা একা
কেউ ডাকলো না কাছে। কতো কোকিল
বেড়ে উঠলো আমার ওমে; তারাও
ভুলে গেছে অতীতের গান।
কতো কতো ক্লান্ত প্রাণ,
ডাস্টবিনের পাশে অসহ্যবোধে
খাবার খোঁজে। দূষিত জল করে পান।
কথা রাখেনি দখিনা হওয়া!
ভীষণভাবে সৌরভহীন।
আর গৌরবহীন বাস্তুসংস্থান;
ভেসে চলা প্রান্তজনের এই শহরে! আমি?
পড়তি সন্ধ্যাকালের কাক।
ধীরে ধীরে অন্ধকারে হারাই- আজন্ম পাপে!

শুভ জন্মদিন শহীদ জিয়া

 

শুভ জন্মদিন শহীদ জিয়া

শুভ জন্মদিন, শহীদ জিয়া
গ্রহণ করো অভিবাদন,
বিপ্লবে বিস্ময়ে স্বাধীনতার গানে
করছি তোমায় স্মরণ।।

বীরত্বে ভরা তোমার জীবন
মহান একাত্তরে,
সিপাহী-জনতার বিপ্লব সেও
সফল তোমায় ঘিরে।
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ
তুমিই করেছো গঠন।
গ্রহণ করো অভিবাদন।।

ক্ষুধা আর দুর্ভিক্ষে যখন
ক্লান্ত বাংলার মানুষ,
সততার নিরিখে,
            স্বনির্ভরতার স্বপ্নে-
তুমি উড়ালে ফানুস।
সবুজের বুকে সোনালী সূর্য
উঠলো হেসে তখন!
গ্রহণ করো অভিবাদন।।

যতদিন এই বাংলাদেশ আছে,
চিরঅম্লান রইবে তুমি,
বিশ্বের বুকে উন্নত মম শিরে
থাকবে আমার জন্মভূমি।
সেই সংগ্রামে আমাদের,
                সেই স্বপ্নে আমাদের
তুমিই প্রেরণা আজীবন।
গ্রহণ করো অভিবাদন।।
শুভ জন্মদিন, শহীদ জিয়া...

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৫

ফড়িংজনম

 ফড়িংজনম

- সাকিব জামাল


তবুও জাদুবাস্তবতাময় এই টুকরো জনমে 

ক্ষণকালের এক ক্লান্ত ফড়িং আমি! 

কখনও কখনও ডানা ভেঙে যায়, 

তোমার উপেক্ষার মায়াহীন ঝড়ে। 

অথচ শিশির গলে যাওয়া ভোরে- 

তুমি নেচে ওঠো ঘাসফুল, আমায় ভুলে! 

সূর্য, আলোটুকু তোমাকেই দেয়। 

অথৈ অন্ধকার একান্ত আমার হয়ে থাকে।

মবজাস্টিস

 মবজাস্টিস

- সাকিব জামাল


ধুলোবালি চোখে দিয়ে, অনেকেই 

চশমা খুলে রেখে, এখন 

              ক্লিয়ার দেখছি সব! 

বয়ানে বলে যাই জাস্টিস, জাস্টিস 

আসলে জাস্টিস নয়, ওসব 

                  অমানবিক মব! 


কবে পানির ছিটা দেবো চোখে 

জ্বলজ্বল টলমল হয়ে 

              উঠবে সবার দৃষ্টি? 

মবতন্ত্র নয়, আইনের শাসনে 

হবে বিচারসমস্ত। মনজগতে হবে 

                  শুদ্ধতার বৃষ্টি! 

কবে? 

        আচ্ছা! 

                একচুয়ালি কবে? 

দেশটা আমার, মানবিক বাংলাদেশ হবে?

রুখে দাও চাঁদাবাজ

 রুখে দাও চাঁদাবাজ

- সাকিব জামাল


জাগো বাংলাদেশ জাগো 

রুখে দাও চাঁদাবাজ, 

এই দেশেতে হবে না আর 

দুর্বৃত্তদের রাজ। 


যখন যেখানে চাঁদাবাজি 

প্রতিবাদ করো সবে, 

দেশের মানুষ তবেই তো 

সুখে-শান্তিতে রবে। 


এটাই এখন ঈমানের দাবি 

করা যাবে না হেলা, 

ঠেকাতে হবে মানুষ নিয়ে 

ঘৃণিত এই খেলা। 


চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ 

গড়বোই গড়বো এবার, 

দল-মত নির্বিশেষে- 

এসো করি অঙ্গীকার।

কড়াই

 কড়াই

- সাকিব জামাল

প্রেক্ষিত অতীত! আপাত বন্ধু'র মাথায় অতিবেশি তেল দিলে হেয়ার স্টাইল নষ্ট হয়ে যায় তার। হেয়ার স্টাইল নষ্ট হলে স্বভাবতই চেহারা-সুরত হয় পরিবর্তন। সেই চেহারা, সেই সুরত একসময় আয়নায় পরে অলক্ষ্যে। বন্ধু নয় বরং সকল অতীত সামনে এসে দাড়ায় তখন, বর্তমান ভুলিয়ে দেয়। ভবিষ্যত হয় এলোমেলো! 

         এই কৌশলে বুদ্ধিমান শত্রুরা তার ভবিষ্যত রাখে ধরে, অতীতে ঠেলে দেয় আমাদের, ব্যস্ত রাখে ক্ষণিকের মোহে। পরে আবার মিলেমিশে সবাই ভাঙারির দোকান থেকে ফেরত আনে ছুড়ে ফেলা কড়াই। ফের জ্বলন্ত উনুনে ওঠে-নামে কড়াই, ওঠে-নামে সময়। পুরোনো বৃত্তেই ঘুরপাক খাই আমরা, আনন্দে অথবা বেদনায়! 

সামনে আর আগানো হয় না দেশের...

রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫

নূরনয়না

 নূরনয়না

- সাকিব জামাল


নূরনয়না, আমার দিকে তাঁকাও 

আমি জ্বলে যাই, পুড়ে যাই- 

তোমার মহব্বতে। 

ভস্ম হই! ক্লান্তিহীন ফিনিক্স পাখি হয়ে 

ডাকাডাকি করবো আবার 

তাহাজ্জুদকালে। 

পবিত্র নহর বয়ে দিও তুমি, তখন 

মন বিদীর্ণ হোক আমার, পরিশুদ্ধ হোক 

কলব। করে নিও 

একান্ত মুহিব্বি তোমার। 

'কুন ফাইয়াকুন' পূর্ণ একীনে; 

অপেক্ষার দু'চোখে সুরমা লাগাই আজ!

দূরত্ব

 দূরত্ব

- সাকিব জামাল


বহুদিন, বেশ বহুদিন... 

চোখ রাখা হয়নি তোমার চোখে! 

কপালের টিপ আজ 

নেই মাঝ বরাবর ঠিক; একটু একপেশে। 

কথাগুলো নেই সহজ সরল, 

সরল নেই চোখের চাহনি। 

বাসনায় বদলে যাও, আপত্তি নেই! 

তবু প্রেমকে এঁকো না তুমি, 

অনাকাঙ্খিত বক্ররেখায়। 

এই শংকায়, আশংকায়- 

সকল দূরত্ব মানতে রাজি আছি!